গঙ্গার পানি নিয়ে বিরোধ বহুদিনের। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব এখন আর শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পানিবণ্টন বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ থেকে বিহার, আর বাংলাদেশের পদ্মা অববাহিকা—সবখানেই গঙ্গার প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন ও পানির সংকট নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। যে বাঁধ নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা, সেই বাঁধই আজ দুই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে গঙ্গার স্বাভাবিক গতিপথে পরিবর্তন এসেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় গঙ্গার গতিপথের পরিবর্তন বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও আলোচনায় উঠে এসেছে, গত কয়েক দশকে গঙ্গা নিজের গতিপথ থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার সরে গেছে। একই সঙ্গে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কোথাও কোথাও কমে প্রায় ৭৫০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নদী দুটির উজানে সংযুক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নদী দুটি যদি স্বাভাবিক মিলনস্থলের আগেই একীভূত হয়ে যায়, তাহলে মালদহের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। গঙ্গার বিপুল জলরাশি নতুন কোনো পথ ধরে প্রবাহিত হলে ভূতনি দিয়ারা ও রতুয়ার মতো নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। শুধু বসতবাড়ি নয়, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও স্থানীয় অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নতুন প্রবাহপথ তৈরি হলে নদীর পুরোনো তীর এবং নতুন তীর—দুই দিকেই ভাঙন বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে মালদহের মানুষের জীবন শুধু বন্যার পানিতে আটকে থাকবে না; দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ও দেখা দিতে পারে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে গঙ্গা ও ফুলহার নদী মিলিত হলেই মালদহ শহর নিশ্চিতভাবে ডুবে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিবর্তে প্রয়োজন নিয়মিত নদী পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা এবং আগাম প্রস্তুতি।
ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে বিহারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যারাজটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। বিহারের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, ফারাক্কা গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পলি পরিবহনের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে নদীর তলদেশে পলি জমছে, নদীর ধারণক্ষমতা কমছে এবং বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
২০১৭ সালে বিহার সরকার ফারাক্কা ব্যারাজের কাঠামো পুনর্বিবেচনা, পলি ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছিল। এমনকি ব্যারাজটি সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছিল। বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ফারাক্কা হটাও, বিহার বাঁচাও’ স্লোগানও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালেও বিহারের পক্ষ থেকে ফারাক্কা ব্যারাজ এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি সামনে এসেছে।
বিহারের অভিযোগের একটি বড় অংশ পলি ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে। গঙ্গা একটি পলিবাহী নদী। উজান থেকে বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে নিয়ে আসে এই নদী। স্বাভাবিক প্রবাহে সেই পলি ভাটির দিকে সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু নদীর প্রবাহে বিভিন্ন ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে পলি জমার ধরন ও অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। এতে নদীর গভীরতা, গতিপথ এবং পানি ধারণক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ে। বিহারের দাবি, ফারাক্কার কারণে গঙ্গার বিভিন্ন অংশে পলি জমার সমস্যা বেড়েছে।
তবে এই দাবির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফারাক্কার কারণে সৃষ্ট পশ্চাৎজলপ্রবাহের প্রভাব একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তাই পাটনা বা বিহারের অন্যান্য অঞ্চলের বন্যার জন্য শুধু ফারাক্কাকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে যথেষ্ট নয়। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, উজানের বৃষ্টিপাত, অন্যান্য অবকাঠামো, পলি পরিবহন এবং জলবায়ুগত পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিহারের আরেকটি বড় আপত্তি পানিবণ্টন নিয়ে। ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় উপলব্ধ পানির ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে পানি ভাগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বিহারের রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, এই চুক্তি প্রণয়নের সময় রাজ্যটির ভবিষ্যৎ পানির চাহিদা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। কৃষি, সেচ, পানীয় জল ও শিল্পের জন্য বিহারেরও বিপুল পানির প্রয়োজন রয়েছে। ফলে তাদের দাবি, নতুন চুক্তি বা যেকোনো পানিবণ্টন সিদ্ধান্তে গঙ্গা অববাহিকার সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। নদী শুধু পানি বহন করে না; নদী বহন করে পলি, মাছ, জলজ প্রাণী এবং একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য। ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ভাগলপুর অঞ্চলের গঙ্গায় গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাসস্থল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল, খাদ্যচক্র এবং প্রজননব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ফারাক্কার প্রভাব আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। কারণ গঙ্গার পানি বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এই পানিপ্রবাহ কমে গেলে তার প্রভাব শুধু পদ্মা নদীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গড়াইসহ বিভিন্ন শাখানদীর প্রবাহ কমে যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে মিঠাপানির সংকট তৈরি হয় এবং সমুদ্রের লবণাক্ত পানি আরও ভেতরের দিকে প্রবেশের সুযোগ পায়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষির ওপর। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ ও উপরিভাগের পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। অনেক এলাকায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। মাটিতে লবণাক্ততা বাড়লে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হয়। মৎস্যজীবীদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। পানীয় জলের উৎসেও লবণাক্ততার প্রভাব দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা সুন্দরবন। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এই সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মিঠাপানির প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেলে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যায়। এতে সুন্দরবনের উদ্ভিদ, প্রাণী, মাছ এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হয়। সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে গঙ্গার পানিপ্রবাহের সংকট শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবেশগত নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত।
এ অবস্থায় ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় খুবই সীমিত। এই আলোচনা কেবল দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ভাগাভাগির বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং নদীর দীর্ঘমেয়াদি প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত পানির চাহিদা এবং অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনাকে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য নতুন চুক্তিতে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম পানিপ্রবাহের কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে। শুধু কাগজে-কলমে পানির হিসাব থাকলেই হবে না, বাস্তবে বাংলাদেশ কতটুকু পানি পাচ্ছে, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, পানিপ্রবাহের দৈনিক ও দশ দিনভিত্তিক তথ্য নিয়মিত প্রকাশ এবং দুই দেশের যৌথ যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তৃতীয়ত, পদ্মা ও গড়াইসহ শাখানদীগুলোর পরিবেশগত পানির চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। চতুর্থত, কৃষি, মৎস্য, পানীয় জল এবং সুন্দরবনের জন্য প্রয়োজনীয় পানির বৈজ্ঞানিক হিসাব নির্ধারণ করতে হবে। পঞ্চমত, চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি গঙ্গা অববাহিকার বৃহত্তর বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের উদ্বেগ বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। তবে তাদের অভিজ্ঞতা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—গঙ্গার সংকট কেবল সীমান্তের দুই পাশে পানি ভাগাভাগির সমস্যা নয়। এটি একটি আন্তঃসীমান্ত নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।
২০২৬ সালের মে মাসে কলকাতায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক এবং ফারাক্কা ব্যারাজে দুই দেশের যৌথ পানিপ্রবাহ পরিমাপের স্থান পরিদর্শন নতুন আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যৌথ নদীগুলোর বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু এসব আলোচনার অগ্রগতি, সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত শর্ত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য পৌঁছানো প্রয়োজন। কারণ গঙ্গার পানি কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের একক বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, গঙ্গাকে আমরা কীভাবে দেখতে চাই? শুধু একটি নদী, যার পানি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ করা হবে? নাকি একটি জীবন্ত নদীব্যবস্থা, যার প্রবাহ, পলি, গতিপথ, জীববৈচিত্র্য এবং অববাহিকার মানুষের জীবন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত?
ফারাক্কার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, নদীকে কেবল প্রকৌশলগত কাঠামো দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তার প্রভাব বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক অঞ্চলের সমস্যা অন্য অঞ্চলের সংকটে রূপ নিতে পারে। মালদহের নদীভাঙন, বিহারের বন্যা ও পলি জমার অভিযোগ এবং বাংলাদেশের শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকট—সবকিছুই বৃহত্তর নদী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।
গঙ্গার পানি নিয়ে বিরোধের সমাধান তাই শুধু নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষা, স্বচ্ছ তথ্য বিনিময়, যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা এবং অববাহিকাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কারণ নদীর কোনো রাজনৈতিক সীমানা নেই। নদীর প্রবাহকে আটকে রাখা যায়, পরিবর্তন করা যায়; কিন্তু তার প্রাকৃতিক ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া একদিন না একদিন মানুষের জীবনেই ফিরে আসে।
ফারাক্কা আজ সেই বাস্তবতারই একটি বড় উদাহরণ। গঙ্গার দুই পারে বসবাসকারী মানুষের কান্না আলাদা হতে পারে, তাদের দাবি ও রাজনৈতিক অবস্থানও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু নদীর সংকট তাদের একই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে—উন্নয়ন ও পানিবণ্টনের নামে নদীর স্বাভাবিক জীবনকে কতটা পরিবর্তন করা যায়, আর সেই পরিবর্তনের মূল্য শেষ পর্যন্ত কাদের দিতে হয়?
আপনার মতামত জানানঃ