Trial Run

যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন, বৈশ্বিক টিকাদানের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ধরা পড়া নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস তুলনামূলক বেশি সংক্রামকই শুধু নয়, বেশি প্রাণহানীরও কারণ হতে পারে এমন তথ্য জানিয়েছেন ‍বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব যখন কোভিড টিকার পর্যাপ্ত ডোজের সঙ্কটে, ঠিক তখনই এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক টিকাদানের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং টিকাদানে সফল দেশগুলোকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে করোনার নতুন ধরন।

যুক্তরাজ্যের কেন্ট অঞ্চলে প্রথম শনাক্ত করা হয় করোনাভাইরাসের অভিযোজিত অতি সংক্রামক একটি বংশজ। এটি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, বিদ্যমান টিকার আওতায় এর বিরুদ্ধে বেশি সুরক্ষা না পাওয়ার ফলেই তা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের জেনেটিক সার্ভেইলেন্স পোগ্রামের প্রধান।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের তিনটি প্রধান ধরন নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন। এগুলো হচ্ছে, প্রথমত: দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া ধরন, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যেটি ২০১/৫০১ওয়াই.ভি২ কিংবা বি.১.৩৫১ নামে পরিচিত। দ্বিতীয়ত: ব্রিটিশ বা কেন্ট ধরন; বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যেটি ২০১/৫০১ওয়াই.ভি১ কিংবা বি.১.১.৭ নামে পরিচিত। আর তৃতীয়ত: ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়া ধরন, যার বৈজ্ঞানিক নাম পি.১।

বৃহস্পতিবার বিবিসি’র ‘নিউজকাস্ট পডকাস্ট’প্রোগ্রামে শ্যারন পিকক নামের শীর্ষ বৈজ্ঞানিকের বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনটি ব্যাপক প্রাধ্যান্য লাভ করেছিল এবং তা খুব সম্ভবত বাকি দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।’ ভাইরাসটি তুলনামূলকভাবে ৩০ ভাগ বেশি প্রাণঘাতী৷ ষাটোর্ধ্বদের ক্ষেত্রে মূল করোনা ভাইরাসে প্রতি এক হাজার সংক্রমণে যেখানে দশজনের মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, সেখানে নতুন ভাইরাসে এই হার ১৩ থেকে ১৪ জন বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

করোনা মহামারিতে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ২৩ লাখ মানুষ, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তছনছ হয়েছে শত শত কোটি মানুষের। তারমধ্যেই, অভিযোজিত জীবাণুর হাজারও ধরনের মধ্যে; কোনো কোনোটির সম্পর্কে বেশি উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী মহল। তাদের ভয় হলো; মারাত্নক ধরনগুলোর জন্যে হয়তো অনুমোদিত টিকাকে পুনঃগবেষণার মাধ্যমে উন্নয়ন করতে হবে। আবার অনেকক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

শ্যারক পিকক আরও জানান, এপর্যন্ত যুক্তরাজ্যে দেওয়া করোনার টিকাগুলো নতুন ধরনটি প্রতিরোধে সফল হলেও, আগামীদিনের অভিযোজন সেই প্রতিষেধকের সুরক্ষা অকার্যকর করে তোলার হুমকি সৃষ্টি করেছে।

করোনাভাইরাসের এই ধরনটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে শনাক্ত হয়েছিল এবং পরের কয়েকমাসেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতেই জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যজুড়ে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের চাইতে এই ধরন ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক এবং ৩০ শতাংশ বেশি মারাত্মক হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশ ধরন অর্থাৎ কেন্ট বি.১.১.৭ ধরনটি অন্যান্য ধরনের চাইতে অনেক বেশি সংক্রামক এবং এটি বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনটি নিত্যনতুন যে রূপ নিচ্ছে তাতে তা টিকাদান প্রচেষ্টাও নস্যাৎ করে ফেলতে পারে। ধরনটি এরই মধ্যে পাঁচবার রূপ বদল করেছে। পিকক বলেন, একবার আমরা এই ভাইরাসকে জয় করতে পারলে কিংবা ভাইরাসটি আপনা থেকেই কম সংক্রামক হয়ে পড়লেই কেবল আমরা উদ্বেগ মুক্ত হতে পারব। কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে, সে অবস্থায় পৌঁছতে কয়েকবছর লেগে যাবে। আমার মতে, আমাদের এখনও ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলেন তিনি।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৪২০

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ