Trial Run

সৈন্য প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে হামলায় আমেরিকাকে সাহায্য করবে পাকিস্তান?

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি সৈন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এই প্রতিশ্রুতি আর তার বাস্তবায়নের ফাঁকফোকর দিয়ে ইতিমধ্যেই কন্সপিরেসির মুখ উঁকি দিচ্ছে। আফগানিস্তানের উপর নজরদারি বহাল রাখতে  এবং প্রয়োজনে অভিযান চালাতে পাকিস্তানে অবস্থিত পুরনো মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মার্কিন কর্মকর্তাদের কথায়। যদিও সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকোচ করেছে ইসলামাবাদ। তবে অস্বীকারের অভ্যাস পাকিস্তানের পুরনো। তাই সন্দেহ থেকেই যায়। প্রায় নয় বছর আগে মার্কিন সরকার তাদের সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটি পাকিস্তানের হাতে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল। এবার এই ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে ইসলামাবাদের উপর হোয়াইট হাউজের চাপ কতটা প্রভাব রাখবে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে সেটাই দেখার বিষয়।  

পাকিস্তানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি! 

আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের ব্যাপারে সরগরম হয়ে ওঠে গণমাধ্যম।  পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী উপজাতি অধ্যুষিত শালুজান ও তেরমিনাল এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কাজ চলছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এর প্রতিক্রিয়া জানানো হয় গত মে মাসে। পাকিস্তান ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের একই সময়ে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহেদ হাফিজ চৌধুরী এক বিবৃতিতে সে দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ইসলামাবাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, সে দেশে আমেরিকার সামরিক কিংবা বিমান বাহিনীর কোনো ঘাঁটি নেই এবং এ ধরনের কোনো প্রস্তাবও ইসলামাবাদ পায়নি। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে এ ধরনের গুঞ্জন একেবারেই ভিত্তিহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তাই এ থেকে সবারই বিরত থাকা উচিত।

এদিকে, আফগানিস্তানের ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখার জন্য মার্কিন সেনাদের একটি অংশ আফগানিস্তানের আশেপাশে কয়েকটি ঘাঁটিতে মোতায়েন রাখা হবে বলে মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সম্প্রতি মন্তব্য করেন। সেখানে পাকিস্তানের নাম যদিও উল্লেখ করা হয়নি। একই সাথে মার্কিন কর্মকর্তারা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এইসব সেনাদের একটি অংশ কোথায় মোতায়েন রাখা হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন খবরে জানা গেছে পাকিস্তানই এক্ষেত্রে আমেরিকার টার্গেট।

নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ইসলামাবাদ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন বাহিনীকে পাকিস্তানের কোনো ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। গত বুধবার ইসলামাবাদে তিনি এ কথা বলেন।

মেহমুদ কুরেশি বলেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের অবস্থান ‘কঠোর’। তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পর দেশটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন সেনাদের পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘাঁটি স্থাপন বা পাকিস্তানি ঘাঁটি ব্যবহার করার ইচ্ছে তারা পোষণ করতে পারেন। কিন্তু আমরা তাদের সে রকম কোনো সুযোগ দেব না। আমাদেরকে আমাদের স্বার্থ দেখতে হবে।

স্পষ্ট, কিন্তু কতটা সত্য!

এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত রোববার দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, মার্কিন সেনাদের পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে চায় ইসলামাবাদ। খবরে দাবি করা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস সম্প্রতি গোপনে পাকিস্তান সফর করেছেন। সেখানে তিনি এ বিষয়ে পাক সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার পরও ওয়াশিংটন যাতে প্রয়োজনে আফগানিস্তানে অভিযান চালাতে পারে, সে জন্য পাকিস্তানে সেনা মোতায়েন করতে চায় পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড জে. অস্টিন বেশ কয়েকবার টেলিফোন করে এ বিষয়ে পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সূত্র মতে, ২০০৮ সাল থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালানোর কাজে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের ‘শামসি’ ঘাঁটি ব্যবহার করেছে সিআইএ। বিষয়টি পাকিস্তান সরকার কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। নিউইয়র্ক টাইমস তার প্রতিবেদনে আরও লিখেছে— মার্কিন সেনা মোতায়েন করতে দেয়ার বিষয়টি পাকিস্তানের জনগণ কখনও মেনে নেবে না বলে এ ব্যাপারে ইসলামাবাদকে বুঝেশুনে কথা বলতে হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাকিস্তানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ও জনগণের মধ্যে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া ও স্পর্শকাতরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের সাথে সাথে পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আবারও পাকিস্তানে মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণের খবরে সেদেশের জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তালেবানসহ অন্যান্য উগ্রগোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধিতে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হওয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতিকে ভালো চোখে দেখছে না সে দেশের জনগণ। তবে পাকিস্তান সরকার যতই অস্বীকার করুক না কেন জেনেভায় পাক-মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের ব্যাপারে ইসলামাবাদের উপর হোয়াইট হাউজের চাপ উত্তাপ ছড়াচ্ছে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে।

এসডব্লিউ/এমএন/এসএস/১৮৫৭ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ