Trial Run

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুরের হিলির ছাতনি চারমাথার মারফুযুল উলুম আল ইসলামীয়া নামের মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম এনামুল হক (২৬)। গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হক হাকিমপুর থানার তিতশ্বর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বান্ধবীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় পড়তে যান ওই ছাত্রী। এসময় এনামুল ওই ছাত্রীকে বসতে বলে অন্য ছাত্রীদের বাইরে থেকে একঘন্টা ঘুরে আসতে বলে। তার কথা মতো অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে তাকে একা পেয়ে ওই শিক্ষক যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। এসময় তার চিৎকারে অপর এক ছাত্রী এসে ঘটনাটি দেখে ফেলে। এসময় সে ওই শিক্ষককে মারতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ছেড়ে দিয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাদের দুজনকে শাসিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। পরে বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীটি কান্নাকাটি করলে পরিবারের সদস্যরা কী হয়েছে জানতে চান। পরে তার সঙ্গে থাকা ওই ছাত্রী গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ঘটনাটি জানায়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করেন।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, হিলির ছাতনি চারমাথায় একটি মাদ্রাসায় এক ছাত্রীর সাথে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেনে আটকে রাখে ওই শিক্ষককে। খবর পেয়ে মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করে ও দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। একইসাথে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন, বলাৎকার, ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বাড়ছে বৈ কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকার, ধর্ষণ ইত্যাদি সংবাদ আসে। তারা মনে করেন, এসবের বাইরে এরচেয়েও আরো বড় সংখ্যক নিপীড়ন, ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনা ঘটে যা সংবাদ মাধ্যমে আসে না। অনেকগুলো ভিক্টিমেরা নিজেরা চেপে যায়, কতকগুলো সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের ভয়ে চেপে রাখেন, কতগুলো মীমাংসা হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃক যেসব সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে না। মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে সরকার তথা প্রশাসনের অকার্যকর পদক্ষেপ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রতি নমনীয় ভাবকে দায়ি করেন তারা।  এছাড়া মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট লোকদের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রে রয়েছে আলাদা সহমর্মিতা যার কারণে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখায় না। আর যারাই গ্রেপ্তার হন তারা কিছুদিন পরই মুক্ত হয়ে ফিরে আসেন। খুব আলোচিত ঘটনা না হলে আদালতও উপযুক্ত শাস্তি দিতে আগ্রহবোধ করেন না যেন। এসব কারণেই মাদ্রাসার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন তারা। এবিষয়ে সরকার তথা প্রশাসনের আরো দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানান।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/২০৩৫

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ