Trial Run

সমীক্ষা: ৫২ শতাংশ মানুষের পছন্দ মমতা, ২৭ শতাংশ  বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে দিন যত গড়িয়ে যাচ্ছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির সাথেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিজেপি এবারই তাদের শক্ত পা রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হিসাবে তাকেই ভাবা হচ্ছে। তবে বিজেপি মমতার তৃণমূলকে কতটা ঘায়েল করতে পারবে এনিয়ে রয়েছে সংশয়। কেননা বিভিন্ন সমীক্ষা আর জরিপে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের নিকট মমতা এখনো তুমুল জনপ্রিয়।

গতকাল সোমবার ‘ডাব্লিউবি ইলেকশন সি-ভোটার ওপিনিয়ন পল ২০২১ লাইভ’ নামে একটি জনমত সমীক্ষা করছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ। এই সমীক্ষার তৃতীয় দফাও বলছে, এবারও ক্ষমতায় আসতে পারে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি পছন্দের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে রাজ্যের ১৯ হাজার ৩১৪ জন ভোটার নিজেদের মতামত দেন। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৫২ শতাংশ মানুষের পছন্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ২৭ শতাংশ মানুষের পছন্দ রাজ্য বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ।

সমীক্ষা বলছে, বিধানসভা ভোটে তৃণমূল পেতে পারে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ অতিক্রম করে ১৫০ থেকে ১৬৬টি আসন। আর বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১১৪টি আসন। বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট পেতে পারে ২৩ থেকে ৩১টি আসন। আর অন্যরা পেতে পারে ৫টি আসন।

এছাড়া সমীক্ষার তথ্য, পশ্চিমবঙ্গে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বেকারত্ব। রাজ্যের ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করছেন এটা। এছাড়া ৫৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এবার ভোটের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়বে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় রয়েছে ২৯৪টি আসন। রাজ্য সরকার গড়তে এখানে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সেই হিসাবে বলা চলে, এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ফলে বিপুল ভোটে জিততে পারবে না তৃণমূল বা বিজেপি কেউই। তবে জরিপের হিসাবমতে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত দ্বিতীয় সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূল পেতে পারে ১৪৮ থেকে ১৬৪টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯২ থেকে ১০৮টি আসন। আর বাম-কংগ্রেস জোট পেতে পারে ৩১ থেকে ৩৯টি আসন। অর্থাৎ তৃতীয় দফার সমীক্ষায় তৃণমূলের আসন বেড়েছে।

এছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রথম দফা জরিপে বলা হয়েছিল, তৃণমূল পেতে পারে ১৫৪ থেকে ১৬২টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৬টি আসন। আর বাম-কংগ্রেস জোট পেতে পারে ২৬ থেকে ৩৪টি আসন।

পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে কোন বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলবে, এই প্রশ্নের জবাবে ২৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মমতার দুয়ারে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি। ২৫ শতাংশ ভোটার এ কথা বলেছেন। তৃতীয় স্থানে, তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ। ১৯ শতাংশ ভোটার এমনটা বলেছেন। আবার ৪ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছে সারদা, নারদে অভিযুক্তদের বিজেপিতে নেওয়া, ৪ শতাংশ ভোটারের মত, বাম-কংগ্রেস জোটের প্রভাব এবং ৫ শতাংশ ভোটারের মতে জাতীয়তাবাদ বনাম আঞ্চলিকতাবাদের প্রভাবকে।

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২১১টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৩টি আসন। আর বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছিল ৭৭টি আসন। বাম-কংগ্রেস প্রধান বিরোধী শক্তি হয়েছিল। সম্ভাবনা তৈরি করেও ক্ষমতার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেনি বাম-কংগ্রেস। বিপুল আসনে জিতে সেবারও ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০০১-এ তৃণমূল যেমন হারাতে পারেনি সিপিএমকে, বিজেপিও হারাতে পারবে না তৃণমূলকে। সেবার তৃণমূল আওয়াজ তুলেছিলেন ‘এবার নয় নেভার’। সেবার কিন্তু পরিবর্তন হয়নি। আরও ১০ বছর বহাল তবিয়তে রাজত্ব করেছে বামেরা।

২০২১-এ সেই পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেবারও (২০০১) সিপিএম বিরোধী হাওয়া উঠেছিল। তৃণমূল বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাম জমানার অবসান ঘটাতে। কিন্তু সফল হয়নি তৃণমূল-কংগ্রেসের জোট। ফের বিপুল ক্ষমতা নিয়ে ফিরেছিল সিপিএম সরকার।

তারপর ২০১১ সালে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে তৃণমূল কংগ্রেস বাম জমানার ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবর্তনের সরকার গড়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে ১০ বছর।

মাঝে ২০১৬ সালেও বাম-কংগ্রেস জোটকে উড়িয়ে তৃণমূল বিপুল ক্ষমতা লাভ করেছিল। এবার ২০২১-এ তাদের নয়া প্রতিপক্ষ বিজেপি।

বিজেপি ২০১৯-এর লোকসভায় ১৮ আসনে জিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। তাই ২০২১-কে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে তারা।

বিজেপি হাওয়া তুলেছে এবার তৃণমূলকে হারিয়ে প্রকৃত পরিবর্তন আনার। তৃণমূলকে ভেঙে ক্ষমতা খর্ব করেই তারা পসার লাভ করতে চাইছে। কিন্তু বিজেপির পক্ষে এভাবে তৃণমূলকে হারানো সম্ভব হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।  বিজেপি সেয়ানে সেয়ানে লড়ার মতো জায়গায় এলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, এবার বিজেপির অবস্থা ২০০১-এর তৃণমূলের মতো হবে। তৃণমূল যেমন সেবার হাওয়া তুলেও সিপিএমকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি, এবার বিজেপিও পারবে না তৃণমূলকে হারাতে।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ব্যক্তি ও নেত্রী মমতার ইমেজ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে উজ্জ্বল। অন্য দলগুলো মমতার সামনে কার্যকরী বিকল্প হিসেবে কাউকেই দাঁড় করাতে পারছে না। সে কারণে ভোটের মাঠে মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৩৫২ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    30
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ