Trial Run

ফতুল্লায় মামলা করে বিপাকে রিকশা গ্যারেজের মালিক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ছাত্রলীগ নেতার চাচা ও তার সহযোগীদের মারধরের শিকার হয়ে থানায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন শফি প্রধান নামে এক ব্যক্তি ও তার পরিবার। শফি প্রধান একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক। চাচার বিরুদ্ধে করা মামলা চাপ দিয়ে উঠিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে নিরীহ ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে শফি প্রধান তার স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। এর  আগে ঘটনা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

গ্যারেজ মালিক শফি প্রধান বলেন, ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় আমার একটি রিকশা গ্যারেজ রয়েছে। কিছুদিন আগে গ্যারেজের সামনের রাস্তায় এক চালক রিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহরিয়ার রেজা হিমেলের চাচা মুজিবর ও তার সহযোগীরা গ্যারেজে ঢুকে শফি প্রধানকে মারধর করেন। বাবাকে বাঁচাতে এলে মুজিবরের লোকজন শফি প্রধানের তিন ছেলের গলায় ছুরি ধরে মারধর করে। ওই সময় স্থানীয় সজল নামে এক যুবক তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মুজিবরের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সজলের হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় শফির ছেলে বাদল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ছাত্রলীগ নেতা হিমেলের চাচা মুজিবর ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে চাচার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে ছাত্রলীগ নেতা হিমেল শফি প্রধানকে চাপ দেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় আবারও শফি ও তার ছেলেদের গ্যারেজে গিয়ে মারধর করা হয়। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় শফি প্রধানের বড় ছেলে বাদলের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মারামারির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর কিছুদিন আগে তারা নিজেদের অনুগত এক নারীকে দিয়ে আদালতে একটি গণধর্ষণ মামলার আবেদন করায়। যাতে বাদলের নামও উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছে।

শফি প্রধানের দাবি, মামলা তুলে না নেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে একের পর মামলা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে হুমকি-ধমকি অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহরিয়ার রেজা হিমেল বলেন, ঘটনা আমার চাচার সঙ্গে। আমার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা নেই। তবে শফি প্রধান ঘটনার নিষ্পত্তির জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ শফিকে পেছন থেকে উস্কানি দিচ্ছে যেন মামলা তুলে না নেয় বা ঘটনা মীমাংসা না করে। তাই এক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই।

 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •