
কাতারভিত্তিক এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালান অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কাতার। “এই সব সমস্যার মূল হচ্ছে এই যুদ্ধ,” সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন মান্নান।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার বাংলাদেশের বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী। গত বছর প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করলেও এবছর কাতারের কাছ থেকে এসেছে ৪১.৫ লাখ টন। পেট্রোবাংলার সঙ্গে কাতারএনার্জির দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে—একটি ২৫ লাখ টন এবং অন্যটি ১৮ লাখ টন বার্ষিক সরবরাহের।
যুদ্ধ শুরুর আগে কাতার থেকে গত বছর ১৯টি এলএনজি ভর্তি জাহাজ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে আর কোনো এলএনজি কার্গো পায়নি বাংলাদেশ। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি কার্গো কিনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি বলাস্ট এলএনজি ট্যাংকার প্রবেশ করতে পেরেছে এবং কয়েকটি কার্গো জাহাজ পরিবহন করলেও তার কোনোটি বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা বিকল্প উৎস খুঁজছে। আব্দুল মান্নান জানান, স্পট মার্কেট থেকে বেশি কেনা এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার চুক্তির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। কাতার জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এলএনজি সরবরাহে এই নাটকীয় পরিবর্তন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত জানানঃ