বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা কূটনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে। সৌদি আরব ও তুরস্ক বাংলাদেশের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সময়ে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বহুমাত্রিক চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করছে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত বাড়ছে, মাঝারি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নিজেদের স্বার্থ রক্ষার কৌশল তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়। একদিকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার, অন্যদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, শ্রমবাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে শুধু একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর কূটনৈতিক তাৎপর্য আড়ালে থেকে যেতে পারে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসি—এর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্মেলনের সাইডলাইনে সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সেখানে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সৌদি আরব ও তুরস্ক এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করলেও এখনো বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত সাধারণত কেবল তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এর সঙ্গে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া, সামরিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ দেশটি ঐতিহাসিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক ব্লকের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি যুক্ত না করে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও এই বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট জোট বা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার অর্থ অন্য কোনো জোট বা অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের কাজের পরিধি সীমিত হয়ে যাওয়া নয়। বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে সমন্বিত ও নমনীয় উপায়ে পররাষ্ট্রনীতি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয় পরিচালনা করতে হবে। অর্থাৎ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে সরকার এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে সংকুচিত না করে বরং নতুন একটি সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনার সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিবেচনা হতে পারে—চুক্তিটির প্রকৃতি আসলে কী, এর আওতায় কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের কী ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকবে, যৌথ সামরিক কার্যক্রমের পরিধি কতটা এবং বাংলাদেশের ওপর ভবিষ্যতে কী ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক দায় তৈরি হতে পারে। কোনো চুক্তির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও সামরিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পার্থক্য বোঝা তাই অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক, ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এ অঞ্চলের কোনো নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক থাকবে না; বাংলাদেশের অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরও এর প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। ফলে ঢাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—নতুন কোনো নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত হলেও যেন তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যোগাযোগও একই সময়ে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, দ্রুত পররাষ্ট্র পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ এবং কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর বিষয় আলোচনায় এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংলাপও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংলাপ বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব আলাদা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আসছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পেও চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে ঢাকার জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল প্রতিরক্ষা খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বার্থেরও বড় অংশ এর সঙ্গে যুক্ত।
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক-চীন নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলেও বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। অক্টোবরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনা ইঙ্গিত করে যে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আগামী দিনে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত কাঠামোর দিকে এগোতে পারে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের—সিইআইজেড—ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে সম্ভাব্য সহযোগিতার মতো বিষয় এগিয়ে যাচ্ছে। সিইআইজেডে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানিকে আকৃষ্ট করার প্রত্যাশা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এখানে বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক স্বার্থটি অত্যন্ত স্পষ্ট। বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চীনা বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তিস্তা প্রকল্পও কেবল নদী ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় অর্থনীতির প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।
চীন থেকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সহযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত। প্রবাসী আয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাগত মাত্রা বাড়লেও ঢাকার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে।
এই জায়গাতেই মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। বাংলাদেশকে একই সঙ্গে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যেন অন্য পক্ষের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি না করে—এই ভারসাম্যই হবে ঢাকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রচলিত মূলনীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এই নীতি বাস্তবায়ন আগের তুলনায় কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং নতুন নতুন সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিবেশ ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য একক কোনো শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী সম্পর্ক তৈরি করা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
তবে বহুমুখী সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জোটে একসঙ্গে যুক্ত হতে হবে। বরং প্রতিটি সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রয়োজন। মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কী পাবে, কী ধরনের দায়িত্ব নেবে, ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে সামরিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নিতে হতে পারে এবং এতে দেশের অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
একইভাবে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংলাপও হতে হবে স্বচ্ছ ও বাস্তববাদী ভিত্তিতে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, কিন্তু সেই সক্ষমতা যেন কোনো বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে না যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের ইতিবাচক মনোভাব, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপের প্রস্তুতি—দুটি ঘটনাই দেখাচ্ছে যে বাংলাদেশ একই সময়ে একাধিক কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে।
এই নীতির সাফল্য নির্ভর করবে ভারসাম্য রক্ষার দক্ষতার ওপর। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি, যেখানে নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকবে কিন্তু অন্ধ আনুগত্য থাকবে না; অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব থাকবে কিন্তু অতিনির্ভরতা থাকবে না; আন্তর্জাতিক জোটে অংশগ্রহণ থাকবে কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়া হবে না।
মক্কা চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও আসেনি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে সিদ্ধান্তের চেয়ে আলোচনার পর্যায়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আলোচনার এই পর্যায় থেকেই একটি বিষয় পরিষ্কার—পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। আগামী দিনে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ধারণ করবে ঢাকা কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ