Trial Run

উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল বিক্রি, ৮ পুলিশকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় ২৪৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে সেখান থেকে ৮৮ বোতল বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের গণবদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার এ আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৬ এপ্রিল) এ বদলির আদেশ মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

আদেশে উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমানকে সোনাতলা, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজানকে সারিয়াকান্দি, কনস্টেবল যথাক্রমে মিজানুর রহমানকে দুপচাঁচিয়া, কিবরিয়াকে সারিয়াকান্দি, অরুপকে বগুড়া সিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ি, মিলন রহমানকে আদমদীঘি থানায়, সজিব রহমানকে গাবতলী থানার বাগবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এবং মোজাফফর আলীকে গাবতলী থানায় বদলি করা হয়। এর আগে সার্কেল অফিসের কনস্টেবল আলাউদ্দিনকে নন্দিগ্রাম থানার কুমিড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়।

উল্লেখ্য, ফেনসিডিল বিক্রির ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুর ইসলাম সিদ্দিকীকে বরিশাল রেঞ্জ অফিসে বদলি, মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান শাহিনকে হেড কোয়ার্টারে এবং মামলার বাদী এসআই সুজাউদ্দৌলাকে বগুড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। এসআই আনিছুর রহমান ও সার্কেল অফিসের কনস্টেবল আলাউদ্দিন নিজেই বদলির আদেশের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রাতে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশি করেন মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। চেকপোস্টে নেতৃত্ব দেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদস্যরা জানান, যানবাহন তল্লাশিকালে ঢাকাগামী বাস খালেক পরিবহন থেকে নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ বোতল এবং পিংকি পরিবহন নামের বাস থেকে সাইফুল ইসলাম নামের একজনকে ১৯৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজাউদ্দৌলা বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন।   পিংকি পরিবহন থেকে উদ্ধারকৃত ১৯৮ বোতল ফেনসিডিলের স্থলে ১১০ বোতল জব্দ দেখিয়ে সাইফুলের নামে মামলা দেওয়া হয়। বাকি ৮৮ বোতল ফেনসিডিল পুলিশের এক কর্মকর্তা সোর্সের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, আইনের রক্ষক হয়ে যখন একজন পুলিশ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, একজন অপরাধীর চেয়ে বেশি শাস্তি দেওয়া উচিত। অথচ আমাদের দেশে সম্পূর্ণই এর বিপরীত। অপরাধ জগতের ডন হয়েও শাস্তি পায় সাময়িক বরখাস্ত ও পুলিশ লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের থাকার কথা থাকলেও পুলিশ নিজেই এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। যাদের রক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের এহেন ভক্ষকের ভূমিকায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে আছে দেশবাসী। এ থেকে উত্তরণের জন্য পুলিশ বাহিনীকেই উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের কড়া নজরদারিও দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৭০৭


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ