Trial Run

করের সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, চাকরি গেল এনবিআর কর্মকর্তার

ছবি : সংগৃহীত

খুলনার সহকারী কর কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ অভিনব কৌশলে করের ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা আত্মসাৎ করেন। করের টাকা আত্মসাৎ করায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল মঙ্গলবার(২৬ জানু) এনবিআর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

জানা যায়, মেজবাহ ২০১৭ সালের ৮ মে থেকে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা কর অঞ্চলের অধীনস্ত কর সার্কেল-১৪, বাগেরহাটে কর্মরত সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি করদাতাদের রাজস্ব হিসাবে দাখিল করা মোট ৪০টি পে-অর্ডার, ডিডি, ক্রস চেক সরকারি কোষাগারের পরিচালিত হিসাবে চালানের মাধ্যমে জমা না দিয়ে বাগেরহাট সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দেন। পরবর্তীতে তিনি সেই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজে সই করে দুই কোটি ১০ লাখ ২৪ হাজার ৪২৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

আরও জানা যায়, একাধিক চেকের মাধ্যমে বাগেরহাট অপর একটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সার্কেল-১৭ মোংলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক থেকে ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৯৯৭ টাকা, জনতা ব্যাংক থেকে ২৯ লাখ ৯৯৮ টাকা, সার্কেল-১০ মাগুরায় কর্মরত থাকা অবস্থায় সোনালী ব্যাংক থেকে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৪ টাকা, সার্কেল-২২ ভেড়ামারায় কর্মরত থাকা অবস্থায় জনতা ব্যাংক থেকে ৪২ লাখ, সাত হাজার ৫২৭ টাকাসহ সর্বমোট তিন কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সেই টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজস্ব তহবিলে জমা না দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক বেতন হিসাব খুলে ব্যাংক থেকে টাকা নিজে উত্তোলন করেছেন বলেও এনবিআর সূত্রে জানা যায়।

বিষয়টি এনবিআরের তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরে এনবিআর অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ আনে এবং বিভাগীয় মামলা করে তার বিরুদ্ধে। তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না মর্মে নোটিশ জারি করা হয়। মেজবাহ উদ্দিন নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি এবং ব্যক্তিগত শুনানিও চাননি। এনবিআর এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতামত নিয়েছে। সংস্থাটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি তাকে বরখাস্ত করার প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন। এরপর মঙ্গলবার এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করল। এদিন থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০১৯ সালের  ১৯ মে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ওই বছরের ২১ জুলাই খুলনার কর অঞ্চলের উপ-করকশিনার খন্দকার মো. তারিফ উদ্দিন উপ-পরিচালক দুদক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশক্রমে ১৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া মেজবাহকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। দুদক খুলনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া বাদী হয়ে দুদক জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে দুদক মেজবাহকে গ্রেফতার করে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি দফতরে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আর অনিয়মের চিত্র সাধারণের মনে স্বাভাবিক অবস্থায় চলে গেছে। যে যার সুবিধামতো রাষ্ট্র কিংবা জনগণের টাকে মেরে দেওয়ার কৌশল খুঁজতে থাকে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান নেই বলে এসব রোধ করা জটিল আকার ধারণ করেছে বলে মনে করেন তারা। তারা মনে করেন, কেবল বদলি কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্ত পর্যন্তই নয়, দুর্নীতিবাজদের সমাজে চোর স্বীকৃতি বিরাজমান করা গেলে আত্মসম্মানের ভয়ে হলেও এসবে কেউ উৎসাহী হবে না।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৪১৭ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ