Trial Run

নোয়াখালীতে তরুণীকে আবারো রাতভর নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

প্রতিকী ছবি

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী থেকে তুলে নিয়ে তরুণীকে (১৯) ধর্ষণের চেষ্টা ও রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঘটনায় তার সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পী (২৯) কবির হাট উপজেলার নবগ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার দুপুর ২টায় তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সাবেক স্বামীসহ চারজন জনকে আসামি করে ভুক্তভোগী সুধারাম থানায় মামলা করলে গভীর রাতেই কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম থেকে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা শহর মাইজদীর নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন ওই তরুণী। মাইজদী পেট্রল পাম্পের সামনে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সামনে এসে দাঁড়ায়। সেটি গন্তব্যে যেতে রাজি হওয়ায় উঠে পড়েন তরুণী। পরে ওই গাড়িটি একটু সামনে গেলে দু’জন যাত্রী সামনের সিটে ওঠেন। আর একটু সামনে গেলে তার সাবেক স্বামীসহ আরো একজন তার দু’পাশে উঠে বসেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর থেকেই তার ওপর শ্লীলতাহানি শুরু করে বাপ্পী ও তার সহযোগী রহিম (২৪)। চোখ-মুখ চেপে ধরে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামে নিয়ে যায় তাকে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, সিএনজি থেকে নামানোর পর তরুণী বুঝতে পারেন এটি তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পীর বাড়ি। ফাঁকা বাড়িতে সাবেক শ্বশুর-শাশুড়ি কেউ নেই। সিএনজিতে মারতে মারতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। ঘরে ঢুকিয়েও বেদম মারধর করে তার সাবেক স্বামী। রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনে মুখমণ্ডলে ছ্যাঁকা দেয় ও অপর দু’জনসহ ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু নির্যাতন সহ্য করে ধর্ষণ থেকে রক্ষা পান ওই তরুণী। ভোরের দিকে অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে। এ সুযোগে পালিয়ে মাইজদী চাচার বাসায় এসে আশ্রয় নেন তিনি।

পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে চাচার সহায়তায় মামলা দেন থানায়।

স্বজনরা জানান, ছোট বেলায় বাবাকে হারান ওই তরুণী। নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মাও। অভিভাবক শূন্য হয়ে নানির কাছেই বড় হন তিনি। নবগ্রামে নানির কাছে থাকা অবস্থায় বখাটে ইসমাইল হোসেন বাপ্পীর নজরে পড়েন তিনি। বাপ্পী অনেকটা জোরপূর্বক অপ্রাপ্ত বয়সে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। কিন্তু বিয়ে করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। প্রায় সময়ই ছুতোনাতা নিয়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে। মারধর করতেন শাশুড়ি, ননদ ও দেবর। গত দু’মাস আগে তাদের ডিভোর্স হয়।

সুধারাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেন জানান, সাবেক স্ত্রীর মামলায় অভিযুক্ত বাপ্পীকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

সূত্র : দেশ রুপান্তর

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •