Trial Run

বামপন্থী নেতা মেননের আমলে বিমানে দুর্নীতি!

ছবি: শেয়ারবিজ

বর্ষীয়ান বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেননের আমলে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। মেনন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অধীনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইস্পাতের একটি প্রবেশদ্বার নির্মাণে ব্যয় করা হয় ১ কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি। প্রকল্পের কাজের মান বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রকল্পে মারাত্মক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে এবং জনগণের সম্পদ তছরূপ হয়েছে।

দীর্ঘ তিন বছর পর এই গেট নির্মাণের নানা অনিয়ম ও অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শীর্ষ কর্মকর্তাদের চোখে। মাত্র ৩০ ফুট উঁচু এই গেট নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ১৭৩ টাকা! গেটে ব্যবহৃত এসআই পাইপের প্রতিটি টুকরোর দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকার ওপর! নকশা করতে খরচ হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এই প্রকল্পে দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে এবং তা চেপে রাখাও হয়েছে। প্রবেশদ্বারটির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এখানে এত ব্যয়ের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তিন বছর ধরে তা নিয়ে কোন তদন্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। বিমানের কর্মচারিরা বলছেন, ওই সময়ের সব কর্মকর্তাকে তদন্তের আওতায় আনা দরকার। এমনকি মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটাও খুঁজে দেখা দরকার।

বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেনন বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচিত সভাপতি ও জাতীয় সংসদের একজন সদস্য। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হিসেবে ভোট করেছে মেননের দল। এর সুবাদে এই সময়ের মধ্যে কয়েক দফায় মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ১২ জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ০৩ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মেনন। এই সময়ের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে আলোচিত দরজাটি।

২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিভিল সার্কেলের প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন কোয়ালিটি সার্ভিসের (পিঅ্যান্ডডি কিউএস) প্রবেশপথে এই গেট নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি এই গেট নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, গেট নির্মাণের সঙ্গে অর্থ ব্যয়ের বাস্তব মিল আকাশ-পাতাল। অসাধু ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশে এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি ঘটেছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মাকসুদুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে রাজধানীতে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিমানবন্দরের পিঅ্যান্ডডি কিউএস প্রবেশপথে এই গেট নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করছে বলে জেনেছি।

গত ৪ নভেম্বর, ২০২০ বিষয়টি তদন্তের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ত) মাহমুদ কবীর ও মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলাম। গঠিত এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিমানবন্দরে স্টিলের গেট নির্মাণে ব্যয়ের ব্যাপারে প্রধান যুগ্ম সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, এরই মধ্যে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কর্তৃপক্ষকে এ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তবে মন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতনদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।

ফাআ/আরা/১৫২০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    26
    Shares