Trial Run

অবশেষে ধরা পড়ল এসআই আকবর

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করা রায়হান আহমদ হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ ও বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভুইয়া অবশেষে ধরা পড়েছেন।

সোমবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীরা এসআই আকবরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত থেকে তাকে আটক করা হয়।

তবে, এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ কিছু মানুষই তাকে আটক করেছিলেন।

ভিডিওতে কিছু খাসিয়া ভাষাভাষী ও কিছু বাংলাভাষী মানুষকে দেখা যায় আকবরকে বেঁধে রাখতে। আকবর সেসময় তাদের কাছে ‘তিনি রায়হানকে খুন করেননি’ বলে কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে অনুনয় করতে থাকেন।

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন খাসিয়া যুবক তাকে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রেখে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে আকবর তার উত্তর দেন।

রায়হানের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করে মারিনি, একা মারিনি। রিমান্ড দিছিল পাঁচ ছয় জন, এজন্য মরে গেছে।’

সে কী করেছিলো জিজ্ঞেস করা হলে আকবর বলেন, ‘সে টাকা ছিনতাই করেছিল, আমরা তার জান নেইনি। পাবলিক মারছিল, আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেছি, ওখানে মারা গেছে’।

তার পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘আমারে সাসপেনশন করছে, গ্রেপ্তার করতে পারে। তো বলছে যে দুইমাস পরে ঠান্ডা হয়ে যাবে, ঠান্ডা হয়ে গেলে পরে এটা হ্যান্ডেল করা যাবে’।

পরে আবার বলেন, ‘আমারে এক সিনিয়র অফিসার বলছিল তুমি এখন চলে যাও, দুই মাস পরে আইসো। ততদিনে মোটামুটি এইটা ঠান্ডা হয়ে যাবে’।

ভারতে কোনদিকে কীভাবে পালিয়েছিল জিজ্ঞেস করলে আকবর বলেন, ‘ইন্ডিয়ার একটা পরিবার বলছিলো তুমি এদিকে এসে থাকো এখানে। মাঝেরগাঁও ভোলাগঞ্জ দিয়ে’।

মাঝেরগাঁও ভোলাগঞ্জ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি এলাকা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মামলার তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আকবরকে ভারত সীমান্তের অভ্যন্তরে খাসিয়া পল্লির সাধারণ মানুষরাই আটক করেন।

পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান বলেন, আকবরকে ভারতের অভ্যন্তরের খাসিয়া পল্লির স্থানীয়রা আটক করে পরে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে, কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে তা এখনো জানি না।

বিজিবি’র ১৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাঈদ হোসেন বলেন, আকবরকে ভারত সীমান্তের অভ্যন্তরে খাসিয়ারা আটক করেন। পরে তারা সীমান্ত এলাকার আব্দুর রহিম নামের এক বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করে সীমান্তেই আকবরকে তার হাতে তুলে দেন। আব্দুর রহিমই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আকবরকে পুলিশে হস্তান্তর করে।

তিনি বলেন, এটি সীমান্তের একটু দুর্গম এলাকা। আর বিএসএফ বা আমরা বিষয়টি জানার আগে স্থানীয়রাই হস্তান্তর করে ফেলেছেন।

আকবরকে আটকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares