Trial Run

দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন, তালেবান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এলো ভারত। এই প্রথম আফগানিস্তানের তালেবানের কোনো গোষ্ঠী এবং নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করল নয়াদিল্লি। এ উদ্যোগ আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছে সংশিষ্ট মহল।। মঙ্গলবার (৮ জুন) এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

এর আগে প্রায় ২০ বছরের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে উভয়পক্ষ। সেখানে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং তালেবানের দোহা মুখপাত্র সোহাইল শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল বিদেশি সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করেন। সেই অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করা বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের কাজ চলছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও-র উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষর করা তালিবান নেতা মোল্লা বরাদরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দিল্লি।

এদিকে সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটির শাসন ক্ষমতায় ফের তালেবানরা ফিরতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে সেখানে পাকিস্তান ও ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। আর তাই আফগানিস্তানে ভারতের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে দীর্ঘদিনের নীতি পরিবর্তন করে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নয়াদিল্লি।

নাম গোপন রাখার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারাই আলোচনা চালাচ্ছেন। তবে তারা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান ও ইরানের মদদ পাওয়া তালিবান নেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে না। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর মদতপুষ্ট হক্কানি বা কোয়েটা সুরার সঙ্গেও কোনও রকম আলোচনায় যেতে নারাজ দিল্লি। তালিবানের যে গোষ্ঠীগুলি ‘জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে পরিচিত, তাদের জন্যই আলোচনার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। যা গত কয়েক মাস ধরেই চলছে। তাতে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।

এতোদিন কোনওভাবেই তালিবানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইতো না ভারত। ৯০-এর দশকে তালিবান শাসনের সময় তাজিকস-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৈরি সংযুক্ত ফ্রন্টের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তালেবানকে যুক্ত না করার যে পূর্ববর্তী অবস্থান ছিল এবং নর্দান জোটে যাবতীয় নজর দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি আমরা।’

নতুন পদক্ষেপ নিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অনেকেই মনে করছে যে, তালেবান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ভালো।’ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি, সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই-সহ দেশটির আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সমান্তরালভাবে তালেবানের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাবে দিল্লি।

প্রশ্ন উঠেছে, কেন আচমকা দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এলো ভারত? গেটওয়ে হাউসের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ফেলো সমীর পাটিলের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। তার ভাষায়, ‘রাজনৈতিক নিষ্পত্তি ছাড়া কয়েক মাস বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানে যুদ্ধ নিশ্চিত। সেই সঙ্গে নিশ্চিত যে কাবুল দখল করবে তালেবান। তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতেই তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত।’

তিনি বলেন, ‘তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে যেভাবে অনিচ্ছা দেখিয়ে এসেছে ভারত, তা থেকে সরে এসে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। একমাত্র এভাবেই দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়বে, তা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা। সেই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরই আল কায়দার পৃষ্ঠপোষক তালেবান গোষ্ঠীকে দমন করতে আফগানিস্তানে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটো।

অভিযানে দেশটির তৎকালীন তালেবান সরকারের পতন হলেও তালেবান গোষ্ঠীকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের এই যুদ্ধে ২ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা এবং এক লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম এই যুদ্ধটির পেছনে দেশটি এ পর্যন্ত ব্যয় করেছে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৯০৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ