বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা, মার্কিন সরকারি বন্ডকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, আর বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় একটি অংশ কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই দেশটির জাতীয় ঋণ যখন ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৪০ লাখ কোটি ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজার, সুদের হার, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে সমকাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ এখন প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হলো, এই ঋণ স্থির কোনো অঙ্ক নয়; বরং তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার ডলার করে যুক্ত হচ্ছে মার্কিন সরকারের ঋণের খাতায়। অর্থাৎ এক দিনে ঋণ বাড়ছে প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে এই গতি কত বড় অঙ্কে পৌঁছায়, তা বুঝতে খুব বেশি হিসাবের প্রয়োজন হয় না।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো গত এক দশকের পরিবর্তন। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় দেশটির জাতীয় ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু কম। মাত্র এক দশকের মধ্যে তা দ্বিগুণ হয়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে চলে গেছে। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির ঋণের আকার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা একসময় কল্পনাও করা কঠিন ছিল।
অবশ্য শুধু ঋণের অঙ্ক দেখেই একটি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশাল, দেশটির আয় করার সক্ষমতাও অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের বিশেষ অবস্থান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণ ডলার রিজার্ভে রাখে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের বড় অংশও ডলারে হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে এমন ঋণের বোঝা বহন করতে পারে, যা অন্য অনেক দেশের জন্য দ্রুত সংকট তৈরি করতে পারে।
তবু ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ঋণ যত বাড়ে, তার ওপর সুদ পরিশোধের ব্যয়ও তত বাড়তে থাকে। আর এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে মার্কিন সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের হিসাবে, সরকারের মোট কর আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই এখন ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে সরকার যে অর্থ সংগ্রহ করছে, তার একটি বড় অংশ নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অবকাঠামোয় ব্যয় না করে পুরোনো ঋণের সুদ মেটাতেই চলে যাচ্ছে।
এই জায়গাটিই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। ঋণের মূল টাকা পরিশোধ না করে যদি বারবার নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণের সুদ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হয়, তাহলে ঋণের বোঝা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। একসময় সরকারের বাজেটের বড় অংশ বাধ্যতামূলকভাবে ঋণ ব্যবস্থাপনায় আটকে যেতে পারে। তখন অন্য খাতে ব্যয় কমানো অথবা কর বাড়ানোর মতো রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ এত দ্রুত বাড়ল কেন—এই প্রশ্নের উত্তরও একক কোনো কারণে পাওয়া যাবে না। বহু বছর ধরেই দেশটির সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অন্যদিকে কর কমানো বা কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে সরকারের রাজস্বও কমেছে। ফলে ব্যয়ের তুলনায় আয় কম থাকায় ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে ধার করতে হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একের পর এক বড় অর্থনৈতিক সংকট। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল। এরপর আসে কোভিড-১৯ মহামারি। অর্থনীতি সচল রাখা, নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে মহামারির সময়ও মার্কিন সরকার বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। সেই অর্থের একটি বড় অংশ এসেছে ঋণের মাধ্যমে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সুদের হার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছর ধরে সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সরকারি ঋণের ওপর। পুরোনো বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে ঋণ নিতে গেলে সরকারকে অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি সুদ দিতে হয়। ফলে একই পরিমাণ ঋণ থাকলেও সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদ এরিক সোয়ানসনের মতে, এক দশক আগের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো সুদের হার। দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে তুলনামূলকভাবে উঁচু পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা যেমন এর পেছনে কাজ করছে, তেমনি সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সরকার যখন বেশি বেশি ঋণ নিতে থাকে, তখন সরকারি বন্ড কিনতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হতে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি ও বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করে বেশি মুনাফা চাইতে পারেন। এর ফলে সরকারের নতুন ঋণের খরচ আরও বাড়ে। এক অর্থে এটি একটি চক্র তৈরি করে—ঋণ বাড়ে, সুদের ব্যয় বাড়ে, সেই ব্যয় মেটাতে আরও অর্থ প্রয়োজন হয়, আর সেই অর্থের জন্য আবার নতুন ঋণ নিতে হয়।
এখানে আরেকটি নতুন প্রতিযোগিতাও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছে। তাদেরও ঋণের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য মার্কিন সরকার এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি খাত যদি বেশি সুদ দিতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সরকারের জন্য কম খরচে ঋণ নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র এখনই অর্থনৈতিক ধসের মুখে পড়েছে। দেশটির ঋণ-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১২৬ শতাংশ হলেও জাপান ও ইতালির মতো কয়েকটি উন্নত দেশের তুলনায় এটি এখনও কম। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার বিশাল এবং ডলারের আন্তর্জাতিক অবস্থান দেশটিকে বিশেষ সুবিধা দেয়। বিশ্বের বহু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী মার্কিন সরকারি বন্ডকে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন।
এই কারণেই অর্থনীতিবিদেরা বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘সংকট’ না বলে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন। মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের ভাষায়, এটি এখনো ‘লাল সংকেত’ নয়, বরং ‘হলুদ সংকেত’। অর্থাৎ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেনি যেখানে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় আসন্ন, কিন্তু ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়াতে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গা হতে পারে মার্কিন সরকারি বন্ডের বাজার। বিনিয়োগকারীরা যদি কোনো এক পর্যায়ে মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের গতি আর টেকসই নয়, তাহলে তারা সরকারি বন্ড থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। তখন বন্ডের দাম কমে যেতে পারে এবং সরকারকে নতুন ঋণ নিতে আরও বেশি সুদ দিতে হতে পারে। এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্বব্যাপী সুদের হার ও আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
কারণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, পেনশন ফান্ড এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব বন্ডে বিনিয়োগ করে। ফলে মার্কিন সরকারি ঋণবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার ঢেউ অন্যান্য দেশেও পৌঁছাতে পারে।
এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে বাড়ি কেনার মর্টগেজ ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদ বাড়তে পারে। উচ্চ সুদের কারণে মানুষের মাসিক ব্যয় বাড়বে এবং নতুন করে ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো এতে বেশি চাপে পড়তে পারে।
ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব দেখা দিতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বেশি সুদে ঋণ নেয়, তাহলে তার উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বাড়ে। সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে সরকারি ঋণের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে পথ কী? সবচেয়ে সহজ উত্তর হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং একই সঙ্গে রাজস্ব ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। অর্থনীতি দ্রুত বাড়লে সরকারের কর আদায় বাড়তে পারে। তখন ঋণের সুদ ও অন্যান্য ব্যয় সামলানো তুলনামূলক সহজ হবে। কিন্তু প্রবৃদ্ধি যদি ধীর হয়ে যায়, তখন একই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠবে।
সেক্ষেত্রে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। করব্যবস্থায় সংস্কার করে রাজস্ব বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচিতে কৃচ্ছ্রসাধনের মতো পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। কারণ কর বাড়ানো কিংবা সামাজিক ও সরকারি ব্যয় কমানো—দুটিই সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি ইতিমধ্যে সরকারি ঋণের কিছু বন্ড পুনরায় কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে সাময়িকভাবে বন্ডের চাহিদা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ আবার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, সমস্যাটি কতটা গভীর। শুধু বাজারে সাময়িক হস্তক্ষেপ করে এই দীর্ঘমেয়াদি ঋণচাপের সমাধান করা সম্ভব নয়।
শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ঋণের গতি নিয়ন্ত্রণ করা। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার নিজেই হয়তো তাৎক্ষণিক বিপদের নাম নয়। কিন্তু যে গতিতে ঋণ বাড়ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার করে ঋণ বাড়ার অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও অনেক সুবিধা রয়েছে। ডলারের আধিপত্য, বিশাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী আর্থিক বাজার দেশটিকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি সময় দিয়েছে। কিন্তু এই সুবিধা সীমাহীন নয়। ঋণের পাহাড় যত বড় হবে, তার সুদ পরিশোধের চাপও তত বাড়বে। আর সেই চাপ যদি একসময় সরকারের আয় ও ব্যয়ের বড় অংশ গ্রাস করে ফেলে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতিকেও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে।
তাই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণকে শুধু একটি বিশাল সংখ্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। এর আসল প্রশ্ন হলো—এই ঋণ কত দ্রুত বাড়ছে, কত সুদ দিতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেই ঋণের বোঝা বহন করার মতো প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র ধরে রাখতে পারবে কি না। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু সতর্কবার্তাটি স্পষ্ট—ঋণের গতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আজকের ‘হলুদ সংকেত’ আগামী দিনে আরও গুরুতর সতর্কতায় পরিণত হতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ