Trial Run

রাবিতে বিতর্কিত নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা, যোগদান স্থগিত

ছবি: যুগান্তর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে ১৪১ জনের যে জনবল নিয়োগ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটিকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত ঘোষণা করেছে। একইসাথে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরিতে যোগদান স্থগিত করেছ কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই যোগদান স্থগিত করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ শনিবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পত্রের মাধ্যমে বুধবার (৫ মে) অস্থায়ীভিত্তিতে নিয়োগকৃত সবার নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনোরূপ সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত নিয়োগপত্রের যোগদান এবং তদসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানের অনেকগুলো প্রক্রিয়া আছে। তার মধ্যে অন্যতম যে বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেই বিভাগ বা দপ্তর প্রধানের কাছ থেকে একটি সুপারিশ নিয়ে আসতে হবে। তারপর রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগ কার্যকর হবে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন আছে সে কারণে যোগদান স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে।

বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান বলেন, এই নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে। তদন্ত কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এরমধ্যে বিজ্ঞপ্তিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিভাগ, হল ও অনুষদগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

রাবির বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার (৬ মে)। আগের দিন তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে ১৪১ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে যান। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নিয়োগকে অবৈধও বলেছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে। সদস্য সচিব হলেন- ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ।

শনিবার পৌনে ১১টার দিকে কমিটির সদস্যরা রাবি যান। প্রথমে তারা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বে) অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার দপ্তরে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তদন্ত কমিটির ডাকে উপাচার্যের দপ্তরে যান সদ্য বিদায়ী উপাচার্য আবদুস সোবহান। তদন্ত কমিটি তার সাক্ষাৎকার নেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে এই নিয়োগ অবৈধ এবং নিয়মবহির্ভূত। সুতরাং যারা এই নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমরা তাদের সাক্ষাৎকারের আওতায় এনেছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।

নিয়োগ নিয়ে বিদায়ী উপাচার্যের বক্তব্য

তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্যের পর বিদায়ী উপাচার্য দাবি করেছেন, তিনি যে নিয়োগ দিয়েছেন সেটি যৌক্তিক এবং তাদের চাকরি না টেকার কোনো কারণ নেই। আর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন ‘আমি এই নিয়োগ মানবিক কারণে দিয়েছি।’

অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩ এর ১২ (৫) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি এই নিয়োগ দিয়েছি। এখানে কেউ হয়তো বলার চেষ্টা করছে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ছিল। কিন্তু আমি মনে করি, যেখানে সুস্পষ্ট একটা আইন আছে, ক্ষমতা দেওয়া আছে, সেখানে নিষেধাজ্ঞা আসতে হলে তো ওই আইনটা (অ্যাক্ট) বাতিল হওয়া উচিত আগে।’

উপাচার্য বলেন, ‘নিয়োগ না টেকার কী কারণ আছে আমি বলতে পারব না। এটার সিদ্ধান্ত কারা নেবে আমি জানি না। অ্যাডহকে নিয়োগ তো অনেক হয়েছে। মাস্টাররোলে ৫৪৪ জনের চাকরি তো এখনো টিকে আছে। সুতরাং এটা না টেকার কী কারণ আছে? আমি মনে করি এটা যৌক্তিক এবং আমি নিজ দায়িত্বে এটা দিয়েছি।’

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নিয়োগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবদুস সোবহান বলেন, ‘যারা ডিজার্ভ করে তারাই এই নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল, আমি এই নিয়োগ মানবিক কারণে দিয়েছি। তারা অনার্স-মাস্টার্স পাস, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের তৃতীয় শ্রেণির চাকরি পাওয়া আমি খুবই যৌক্তিক মনে করি।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মাত্র ৪০-৪৫ জন ছাত্রলীগ, এমন আলোচনার প্রসঙ্গে এম আবদুস সোবহান বলেন, ‘কথাটি সত্য নয়। ছাত্রলীগের নেতা হওয়া আর কর্মী হওয়া তো এক নয়। ছাত্রলীগ নেতা, ছাত্রলীগ কর্মী এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান তো একই।’

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/২১১৩ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ