Trial Run

আ’লীগ নেতার চাঁদাবাজি, অবশেষে দল থেকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালেহ আহমদ সেলিমের বিরুদ্ধে এক এনজিওর নিকট ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি নামের একটি সংগঠন স্থানীয় পর্যায়ে মেলার আয়োজন করতে গেলে তিনি এ চাঁদা দাবি করেন। আয়োজকরা চাঁদা না দেওয়ায় মেলাও বন্ধ করে দেন তিনি। এই অভিযোগে মেলার উদ্যোক্তা অনিতা দাসগুপ্তা একটি মামলা করলে চাঁদা দাবি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালেহ আহমদ সেলিমকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১০ মার্চ) মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা মির্জাজাঙ্গালস্থ হোটেল নির্ভানা ইনের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের পরিচালনায় উক্ত সভায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ছালেহ আহমদ সেলিম সিলেট সিটি করপোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। গত ৮ জানুয়ারি অনুমোদন হওয়া সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন বিতর্ক জড়িয়ে পড়েন সেলিম। দলীয় পদ পাওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বহিষ্কার হলেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি জানান, দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ছালেহ আহমদ সেলিমকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না—জানতে চেয়ে ৭ দিনের মধ্যে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কাউন্সিলর সেলিমের ওপর আনীত অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ ভট্টাচার্য্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটির বাকি দুইজন সদস্য হলেন অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন ও জাহিদ সারোয়ার সবুজ।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছালেহ আহমদ সেলিমকে সাময়িক বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইনজীবী প্রদীপ ভট্টাচার্যকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নগরের শাহজালাল উপ-শহরের ই-ব্লকের মাঠে বাণিজ্য মেলার অনুমতি চায় তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি নামে একটি এনজিও। এতে তারা প্রশাসনের অনুমতিও পায়। পরবর্তীতে বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেয়ার নাম করে তাদের কাছে ২০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমের অনুসারীরা।

মেলার আয়োজকদের অভিযোগ, মেলা আয়োজনের জন্য চাঁদা দাবি করেছিলেন কাউন্সিলর সেলিম। চাঁদা না দেয়ায় তিনি অবৈধভাবে মেলা বন্ধ করে দেন।

এমন অভিযোগ এনে গত ৬ মার্চ সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মেলার উদ্যোক্তা অনিতা দাস গুপ্তা। বিষয়টি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নজরে আসলে তারা মহানগর আওয়ামী লীগকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছালেহ আহমদ সেলিমকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ছালেহ আহমদ সেলিম জানান, ‘ওই মাঠে স্থানীয় কিশোর-যুবকরা প্রতিবছর স্বাধীনতা কাপ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারও তারা টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। ১০ মার্চ এটি উদ্বোধন করা হবে। তাই এই মাঠে মেলার আয়োজন করা একেবারেই সম্ভব নয়। খেলার মাঠে তো খেলা হওয়াই স্বাভাবিক। এ কারণে মেলা বন্ধ করতে বলেছিলাম।’

কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ছালেহ আহমদ সেলিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ উপশহর এলাকায় তীরজুয়া, ইয়াবা ব্যবসা ও আবাসিক হোটেলে নারী ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় নেতারা চাঁদাবাজিসহ বহু অপকর্মই করে থাকেন, যার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা অভিযোগ করতেও ভয় পান। স্থানীয় পদপ্রাপ্ত প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে থানা প্রশাসনও এক প্রকার নমনীয় থাকেন। সেটা হোক ভয় অথবা কোনো বিনিময় মাধ্যমে। খুব ঠেকায় না পড়লে স্থানীয় প্রশাসন মামলা নেন না। ফলে স্থানীয় নেতারাও লিপ্ত থাকেন লাগাম ছাড়া অপরাধকর্মে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মসহ স্থানীয় নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্ষমতা বলে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান বলে তারা স্থানীয় পর্যায়ে নানা অপকর্মে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চললে এমনটি হবার ঘটনা অনেকটাই নেমে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এবিষয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকা পালনের দাবি জানান তারা।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৩০৩ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ