লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব বিস্তারের কৌশল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। একসময় এই উদ্বেগের কেন্দ্রে ছিল বন্দর, বাঁধ, রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা বড় অবকাঠামো প্রকল্প। চীনের বিপুল অর্থায়নে নির্মিত এসব প্রকল্পকে দেখা হতো বেইজিংয়ের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের দৃশ্যমান হাতিয়ার হিসেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু বড় প্রকল্প নয়, বরং ছোট শহর, প্রাদেশিক প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, বিদ্যুৎ সরবরাহ, প্রযুক্তি ও স্থানীয় ব্যবসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অঞ্চলটির ভেতরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে দেশটি।
এই পরিবর্তিত কৌশল বাইরে থেকে খুব সহজে চোখে পড়ে না। কোনো একটি শহরে নজরদারি ক্যামেরা বসানো, কোনো প্রদেশে খনি প্রকল্পে বিনিয়োগ, পুলিশকে সরঞ্জাম দেওয়া কিংবা একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিনে নেওয়া—প্রতিটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে এগুলো সাধারণ বাণিজ্যিক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু এসব উদ্যোগ যখন একের পর এক বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই ধরনের প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করে, তখন তৈরি হয় একটি দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার কাঠামো।
লাতিন আমেরিকায় চীনের আগের কৌশল ছিল অনেক বেশি দৃশ্যমান। ২০১০-এর দশকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বন্দর, বাঁধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় পরিবহন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ঢেলেছিল বেইজিং। এর মাধ্যমে চীন যেমন নিজের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতে চেয়েছে, তেমনি খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাইওয়ান ইস্যুতেও এই অর্থনৈতিক সম্পর্ক কূটনৈতিক সমর্থনে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল।
কিন্তু বড় প্রকল্পের সঙ্গে বড় ঝুঁকিও রয়েছে। এসব প্রকল্পে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, বাস্তবায়নে সময় লাগে এবং স্থানীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। চীনের অর্থনীতিতেও গত এক দশকে নানা চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে পশ্চিম গোলার্ধে প্রভাব বিস্তারের জন্য আগের মতো শুধু বিশাল প্রকল্পের ওপর নির্ভর না করে বেইজিং তুলনামূলক ছোট ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছে।
এই কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রবেশ। জাতীয় সরকারের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তির পরিবর্তে কোনো শহর, প্রদেশ বা নির্দিষ্ট খাতকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন প্রদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর লিথিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ তার একটি উদাহরণ। একইভাবে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন শহরে চীনা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।
নিরাপত্তা খাতেও চীনের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। অনেক লাতিন আমেরিকান দেশের কাছে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে এসব দেশের স্থানীয় সরকার দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য তুলনামূলক কম দামের প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছে। চীন এই চাহিদার সুযোগ নিচ্ছে। শুরুতে কাঁদানে গ্যাস, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য সাধারণ সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হলেও পরে সেই সম্পর্ক বিস্তৃত হচ্ছে নজরদারি ক্যামেরা, সার্ভার, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে।
নজরদারি প্রযুক্তির বাজারে চীনের অবস্থান বিশেষভাবে শক্তিশালী। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে কয়েক বছর আগেই দেশটির নজরদারি প্রযুক্তি আমদানির বড় অংশ চীন থেকে আসছিল। লাতিন আমেরিকার বহু শহরে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যামেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি শুধু ক্যামেরায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; পুলিশের তথ্য ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং অপরাধ বিশ্লেষণের মতো ক্ষেত্রেও চীনা প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রশিক্ষণ। চীন শুধু সরঞ্জাম বিক্রি করছে না, বিভিন্ন দেশের পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কিউবা ও পানামার কর্মকর্তারা চীনে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিকারাগুয়ার সঙ্গেও পুলিশ প্রশিক্ষণ নিয়ে চীনের নতুন চুক্তি হয়েছে। এর ফলে একটি সরঞ্জাম কেনার সম্পর্ক ধীরে ধীরে মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্পর্কেও পরিণত হচ্ছে।
চীনের এই মডেলের একটি বড় সুবিধা হলো—এটি খুব কম রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্য দিয়ে এগোয়। বড় বন্দর বা বিশাল বাঁধ নির্মাণ হলে জাতীয় পর্যায়ে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর পড়ে। কিন্তু কোনো শহরের পুলিশকে ক্যামেরা দেওয়া বা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য সফটওয়্যার সরবরাহের মতো উদ্যোগ সাধারণত তেমন আলোচনার জন্ম দেয় না। ফলে ছোট ছোট চুক্তি একসময় বড় প্রভাব তৈরি করলেও তা অনেক দেরিতে দৃশ্যমান হয়।
চীনের অর্থনৈতিক কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। লাতিন আমেরিকায় সরকারি ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। অথচ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ঋণের বদলে বেসরকারি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে। কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র, খনি বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি কিনে নেওয়া হচ্ছে। এতে চীনা রাষ্ট্রের সরাসরি আর্থিক দায় কমছে, কিন্তু কৌশলগত সম্পদের ওপর চীনা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে।
এই পরিবর্তনের আরেকটি কারণ চীনা উৎপাদনকারীদের সক্ষমতা। নিজ দেশে ব্যাপক উৎপাদন ও সরকারি সহায়তার কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের তুলনায় কম দামে পণ্য দিতে পারে। স্থানীয় সরকারগুলোর কাছে তাই চীনা পণ্য স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। একটি ক্যামেরা, বাস, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা হয়তো এককভাবে খুব বড় কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু একই ধরনের হাজার হাজার পণ্য যখন একটি অঞ্চলের অবকাঠামোয় ঢুকে পড়ে, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়।
সমস্যাটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয় যখন এসব প্রযুক্তি কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যবস্থার অংশ হয়ে যায়। একটি সাধারণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সহজে অন্য দেশ থেকে কেনা সম্ভব। কিন্তু কোনো শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যদি নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্যামেরা, সার্ভার, সফটওয়্যার ও ডেটা ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন পুরো ব্যবস্থা বদলে ফেলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে ওঠে। নতুন প্রযুক্তি বসাতে প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। ফলে একবার চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা তৈরি হলে তা সহজে শেষ করা যায় না।
এখানেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি করতে পারে। কোনো দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খারাপ হলে তাত্ত্বিকভাবে সফটওয়্যার আপডেট, যন্ত্রাংশ বা প্রযুক্তিগত সহায়তার মতো বিষয়গুলো চাপ প্রয়োগের উপায় হয়ে উঠতে পারে। সরাসরি রাজনৈতিক হুমকি ছাড়াই একটি দেশকে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি হয়। অবশ্য বাস্তবে কোনো দেশ কতটা নির্ভরশীল হবে, তা নির্ভর করে তার বিকল্প সরবরাহকারী, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
তবে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য বিষয়টি একেবারে একতরফা নয়। অনেক দেশের বাস্তব সমস্যা রয়েছে—অপরাধ, দুর্বল অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সংকট, গণপরিবহনের ঘাটতি কিংবা বিনিয়োগের অভাব। যখন চীন দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে এসব সমস্যার সমাধান দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তখন স্থানীয় সরকারগুলোর কাছে তা গ্রহণ করা স্বাভাবিক। পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কঠোর শর্ত বা রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে একই গতিতে সাড়া দিতে পারে না। ফলে চীন বাস্তব সমস্যার দ্রুত সমাধান দেওয়ার মাধ্যমে একটি কার্যকর অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছে।
চীনের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত এখানেই। তারা শুধু সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে না; বরং শহর, প্রদেশ, পুলিশ, ব্যবসা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলছে। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের বহু সিস্টার-সিটি চুক্তিও এই স্থানীয় যোগাযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। জাতীয় সরকার পরিবর্তন হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া এসব সম্পর্ক অনেক সময় টিকে থাকে। ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও চীনের প্রভাব ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
এই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে চীনের প্রভাবকে বড় বন্দর, ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক, মহাকাশ কর্মসূচি কিংবা বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের মতো দৃশ্যমান বিষয় দিয়ে বিচার করেছে। কিন্তু চীনের নতুন কৌশল অনেক বেশি ছড়িয়ে থাকা এবং স্থানীয় পর্যায়ের। ছোট শহরের ক্রয় বিভাগ, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা কিংবা স্থানীয় খনি প্রকল্পে চীনের উপস্থিতি হয়তো সংবাদ শিরোনাম তৈরি করে না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এসব সম্পর্কের সমষ্টিগত প্রভাব বড় হতে পারে।
চীনের নীতিনির্ধারণের ধরনও এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। বেইজিং সব সময় আগে থেকে তৈরি কোনো নির্দিষ্ট নকশা অনুসরণ করে এগোয়—এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ বাস্তবে সফল হওয়ার পর সেটিকে বৃহত্তর নীতির অংশ করা হয়। লাতিন আমেরিকায় নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের তুলনায় নিরাপত্তা সহযোগিতা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু পুলিশ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে সম্পর্ক বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা এখন চীনের আঞ্চলিক নীতিতে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফলে লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাবকে শুধু ঋণ বা বড় অবকাঠামো প্রকল্প দিয়ে বিচার করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। আসল পরিবর্তন ঘটছে আরও নিচের স্তরে। একটি শহরের ক্যামেরা, একটি প্রদেশের খনি, একটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পুলিশের প্রশিক্ষণ কিংবা কয়েক হাজার বৈদ্যুতিক বাস—প্রতিটি উদ্যোগ আলাদা হলেও এগুলো একসঙ্গে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে।
চীনের এই কৌশলকে কেউ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখতে পারেন, আবার কেউ এটিকে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। বাস্তবতা সম্ভবত দুইয়ের মাঝামাঝি। কারণ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোও নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে এসব চুক্তি করছে। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো একটি দেশের প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি যত বাড়বে, ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
চীনের কৌশলের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক তাই তার নীরবতা। বড় কোনো ঘোষণা ছাড়াই ছোট ছোট চুক্তি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। একটি চুক্তি হয়তো আজ সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েক বছর পর দেখা যেতে পারে—একটি শহরের নিরাপত্তা, একটি প্রদেশের খনিজ সম্পদ, একটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিংবা পুলিশের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
লাতিন আমেরিকায় বেইজিংয়ের নতুন উপস্থিতিকে বোঝার জন্য তাই শুধু বড় প্রকল্পের দিকে তাকালে চলবে না। নজর দিতে হবে সেই ছোট ছোট দরজাগুলোর দিকে, যেগুলো দিয়ে চীন স্থানীয় পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কারণ ভূরাজনীতিতে সব পরিবর্তন সব সময় বড় ভবন, বন্দর বা মহাসড়কের আকারে আসে না। কখনো কখনো একটি ক্যামেরা, একটি সফটওয়্যার, একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কিংবা একটি ছোট ব্যবসায়িক চুক্তিই ভবিষ্যতের বড় নির্ভরতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ