পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি নেতা । তার সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে—বাংলাদেশ সীমান্তের যেসব অংশে এখনো কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে দ্রুত বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৫ দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তার ভাষায়, এটি শুধু সীমান্ত সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের “জনবিন্যাস পরিবর্তন” ঠেকানোর প্রশ্নও। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় রাজ্যের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে গেছে এবং এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা আগেই সংসদে জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট সীমান্ত ২,২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১,৬৫৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হলেও এখনও প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ হচ্ছে এবং আগের তৃণমূল সরকার এই বিষয়ে কঠোর ছিল না।
নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও বিজেপি দাবি করেছিল, সীমান্তে বেড়া সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকার বিএসএফকে দিচ্ছিল না। ক্ষমতায় এসেই সেই বাধা দূর করার ঘোষণা দিল নতুন সরকার।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুধু সীমান্ত নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যারা রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প—যেমন আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও ও বিশ্বকর্মা যোজনা—চালু করার কথাও জানানো হয়েছে।
এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ফৌজদারি আইন “ভারত ন্যায় সংহিতা” রাজ্যে কার্যকর করার ঘোষণাও এসেছে। সরকারি চাকরির বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, আগের সরকার দলীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিত। তবে একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের চলমান জনমুখী ও সামাজিক প্রকল্পগুলো বন্ধ করা হবে না।
এই সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কারণ বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও অনুপ্রবেশ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয়। বিজেপি বরাবরই এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল বলে সমালোচনা করেছে।
নতুন সরকারের এই অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত রাজনীতিতে কড়া অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আপনার মতামত জানানঃ