
আফগানিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমেরিকার সেনা বিদায় নেবে, এই ঘোষণার পর থেকেই জল্পনা চলছিল অত্যাধুনিক সমর সম্ভার কি এ বার তালিবানের হাতে পড়বে? সেই জল্পনাই এখন সত্যি হওয়ার পথে। মাইন নিরোধক গাড়ি থেকে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার, আমেরিকার ছেড়ে যাওয়া অস্ত্র সম্ভার এখন তালিবানের হাতে।
দু’দশক ধরে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছে আমেরিকার সেনা। প্রত্যক্ষ ভাবে তালিবান মোকাবিলার পাশাপাশি আফগান সেনাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে তারা।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দাবি অনুযায়ী, আফগান সেনাকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞ মহলের মত, সেই অর্থের সিংহ ভাগই খরচ হয়েছে প্রশিক্ষণ এবং সমরাস্ত্র কিনতে। সেই বিপুল অস্ত্রভান্ডার এখন তালিবানের হাতে।
ক’দিন আগেই আমেরিকার দেওয়া এম ৪ কার্বাইন, এম ১৬ রাইফেল হাতে তালিবান যোদ্ধাদের ছবি ছেয়ে গিয়েছিল অনলাইনে। সেগুলো ছিল নিতান্তই ‘স্মল আর্মস’। এ বার আমেরিকার দেওয়া অত্যাধুনিক ‘হামভি’র উপর দাঁড়িয়ে তালিবানি যোদ্ধাদের ছবি প্রকাশ্যে এল।
এই পরিস্থিতিতে তালিবানের হাতে ঠিক কত অস্ত্রশস্ত্র গিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন। সূত্রের খবর, ২০১৩ থেকে ২০১৬-র মধ্যে আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সকে ৬ লক্ষেরও বেশি লাইট ওয়েপন বা বন্দুক-রাইফেল জাতীয় হালকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়েছিল আমেরিকা। ৮০ হাজারের বেশি যুদ্ধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক মাইন নিরোধক গাড়ি পেয়েছিল তারা। এ ছাড়া নাইট ভিশন চশমা, ম্যানপ্যাক দিয়েছিল তারা।
এর পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে ২ বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকা ৭ হাজার মেশিন গান, যে কোনও রাস্তায় চলতে পারে এমন ৪ হাজার ৭০০টি হামভি এবং ২০ হাজারের বেশি গ্রেনেড সরবরাহ করেছে আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সবই এখন তালিবানের হাতে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় টনি ব্লেয়ার
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়কর, বিপজ্জনক এবং অপ্রয়োজনীয়’। তালিবানের হাতে কাবুলের পতনের পর সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে টনি ব্লেয়ার বলেন, ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের’ মতো একটি নির্বোধ স্লোগান তুলে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাসহ সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় জিহাদি গ্রুপগুলো এখন ‘আনন্দ করছে’। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আফগান ভূখণ্ড থেকে নিরাপদে বের করে আনার আগপর্যন্ত দেশটিতে ব্রিটেনের অবস্থানের ‘নৈতিক বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সিদ্ধান্তের প্রতি ইঙ্গিত করে টনি ব্লেয়ার বলেন, আমাদের এটা করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আমরাই গ্রহণ করেছি। ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের’ মতো একটি নির্বোধ রাজনৈতিক স্লোগান তুলে এটা করা হয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় মার্কিনিদের সঙ্গে টেনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বেই আফগান যুদ্ধে যোগ দেয় যুক্তরাজ্য। টনি ব্লেয়ার সেসময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
এসডব্লিউ/এমএন/এসএস/১৫১০
আপনার মতামত জানানঃ