Trial Run

অগ্রিম টাকা দিয়ে টিকা কিনেছি, সরকারের উচিত সেরামকে জোরালোভাবে বলা

সাংবাদিকদের নাজমুল হাসান পাপন

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ফের বাড়তে থাকায় ভারত সরকার টিকা রপ্তানি আপাতত স্থগিত রাখার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের লোকজন টিকা নেওয়ার পরবর্তীতে রপ্তানিযোগ্য টিকা থাকলে রপ্তানি করা হবে। সম্প্রতি সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছেন, আগামী জুন জুলাইয়ের আগে তারা টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। এতে বাংলাদেশে টিকা সংকট আরও বেড়ে যায়।

এবিষয় নিয়ে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান (পাপন)। বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকার আনার ব্যাপারে এজেন্টের কাজ করছে বেক্সিমকো ফার্মা।

আজ শনিবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের কাছে বলেন, দেড় কোটি ডোজ টিকার জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। টিকা এসেছে ৭০ লাখ ডোজ। এখনো ৮০ লাখ ডোজ টিকা সেরাম ইনস্টিটিউট দেয়নি। সরকারের উচিত এই টিকার জন্য জোরালোভাবে বলা।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের দেড় কোটি ডোজ টিকার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটকে টাকা দেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার পর টিকা আটকানোর কোনো অধিকার সেরামের নাই।

বেক্সিমকো ফার্মার এমডি নাজমুল হাসান বলেন, ‘সরকার অগ্রিম যে টাকা দিয়েছে সে অনুযায়ী টিকা দেবে না, তা কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের স্পষ্ট ভাষায় বলা উচিত অগ্রিম টাকা অনুযায়ী টিকা আমাদের দিতে হবে। দেড় কোটি ভ্যাকসিনের টাকা দিয়েছি। সেটা আটকানোর কোনো অধিকার সেরামের নেই।’

পাপন বলেন, ‘চুক্তি ছিল টিকা নিতে অগ্রিম টাকা দিতে হবে। সরকার সেটা করেছে। সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে আমাদের কোম্পানি। তাদের ওখানে কী অনুমোদন দেয়া লাগবে, কী না লাগবে এটা আমাদের সমস্যা নয়। সঠিক সময় টিকা না দিলে সরকার অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

‘তবে এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তারা বলে আসছে ভারত বাংলাদেশের বন্ধু। এটা দেখার সময় আসছে এখন। এই ব্যাপারটা অবশ্যই আমাদের দেখতে হবে। এত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলার দরকার নেই। তাদের কাছ থেকে আমরা কোনো দয়া চাচ্ছি না; টাকায় কেনা টিকা চাচ্ছি।’

পাপন বলেন, ভারত যে বাংলাদেশের বন্ধু সেটা এখন বিবেচনা করার সময় এসেছে। মিষ্টি কথায় সব চলবে না। ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।

ভারতে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় দেশটি থেকে করোনাভারাসের টিকার নতুন চালান আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারত নিজেই ভ্যাকসিন সংকটে আছে। তবে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, শিগগিরই বাংলাদেশে ভ্যাকসিন রপ্তানি করা হবে।’

ভারতে চার দিন ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় গত বৃহস্পতিবার আখাউড়া স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

দোরাইস্বামী বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দুই দেশ খারাপ সময় পার করছে। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত আছে। টিকার জন্য দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়বে না।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ কারণে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বেশি টিকা সরবরাহের চুক্তি আছে। চুক্তি অনুযায়ী ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি টিকা ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করা হবে।

জানা যায়, ভারতে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইসেন্স ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্প। টিকা উৎপাদনেও সবার বড় দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটিকে বিলিয়ন ডোজ উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হয় এজন্য যে, তারা যেন সেগুলো ভারতসহ উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের অন্যান্য দেশে সরবরাহ করে। এখন সংস্থাটি যে লাখ লাখ ডোজ উৎপাদন করছে, তার সম্পূর্ণ ভাগীদার কিন্তু ভারত একা নয়, বরং সেখানে ন্যায্য হিস্যা আছে বিশ্বের দরিদ্রতম ৯২টি দেশের। সেই অধিকার অস্বীকার করেই ভারত সরকার প্রাণদায়ী এই প্রতিষেধককে শুধুমাত্র ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। যা অন্যায় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের কেনা তিন কোটি ডোজ টিকার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ ডোজ দেশে এসে পৌঁছেছে। নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এর বাইরেও ৩২ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে দিয়েছে ভারত। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় এরই মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫২ লাখের বেশি মানুষ। গত ৭ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে চুক্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টিকা সরবরাহ করতে পারেনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট। এ দুই মাসে ৮০ লাখ ডোজ টিকা কম সরবরাহ হয়েছে। এতে দেশে চলমান টিকা কার্যক্রমে প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভারতের কাছ থেকে টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন উদ্যোগ নিয়েছে অন্য উৎস থেকেও টিকা সংগ্রহের জন্য। ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র পাশাপাশি এবার বিকল্প উৎস থেকে করোনার টিকা সংগ্রহে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

এসডব্লিউ/পিএ/কেএইচ/১৪১৫ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ