দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বিভিন্ন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে চিকিৎসার নামে বন্দিদের ওপর চালানো হতো ভয়ংকর সব পরীক্ষা। এসব পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল কয়েক ধরনের। কিছু পরীক্ষা পরিচালিত হতো জার্মান সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে, কিছু ছিল নতুন ওষুধ ও চিকিৎসাপদ্ধতি যাচাইয়ের জন্য, আর কিছু সরাসরি নাৎসিদের বর্ণবাদী ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এসব গবেষণার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল—যাঁদের শরীর ব্যবহার করা হচ্ছিল, তাঁদের সম্মতি নেওয়া হতো না। তাঁদের কাছে পরীক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হতো না, ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো হতো না, এমনকি পরীক্ষা বন্ধ করার অধিকারও দেওয়া হতো না।
জার্মানির ডাকাউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে চালানো উচ্চতাজনিত পরীক্ষা ছিল এর একটি ভয়ংকর উদাহরণ। জার্মান বিমানবাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে চিকিৎসকেরা জানতে চেয়েছিলেন, বিমান থেকে অত্যন্ত বেশি উচ্চতায় প্যারাশুট নিয়ে নামলে একজন পাইলটের শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এ জন্য বন্দিদের বিশেষ চাপ-নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে রাখা হতো। সেখানে কৃত্রিমভাবে উচ্চ আকাশের বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের স্বল্পতা তৈরি করা হতো। পরীক্ষার সময় অনেক বন্দি শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং গুরুতর শারীরিক সংকটের শিকার হন। কিছু পরীক্ষায় তাঁদের মৃত্যু ঘটে। মানুষের জীবনকে এখানে গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে নয়, বরং ব্যবহারযোগ্য পরীক্ষার উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
এর চেয়েও নির্মম ছিল শীতজনিত পরীক্ষা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাঞ্চলীয় রণাঙ্গনে জার্মান সেনাদের প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতে হতো। তাই সৈন্যদের শরীর কতক্ষণ তীব্র ঠান্ডা সহ্য করতে পারে এবং কীভাবে তাঁদের শরীরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, তা জানার জন্য ডাকাউ ক্যাম্পে বন্দিদের বরফশীতল পানিতে ডুবিয়ে রাখা হতো। কখনো তাঁদের দীর্ঘ সময় ঠান্ডার মধ্যে উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হতো। চিকিৎসকেরা শরীরের তাপমাত্রা, শারীরিক প্রতিক্রিয়া এবং অচেতন হয়ে যাওয়ার পর্যায় পর্যবেক্ষণ করতেন। অনেক বন্দি এই পরীক্ষার ফলে মারা যান। বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হন। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের জীবন রক্ষার গবেষণার নামে অন্য মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
শুধু শারীরিক সহনশীলতা নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক অস্ত্রের প্রভাব নিয়েও পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দিদের বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আনা হতো। উদ্দেশ্য ছিল এসব রাসায়নিকের প্রভাব বোঝা এবং সম্ভাব্য প্রতিষেধক বা চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষা করা। ফসজিন ও মাস্টার্ড গ্যাসের মতো বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। এসব পদার্থ মানুষের শ্বাসতন্ত্র, ত্বক ও অন্যান্য অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু বন্দিদের শরীরে এসব পদার্থের প্রভাব যাচাই করার সময় তাঁদের নিরাপত্তা বা সম্মতির কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তাঁদের যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারের নামেও চলেছিল একই ধরনের নিষ্ঠুরতা। বুখেনভাল্ড, ন্যুয়েঙ্গামে, ন্যাটজওয়াইলার, ডাকাউসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দিদের ম্যালেরিয়া, টাইফাস, যক্ষ্মা, টাইফয়েড এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের গবেষণায় ব্যবহার করা হয়। তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রোগে আক্রান্ত করা হতো, এরপর নতুন ওষুধ বা প্রতিষেধক প্রয়োগ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন্দিদের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। গবেষণার ফলাফল পাওয়াই যেন প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল; পরীক্ষার শিকার মানুষটি বেঁচে থাকবেন কি না, তা ছিল গৌণ।
রাভেনসব্রুক কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে চালানো অস্ত্রোপচার ও ওষুধ পরীক্ষার ঘটনাগুলোও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে নারী বন্দিদের শরীরে হাড়, পেশি ও স্নায়ু-সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। কিছু বন্দির পায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষত সৃষ্টি করা হতো, তারপর সেই ক্ষতে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য উপাদান প্রবেশ করিয়ে সংক্রমণ তৈরি করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের ক্ষত সংক্রমণ প্রতিরোধে সালফানিলামাইডজাতীয় ওষুধ কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা। কিন্তু এসব পরীক্ষায় বন্দিদের শরীরে গভীর ক্ষত, সংক্রমণ এবং স্থায়ী অক্ষমতা তৈরি হয়। অনেকেই স্বাভাবিকভাবে হাঁটার ক্ষমতা হারান। কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার পর তাঁদের যথাযথ চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।
নাৎসি চিকিৎসকদের আরেকটি ভয়ংকর লক্ষ্য ছিল মানুষের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গবেষণা করা। বন্দিদের হাড়, পেশি ও স্নায়ু নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির শরীর থেকে টিস্যু নিয়ে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে আহত জার্মান সেনাদের চিকিৎসার সম্ভাবনা যাচাই করা। কিন্তু পরীক্ষার শিকার ব্যক্তিদের শরীরের ওপর কী করা হচ্ছে, তা জানার বা আপত্তি জানানোর কোনো সুযোগ ছিল না। চিকিৎসার নামে তাঁদের শরীরকে এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নাৎসি মানব-পরীক্ষার সবচেয়ে কুখ্যাত নামগুলোর একটি হলো ডা. জোসেফ মেঙ্গেলে। তিনি আউশভিৎজ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বন্দিদের মধ্যে যমজ শিশুদের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি যমজদের শরীরের গঠন, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং বংশগত পার্থক্য নিয়ে গবেষণার নামে তাঁদের ওপর নানা পরীক্ষা চালাতেন। শিশুদের রক্ত, চোখ এবং শরীরের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইনজেকশন দেওয়া, রোগের সংস্পর্শে আনা এবং অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এসব পরীক্ষার ফলে অনেক শিশু মারা যায়। যারা বেঁচে ছিল, তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়।
মেঙ্গেলের গবেষণার পেছনে ছিল নাৎসিদের বর্ণবাদী ধারণা। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, তথাকথিত আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব। ইহুদি, রোমা এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীকে তাঁরা নিম্নমানের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাও ব্যবহার করা হয়েছিল এই বিদ্বেষমূলক মতাদর্শকে সমর্থন করার জন্য। আউশভিৎজে শুধু যমজদের ওপর পরীক্ষা নয়, বন্দিদের শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এবং মৃত্যুর পর তাঁদের দেহ নিয়ে গবেষণার ঘটনাও ঘটেছিল। বিজ্ঞান এখানে সত্য অনুসন্ধানের পথ না হয়ে উঠেছিল জাতিগত ঘৃণার হাতিয়ার।
নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ ছিল নাৎসি চিকিৎসা-অপরাধের আরেকটি ভয়াবহ অধ্যায়। নাৎসি শাসকেরা যেসব জনগোষ্ঠীকে নিজেদের বর্ণবাদী ধারণায় ‘অবাঞ্ছিত’ মনে করত, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছিল। এই উদ্দেশ্যে আউশভিৎজে চিকিৎসক কার্ল ক্লাউবার্গ কয়েক শ নারী বন্দির ওপর বন্ধ্যাকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষা চালান। তাঁদের অনেকের শরীরে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এর ফলে তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ, রক্তপাত এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব জটিলতা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে চিকিৎসক হর্স্ট শুমান এক্স-রে ব্যবহার করে নারী ও পুরুষ বন্দিদের বন্ধ্যা করার পরীক্ষা চালান। এতে অনেকের শরীরে মারাত্মক দগদগে ক্ষত ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি তৈরি হয়।
এই গবেষণাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত অপরাধ ছিল না। নাৎসি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, এসএস বাহিনী, চিকিৎসা প্রশাসন এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসব পরীক্ষার যোগসূত্র ছিল। কিছু গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল সামরিক প্রয়োজনের কথা বলে, কিছুতে যুক্ত ছিল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার স্বার্থ, আবার কিছু গবেষণা ছিল চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও পেশাগত প্রতিষ্ঠা অর্জনের চেষ্টা। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সামরিক প্রয়োজন এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের সহযোগিতায় মানবিক মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মিত্রশক্তি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলো মুক্ত করে। বিশ্ববাসী জানতে পারে, চিকিৎসক ও গবেষকদের একটি অংশ কীভাবে মানুষের শরীরের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিল। এই অপরাধের বিচার শুরু হয় নুরেমবার্গে। ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ট্রাইব্যুনালে ২৩ জন জার্মান চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ১৯ আগস্ট আদালত রায় ঘোষণা করে। কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এই বিচার শুধু অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; এটি আধুনিক চিকিৎসা গবেষণার নৈতিক ভিত্তি তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখে। বিচারপ্রক্রিয়ার পর প্রণীত হয় ‘নুরেমবার্গ কোড’। এতে বলা হয়, মানুষের ওপর কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর আগে তাঁর স্বেচ্ছায় দেওয়া সম্মতি অপরিহার্য। গবেষণার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য ঝুঁকি, পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। কোনো ব্যক্তি চাইলে পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকার করতে পারবেন কিংবা পরীক্ষা চলাকালে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। গবেষককেও এমন কোনো পরীক্ষা বন্ধ করতে হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীর জীবন বা স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
নুরেমবার্গ কোড চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবী থেকে অনৈতিক গবেষণা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন দেশে মানুষের সম্মতি, গবেষণার স্বচ্ছতা এবং চিকিৎসা নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। তবে নাৎসি মানব-পরীক্ষার অভিজ্ঞতা বিশ্বকে একটি মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে—বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাফল্য কখনোই মানুষের মর্যাদা ও অধিকারকে অস্বীকার করার অজুহাত হতে পারে না।
এই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক শুধু এই নয় যে কয়েকজন চিকিৎসক নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। বরং ভয়ংকর সত্য হলো, তাঁরা নিজেদের কাজকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের হাতে ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সমর্থন এবং গবেষণার সুযোগ; কিন্তু অনুপস্থিত ছিল মানবিক বিবেক। তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা, মানুষের শরীরকে নির্যাতনের পরীক্ষাগার বানানো নয়।
নাৎসি জার্মানির মানবদেহ পরীক্ষা তাই কেবল অতীতের একটি অন্ধকার অধ্যায় নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের জন্যও সতর্কবার্তা। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, গবেষণার ক্ষমতা যত বাড়বে, ততই প্রয়োজন হবে নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং মানবাধিকারের কঠোর সুরক্ষা। কারণ বিজ্ঞান নিজে কখনো মানবিক বা অমানবিক নয়—তার ব্যবহার নির্ধারণ করে মানুষের বিবেক, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ। আর যখন সেই বিবেক হারিয়ে যায়, তখন জ্ঞানের আলোও ভয়াবহ অন্ধকারের জন্ম দিতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ