Trial Run

তাইওয়ানে শিশুর চেয়ে পোষাপ্রাণির সংখ্যা বেশি!

তাইওয়ানে শিশুর জায়গা নিচ্ছে পোষাপ্রাণী। ছবি: Helen Davidson/The Guardian

এশিয়ার ছোট্ট দেশ তাইওয়ান এখন শিশু জন্মদানে বেশ পিছিয়ে পড়েছে। সরকারের গৃহীত নীতির ফলে দেশটিতে এখন ১৫ বছরের কমবয়সী শিশুর তুলনায় পোষাপ্রাণীর সংখ্যা বেশি। গত সেপ্টেম্বর মাসের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি এই চিত্র পাওয়া গেছে। তাইওয়ানে যে পোষ্যদের সংখ্যা বেশি, এটা সে দেশের সরকারকেও বিপাকে ফেলে দিয়েছে।

নাগরিকদের অনীহার কারণে জন্মহার কমে যাচ্ছে চীনের নিজস্ব ভূখণ্ড দাবিকৃত বিশেষায়িত এ দেশটিতে। বলা হচ্ছে, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশ তাইওয়ান। বংশবৃদ্ধি এবং সন্তান জন্ম দেয়াকে এখন ‘ওল্ড স্কুল’ মানতে শুরু করেছেন তারা। পরিবর্তে কুকুর-বিড়ালের মতো প্রাণী পোষার প্রবণতা বেড়ে গেছে সেখানে।

১৯৪৯ সালে মাও সেতুঙ-এর নেতৃত্বে চীনে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন হয়। সে সময় জাতীয়তাবাদী দলের (কুওমিনটাং) নেতা চিয়াং কাইশেক মাওয়ের লাল বাহিনীর ঘেরাও ভেঙে পালিয়ে এসে তাইওয়ানে অবস্থান নেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক সহযোগিতায় দেশটি চীনা আপত্তির মুখেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে আছে। তবে চীন তাদের পৃথক অস্তিত্ত্ব স্বীকার না করে নিজেদের ভূখণ্ডভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনে কমিউনিস্ট উত্থানের বিপরীতে তাইওয়ানে শুরু থেকেই ব্যক্তি স্বাধীনতায় জোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরিণতিতে এখন সেখানে পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক লেনদেন এবং প্রজাতি হিসেবে মানুষের অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়েছে। তাছাড়া চীনের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবন্ধকতাও তাইওয়ানের মানুষকে চাপের মধ্যে রেখেছে এবং তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হয়।

তাইওয়ানে এখন এটা সাধারণ দৃশ্য যে, বেবি স্ট্রলার পোষা প্রাণীকে বসিয়ে পার্কে বা বাড়ির পাশের সরু গলিতে হাঁটছেন নারীরা। তাইপে শহরে পোষা প্রাণীদের সাজগোজ করিয়ে ঘুরতে বের হন নারীরা। ড্যান ফরেস্ট পার্কে পোষ্য নিয়ে ঘুরছিলেন সিরিন এবং হ্যান দম্পতি। সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে সিরিন বলেন, সন্তান চাই না। খরচ বেশি। দায়িত্ব বেশি। তার চেয়ে কুকুরই ভালো। সন্তান মানুষ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকরা অবশ্য তাইওয়ানে জন্মহার কমে যাওয়ার জন্য পোষাপ্রাণী পালনের ঝোঁক বেড়ে যাওয়াটাকে একমাত্র কারণ হিসেবে দায়ী করেন না। দেশটির সরকারের নীতিই এর জন্য প্রধানভাবে দায়ী। সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে নানারকম অর্থনৈতিক বাধার পাশাপাশি মাত্র কয়েকদিনের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি পান নারীরা। এছাড়া সামাজিকভাবে বিয়ের আগে সন্তান জন্মকে অনুৎসাহিত করা হয় এবং দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতাও দেশটিতে বেশ জোরালো।

এসডাব্লিউ/আরা/১২৪৪

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 132
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    132
    Shares