Trial Run

কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী এখনো আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কিভাবে সংস্কার করা যায় এনিয়ে চলছে জোর জল্পনা কল্পনা। এসবের মাঝেও প্রতিদিনকার নিয়মিত সংবাদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিশু ধর্ষণের সংবাদ এসেছে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আট বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিল্লাল হোসেন নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার বিল্লাল হোসেন খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার চেংগুছড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের শুভপুর ওয়াছাকিয়া কুরআনিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সরকারি নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কা না করে সোমবার লকডাউনেও খোলা ছিল মাদ্রাসাটি। এদিন বিকেলে ছুটি শেষে মাদ্রাসাশিক্ষক বিল্লাল হোসেন সব শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া আট বছরের শিশুটিকে কাজ আছে বলে থাকতে বলেন। পরে মাদ্রাসা ফাঁকা হয়ে যাবার পর বিল্লাল ওই শিশু শিক্ষার্থীটিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শিশুটি বাসায় চলে যেতে বলেন। একথা কাউকে বললে তাকে মারধর করবেন বলেও হুমকি দেন।

নির্যাতনের ফলে রক্তক্ষরণে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মা বিষয়টি টের পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনাটি প্রকাশ করে। পরে শিশুটির মা-বাবা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

নাঙলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, মাদ্রাসাটি সরকারি নির্দেশনা না মেনে চালু ছিল। খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ওই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে একমাত্র আসামি করে শিশুটির বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুল বলেন, মাদ্রাসাটি খোলা থাকার বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। খবর পেয়ে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশকে এ ব্যাপারে লিখিত একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, কেশবপুরে  ছেলে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ ইমরান হোসেন নামে এক মসজিদের ইমামকে আটক করেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মসজিদের বারান্দায় আরবি পড়ানো শেষে ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ওই ইমামকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া শিশুর জবানবন্দী নেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার মধ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার খোরশেদ আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (২৪) প্রায় ৪ বছর ইমামতি করেন ও শিশুদের আরবি পড়ান। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মসজিদের বারান্দায় আরবি পড়ানো শেষে অন্যদের ছুটি দিয়ে ওই শিশুকে (৬) থাকতে বলেন। পরে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালান। শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনা জানালে এলাকাবাসী ইমামকে আটক করে সোমবার রাতে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনা উল্লেখ করে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই ইমামের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, আটক ইমাম ইমরান হোসেনকে মঙ্গলবার সকালে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরদিকে শিশুটির জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকে মনে করেন এরা আদব কায়দা শিক্ষা দেন। নৈতিকতা শিক্ষা দেন। সে কারণে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে হোক বা নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পড়াতে দেন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, যে নিরাপত্তার কথা ভেবে মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েদের পড়াতে দেয়া হয় সেখানে আদৌ নিরাপদ নয়। দেখা যায় ছেলেরাও নিরাপদ নয় এসব তথাকথিত হুজুরদের কাছে। এটিও সমাজের বৈকল্যতা।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এহেন ঘটনা একদিকে যেমন মেনে নেওয়া যায় না অন্যদিকে লোকসমাজেও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্রদের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরী হচ্ছে। তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও যদি সন্তান নিরাপদ না থাকে তবে অভিভাবকের মনে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিষয়ে আতঙ্ক তৈরি হবে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৭০০


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    47
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ