ভারতের স্বাধীনতা দিবস এলেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসে ইতিহাসের পুরোনো কিছু প্রশ্ন। কে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, কারা ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয় ছিল, কারা দূরে ছিল—এসব প্রশ্ন শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। বরং বর্তমান ভারতের রাজনীতিতেও এসব প্রশ্নের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস এবং বিজেপিকে ঘিরে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত।
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু সেই সময় বিজেপি নামে কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিল না। বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে। এর রাজনৈতিক পূর্বসূরি ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫১ সালে, অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতার চার বছর পর। ফলে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজেপি রাজনৈতিক দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল—এমন দাবি ঐতিহাসিক সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে বিজেপির আদর্শিক পরিসরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীনতার অনেক আগেই। ১৯২৫ সালে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের নেতৃত্বে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা হয়। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএসের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল একক কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির আন্দোলন নয়। ব্রিটিশবিরোধী এই দীর্ঘ সংগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিপ্লবী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সময়ে অংশ নিয়েছেন। তবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিল। উনিশ শতকের শেষভাগে প্রতিষ্ঠিত কংগ্রেস প্রথম দিকে ব্রিটিশ শাসনের কাঠামোর ভেতরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি তুললেও সময়ের সঙ্গে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে স্বদেশি আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। বিদেশি পণ্য বর্জন, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি ব্যাপক সামাজিক প্রভাব তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং সর্বশেষ ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের শক্তিকে আরও বিস্তৃত করে।
গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস অহিংস অসহযোগকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ১৯২০ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ে। লবণ সত্যাগ্রহ সেই আন্দোলনের একটি প্রতীকী অধ্যায় হয়ে ওঠে। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় ‘করো অথবা মরো’ আহ্বান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে আরও তীব্র করে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দুর্বলতা এবং ভারতের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা আসে।
এই ইতিহাসের মধ্যে আরএসএসের অবস্থান নিয়ে বিতর্কটি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে এবং স্বাধীনতার আগে ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। তবে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন প্রধান ব্রিটিশবিরোধী গণআন্দোলনগুলোর সঙ্গে আরএসএসের সাংগঠনিক অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে।
বিশেষ করে ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলন এবং ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ক্ষেত্রে আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, কংগ্রেস ও অন্যান্য স্বাধীনতাকামী শক্তি যখন ব্রিটিশবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ছিল, তখন আরএসএস সংগঠন হিসেবে সেই আন্দোলনের অংশ হয়নি। বরং সংগঠনটি মূলত হিন্দু সমাজের সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।
তবে বিষয়টিকে আরএসএস সমর্থকেরা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তি বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। সংগঠনের সমর্থকেরা আরও মনে করেন, স্বাধীনতার সংগ্রামকে শুধু কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। তাদের মতে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা ছিল।
এই বিতর্কে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের নামও বারবার সামনে আসে। হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাভারকারের অবস্থান ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। ব্রিটিশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তার লেখা ক্ষমাপ্রার্থনামূলক আবেদন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকেরা এসব আবেদনকে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আপসের প্রমাণ হিসেবে দেখান। অন্যদিকে সাভারকারের সমর্থকেরা তার জীবনের অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিপ্লবী ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে তার মূল্যায়নও ভারতের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভাজনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
জাতীয় পতাকা নিয়েও আরএসএসের ঐতিহাসিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার আগে আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ তেরঙা পতাকা নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান প্রকাশিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন গবেষণা ও লেখায় উল্লেখ করা হয়। সেখানে গেরুয়া পতাকার প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। পরবর্তীকালে ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেবে তেরঙা প্রতিষ্ঠিত হলেও এই পুরোনো অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি।
স্বাধীনতার পর আরএসএসকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি হলো মহাত্মা গান্ধী হত্যা। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসের গুলিতে গান্ধী নিহত হন। গডসের সঙ্গে আরএসএসের অতীত সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক চলে আসছে। গান্ধী হত্যার পর তৎকালীন ভারত সরকার আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ১৯৪৯ সালের জুলাইয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এই অধ্যায় আরএসএসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অংশ হয়ে রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আরএসএসের ওপর আবারও বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটি ধীরে ধীরে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। বিজেপির সঙ্গে এর সম্পর্ক এই প্রভাবকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। বিজেপি সরাসরি আরএসএসের রাজনৈতিক শাখা নয়, কিন্তু সংগঠন দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের আদর্শিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। বিজেপির বহু নেতা-কর্মীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু বা বিকাশের সঙ্গে আরএসএসের যোগসূত্র রয়েছে।
বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবনেও আরএসএসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণ বয়সে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপির রাজনীতিতে উঠে আসেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের রাষ্ট্রনীতি, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, কাশ্মীর, নাগরিকত্ব আইনসহ নানা বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা এসব নীতিকে ভারতের বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের জন্য উদ্বেগজনক বলে সমালোচনা করেছে। বিজেপি অবশ্য এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা, সাংবিধানিক পরিবর্তন ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করে।
এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন করে রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছিল কেন্দ্রীয়। বিপরীতে বিজেপি ও আরএসএসের সমর্থকেরা মনে করেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্যান্য জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক ধারার অবদানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্য এই পুরোনো বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানিতে এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিজেপি ও আরএসএসের কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় বিজেপি বা আরএসএসের প্রকৃত সদস্যরা কতজন কারাগারে গিয়েছিলেন। তার বক্তব্যে স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের নেতৃত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
খাড়গের বক্তব্য অবশ্য নিছক ঐতিহাসিক মন্তব্য নয়; এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেস ও বিজেপি পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। বিজেপি যেমন কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকাল ও বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে, তেমনি কংগ্রেসও বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও আরএসএসের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের ব্যাখ্যাও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইতিহাসকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। ১৯৪৭ সালে বিজেপি ছিল না—এটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য। কিন্তু সেই কারণে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কিত আদর্শিক ধারার ইতিহাসও ১৯৮০ থেকে শুরু হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। কারণ আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে এবং হিন্দুত্ববাদী চিন্তার বিকাশ তারও আগে থেকে ভারতীয় রাজনৈতিক পরিসরে ছিল। আবার আরএসএসের অস্তিত্ব ছিল বলেই সংগঠনটি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা আন্দোলনে একই মাত্রায় অংশ নিয়েছিল—এমন দাবিও ইতিহাসের সঙ্গে মেলে না।
অর্থাৎ বিতর্কের কেন্দ্রটি আসলে ‘কে স্বাধীনতা এনেছিল’—এই সরল প্রশ্নের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ভারতের স্বাধীনতা ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণআন্দোলনের ফল। কংগ্রেস সেই সংগ্রামের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক শক্তি ছিল—এ বিষয়ে বিস্তৃত ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিপ্লবী, সমাজসংস্কারক, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকাও স্বাধীনতার ইতিহাসের অংশ।
আরএসএসের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় সংগঠনটি কী ধরনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছিল এবং কেন মূলধারার ব্রিটিশবিরোধী গণআন্দোলন থেকে তারা দূরে ছিল। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সংগঠনের নিজস্ব নথি, সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী ঐতিহাসিক গবেষণা—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ভারতের স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরও এই বিতর্কের অবসান হয়নি। বরং বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে ইতিহাসের পুরোনো অধ্যায়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসছে। স্বাধীনতা দিবস তাই শুধু পতাকা উত্তোলন ও আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়; এটি ইতিহাসকে কীভাবে স্মরণ করা হবে, কার অবদান কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে অতীতকে কতটা নিরপেক্ষভাবে দেখা যাবে—সেই প্রশ্নও সামনে আনে।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের মূল্য রাজনৈতিক স্লোগানে নয়, বরং তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অতীতকে বোঝার সক্ষমতায়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যতটা কংগ্রেসের, ততটাই বহু অখ্যাত মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস। আরএসএসের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, বিজেপির স্বাধীনতা-পূর্ব অস্তিত্ব না থাকাও ঐতিহাসিকভাবে স্পষ্ট। কিন্তু এই দুই সত্যকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সুবিধামতো সরলীকরণ না করে তাদের নিজ নিজ সময়, ভূমিকা ও প্রেক্ষাপটে বিচার করাই ইতিহাসের প্রতি সবচেয়ে ন্যায্য আচরণ।
আপনার মতামত জানানঃ