চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন শক্তির টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোন দিকে যাবে, এমন প্রশ্ন গত কয়েক বছরে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য আসল প্রশ্ন সম্ভবত ‘কার দিকে ঝুঁকবে’ নয়; বরং কোন দেশের সঙ্গে কোন স্বার্থে কতটা ঘনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন। কারণ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো রাষ্ট্রের পক্ষেই একটি দেশের ওপর সব ধরনের নির্ভরতা তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকা সহজ নয়। নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিক্ষা, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলাদা অংশীদার বেছে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে।
এই বাস্তবতা সামনে রেখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আবেগের চেয়ে প্রয়োজন, আর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার চেয়ে পরিমাপযোগ্য স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত। এই উত্তরণ দেশের জন্য একটি বড় অর্জন হলেও এর সঙ্গে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা, বিশেষ বাজারসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে সামনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে রপ্তানি বাজারকে বহুমুখী করা এবং একই সঙ্গে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সক্ষমতা বাড়ানো।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতকে পাশ কাটিয়ে কোনো বাস্তবসম্মত আঞ্চলিক কৌশল তৈরি করা কঠিন। ভৌগোলিক অবস্থানই এর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের স্থলসীমান্তের প্রায় পুরোটাই ভারতের সঙ্গে। অভিন্ন নদী, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, নৌপথ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ—সব ক্ষেত্রেই ভারতের গুরুত্ব রয়েছে। এমনকি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভারতের ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই একমুখী নির্ভরতা নয়। বরং সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে দুই দেশের মধ্যে বাস্তব সুফল কতটা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর। অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ, বাণিজ্যিক বাধা কমানো, রেল ও নৌযোগাযোগ বাড়ানো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং চিকিৎসা ও শিক্ষার ভিসা সহজীকরণ—এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ছবি বা যৌথ বিবৃতির চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে সম্পর্কের ফল কতটা পৌঁছাল, সেটিই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড।
ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য চীনও গুরুত্বপূর্ণ। চীন বাংলাদেশের বড় আমদানি উৎস, অবকাঠামো অংশীদার এবং শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। কিন্তু চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বড় দুর্বলতা হলো বাণিজ্য ভারসাম্য। তাই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কেন্দ্র হওয়া উচিত শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং বাংলাদেশি পণ্যের চীনা বাজারে প্রবেশ, উৎপাদন স্থানান্তর, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ।
চীনের সঙ্গে ঋণনির্ভর প্রকল্পের পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে সম্পর্কটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শুধু প্রকল্প নির্মাণ বা পণ্য বিক্রির পরিবর্তে উৎপাদন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জ্ঞান ও পুঁজিও দুই দেশের সম্পর্কের বড় সম্পদ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক চাপ, নির্বাচন, মানবাধিকার বা নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সম্ভাবনার বড় অংশই অনাবিষ্কৃত থেকে যাবে। বাংলাদেশের উচিত বাজার প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি বিনিয়োগ, পোশাকশিল্পের উন্নত সরবরাহব্যবস্থা, ওষুধশিল্প, বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া।
এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মধ্যেও কৌশলগত অবিশ্বাস রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এক দেশের সঙ্গে যে ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে, অন্য দেশ সেটিকে কীভাবে দেখছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু এর সমাধান কোনো গোপন ভারসাম্যনীতি নয়। বরং প্রয়োজন স্বচ্ছতা।
বাংলাদেশের কোনো বড় অবকাঠামো, বন্দর, প্রতিরক্ষা বা কৌশলগত প্রকল্প যদি বিদেশি অংশীদারের সঙ্গে করা হয়, তাহলে প্রকল্পটি কেন নেওয়া হচ্ছে, তার অর্থনৈতিক মূল্য কত, ঋণের ঝুঁকি কতটা এবং শর্তগুলো কী—এসব বিষয় যত বেশি স্বচ্ছ হবে, ততই ভুল বোঝাবুঝি কমবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সংসদীয় পর্যালোচনা, উন্মুক্ত দরপত্র এবং স্বাধীন ঋণঝুঁকি মূল্যায়নও বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে।
তবে বাংলাদেশের কূটনীতিকে শুধু চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিভুজে আটকে রাখলে চলবে না। জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার। অবকাঠামো, পরিবহন, শিক্ষা ও উন্নয়ন অর্থায়নের বাইরে এখন শিল্পপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। তবে এর জন্য ভাষা শিক্ষা, পেশাগত সনদ, দক্ষতা যাচাই ও কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, ব্যাটারি, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে যৌথ প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু বাংলাদেশের বাজারে পণ্য বিক্রির জন্য নয়, বরং বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশ ইউরোপের বাজারনির্ভর, বিশেষ করে তৈরি পোশাক। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর এই সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। শুধু পোশাকের বাজার ধরে রাখার চেষ্টা যথেষ্ট হবে না। শ্রম অধিকার, পরিবেশগত মান, কার্বন নির্গমন, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে জ্ঞান ও প্রযুক্তি। প্রকৌশল, সবুজ শিল্প, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পোশাকনির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে বের করে আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বৈধ চলাচল সহজ করা গেলে দুই অঞ্চলের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও কুয়েত বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু শ্রমিক পাঠানো এবং জ্বালানি আমদানির সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট নয়। এসব দেশের অর্থনীতি এখন পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, খাদ্যনিরাপত্তা, নির্মাণ ও আর্থিক সেবার দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার। বেশি কর্মী পাঠানোকে সাফল্যের একমাত্র সূচক হিসেবে দেখলে চলবে না। নিয়োগ ব্যয়, ঋণের বোঝা, ন্যূনতম মজুরি, ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং চাকরি পরিবর্তনের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু শ্রমবাজার বা প্রবাসী কর্মসংস্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, প্রযুক্তি, বন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ইলেকট্রনিকস ও সরবরাহব্যবস্থায় বিস্তৃত করা যেতে পারে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের রপ্তানিমুখী শিল্পনীতি এবং সিঙ্গাপুরের বন্দর ও নগর ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়।
আসিয়ান অঞ্চলের একটি বড় শিক্ষা হলো—রাজনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য এখনো তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে আসিয়ান অঞ্চলে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের মাত্রা অনেক বেশি। বাংলাদেশকে তাই পূর্বমুখী অর্থনৈতিক কৌশল আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট অবশ্যই এই উদ্যোগকে জটিল করে তুলবে, কিন্তু একটি দেশের সঙ্গে সমস্যার কারণে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করা বাংলাদেশের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে মূল প্রশ্ন ‘কোন দেশের বন্ধু হব’—এটি নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কোন দেশের সঙ্গে কোন খাতে কী ধরনের অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল তৈরি করবে। চীনের সঙ্গে শিল্প ও অবকাঠামো, ভারতের সঙ্গে পানি ও যোগাযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাজার ও প্রযুক্তি, জাপানের সঙ্গে মানসম্মত উন্নয়ন, ইউরোপের সঙ্গে সবুজ ও টেকসই রপ্তানি, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দক্ষ শ্রম ও বিনিয়োগ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে উৎপাদন ও আঞ্চলিক সংযোগ—এমন একটি বিষয়ভিত্তিক কূটনীতি বাংলাদেশের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।
একই সঙ্গে জ্বালানি, ঋণ, আমদানি, রপ্তানি, শ্রমবাজার কিংবা প্রতিরক্ষা—কোনো ক্ষেত্রেই একটি দেশকে একমাত্র বিকল্প বানানো উচিত নয়। একাধিক অংশীদার থাকলে বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে এবং কোনো একটি দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে পুরো অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়বে না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ তাই হয়তো ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’—এই প্রচলিত বাক্যের চেয়েও নির্দিষ্ট হতে হবে। ভূগোলের কারণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাস্তববাদী সহযোগিতা, অর্থনীতিতে বহুমুখী অংশীদারত্ব, প্রযুক্তিতে উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগ এবং কূটনীতিতে স্বচ্ছতা—এই চার ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে নতুন কৌশল।
শেষ পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গভীর, তা নির্ধারণ করবে না সফরের সংখ্যা, যৌথ বিবৃতি কিংবা কূটনৈতিক ছবি। বরং প্রশ্ন হবে—কত নতুন বাজার খুলেছে, কত দক্ষ কর্মী মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পেয়েছে, কত নতুন প্রযুক্তি এসেছে, কত গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে, কত শিক্ষার্থী সহজে বিদেশে যেতে পারছে এবং বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকের জন্য সেই সম্পর্ক কতটা বাস্তব সুবিধা তৈরি করেছে। ভূরাজনীতির প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে কারও শিবিরে পুরোপুরি না গিয়ে নিজের স্বার্থকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা। কারণ শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় আনুগত্য নয়, বরং নিজের সক্ষমতা ও দর-কষাকষির শক্তি বাড়ানো।
আপনার মতামত জানানঃ