Trial Run

ঢাকায় পৃথক স্থানে নয় বাসে অগ্নিকাণ্ড

নাশকতার শঙ্কা সরকারের, বিরোধীদের পাল্টা সন্দেহ

ছবি: শাহবাগে বাসে আগুন। স্বত্ব: সুশান্ত দেবনাথ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নয়টি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে কমলাপুর, মতিঝিল, প্রেসক্লাব সংলগ্ন সচিবালয় মোড়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও শাহবাগের কাটাবন মোড়, তুরাগ এলাকা এবং বংশালের নয়াবাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বেড়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বিএনপির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এমন একজনকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন সচিবালয় মোড়ে আরেকটি বাসের আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। ২টা ১০ মিনিটে পাওয়া আগুনের খবরে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট পাঠানো হয় তিনি জানান। ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসের সামনে ও শাহবাগে দুটি বাসে লাগা আগুন সম্পূর্ণ নেভানো গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। দুপুরে তুরাগে একটি বাসে আগুন দেওয়ার সময় হাতেনাতে সোহেল মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশের দাবি, সোহেল মিয়ার সঙ্গে বিএনপির কানেকশন আছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ১২ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার সময় শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আজিজ মার্কেটে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাওয়া সংস্কৃতি কর্মী অনন্ত মুনীর বলেন, সরাসরি দেখিনি, মার্কেটের ভেতরে ছিলাম। লোকমুখে শুনলাম, হেল্পার বলেছে, গাড়িটা নিউমার্কেট থেকে ছেড়ে এসেছিল। দেওয়ান পরিবহনের একটি বাস। মার্কেটের সামনে দিয়ে ক্রস করার সময় কিছু লোক যাত্রী হিসেবে বাসে উঠার জন্য সিগন্যাল দেয়। তারাই বাসে আগুন দিয়েছে। চোখের পলকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। এসময় বাসে থাকা যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে চলমান উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বেড়েছে। সরকারি দলের নেতারা মনে করছেন, মার্কিন নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয়ের প্রেক্ষাপটে বিএনপি নতুন করে মাঠে নামার কথা ভাবতে পারে। বাসে আগুন দেয়া তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আগেও ঘটেছে। ফলে এর সঙ্গে বিএনপির স্পষ্ট যোগ দেখছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুতই এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সরকার সমর্থকরা এজন্য বিএনপিকে দুষতে শুরু করেছেন। তারা এর পেছনে বড় ধরণের নাশকতার ইঙ্গিতও দেখছেন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, দেশে খুন-ধর্ষণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম অরাজকতা চলছে। যা নিয়ে সরকার দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। তাই বিএনপি যেন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, আন্দোলনে যেতে না পারে সে বিষয়ে তারা সজাগ। বিএনপি নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্তরীণ করার জন্যই ভাড়াটে লোক দিয়ে এ ধরণের কাণ্ড সরকার সমর্থকরা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
জনগণের ভোটের অধিকার ‘হরণের চিত্র আড়াল করার লক্ষ্যে’ এবং জনগণের দৃষ্টি ‘ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বাসে সরকার আগুন লাগিয়েছে বলে অভিযোগ করেছন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আমরা গণপরিবহনে আগুন দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক। সরকার ‘পূর্বের মতোই বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করা ও এর দায়-দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চাপিয়ে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দায়ের করে হয়রানী করতে চায়’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। নেটিজেনদের মন্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি কেউ কামনা করে না। অনেকে বিশ্লেষণও হাজির করেছেন। জুয়েল হাসান লিখেছেন, ‘এখন প্রায় সারা শহরেই সিসি ক্যামেরা ছড়িয়ে আছে। যদি দ্রুতই অগ্নিসংযোগকারীরা ধরা পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে বিরোধীরাই এর সঙ্গে জড়িত। আর যদি দেখা যায় অপরাধীরা ধরা পড়ছে না, সরকার শুধু বুলি আওড়াচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।’
ছড়িয়ে দিনঃ
  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    54
    Shares