বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু যে এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে নতুন করে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হবে না বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে দ্য ডনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারত সফর নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাঁর বক্তব্যে সরাসরি সফর বাতিলের ঘোষণা না থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি এখন সম্ভাব্য ভারত সফরের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রত্যর্পণ ইস্যু, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেবল একটি কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং এটি দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয় এবং তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সেই অনুরোধ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি তাদের কাছে ‘পরীক্ষাধীন’ রয়েছে।
এই অবস্থায় শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা ঢাকার জন্য আরও স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যেও বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও শেখ হাসিনা ভারতের মাটি থেকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এখানেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিবেশ কতটা অনুকূল, সেটি কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি প্রয়োজন। অর্থাৎ ঢাকা চাইছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার আগে এমন কিছু বিষয় সমাধানের পথে এগোক, যেগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে। বরং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বিপরীত বার্তাই পাওয়া যায়। শহীদুল করিম বলেছেন, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে চায়। এই নীতির কেন্দ্রে থাকবে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অবস্থান। একই সঙ্গে ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
এই অবস্থান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। একদিকে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার। অন্যদিকে নতুন সরকার তার পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ফলে ভারতকে এড়িয়ে চলা নয়, বরং সম্পর্কের শর্ত ও কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করার চেষ্টা চলছে—এমন ব্যাখ্যাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অগ্রগতি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সম্ভাব্য সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনাও জোরালো হয়।
কিন্তু সফরের আগে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি আবারও সামনে চলে আসে। এর ফলে সম্ভাব্য সফরটি এখন কেবল দুই দেশের সৌজন্য সাক্ষাৎ বা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সফরটি হলে তার রাজনৈতিক বার্তা কী হবে, কোন বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আসবে এবং বাংলাদেশ কী ধরনের কূটনৈতিক অবস্থান নেবে—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি রাজনৈতিক ও বিচারিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের অবস্থান হলো, যাঁদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে মামলা হয়েছে এবং যারা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যর্পণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারত যেহেতু শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থানের দেশ, তাই এই বিষয়ে ভারতের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ভারতের জন্য বিষয়টি কেবল দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির প্রশ্ন নয়। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব আইন, আদালতের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিবেচনাও রয়েছে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত ভারতের সরকার এককভাবে নেবে না; বিষয়টি ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রত্যাশা এবং ভারতের আইনি কাঠামোর মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
তারেক রহমানের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে তাই একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে—ঢাকা কি প্রত্যর্পণ ইস্যুকে সফরের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে, নাকি এটিকে সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য থেকে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই তুলনামূলকভাবে বেশি স্পষ্ট। তিনি সফরের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ভাষার রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। কারণ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলো সাধারণত প্রকাশ্যে কঠোর শর্তের পরিবর্তে পরিমিত ও কৌশলগত ভাষা ব্যবহার করে। ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির কথা বলা তাই সরাসরি সফর প্রত্যাখ্যানের চেয়ে ভিন্ন একটি কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে ঢাকা একদিকে সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করছে না, অন্যদিকে ভারতকে বোঝাচ্ছে যে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের পথে অগ্রগতি ছাড়া সফরকে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখা কঠিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের বিদেশ সফরের ধারাবাহিকতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ভেঙে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে ভারত না গিয়ে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এই ঘটনাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভৌগোলিক নৈকট্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে ভারত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু বর্তমান সরকার যে একাধিক শক্তির সঙ্গে সমান্তরালভাবে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে, তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা বলা সেই কৌশলকে আরও স্পষ্ট করে। এর অর্থ যদি বাস্তব পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিফলিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ ভারতসহ কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে। চীন, মালয়েশিয়া, ভারত কিংবা পশ্চিমা দেশ—প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা স্বার্থ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হতে পারে।
তবে ভারত বাংলাদেশের জন্য এমন একটি প্রতিবেশী, যার সঙ্গে সম্পর্ক অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি জটিল ও বহুমাত্রিক। দুই দেশের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন ও আঞ্চলিক রাজনীতির মতো নানা বিষয় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অর্থনীতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
এ কারণেই তারেক রহমানের ভারত সফর শেষ পর্যন্ত হলে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। আর যদি সফর পিছিয়ে যায়, সেটিও একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান যে দৃঢ়, সেটি আরও স্পষ্ট হবে। তবে একই সঙ্গে সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কৌশলও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দ্য ডনের প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে বোঝা যায়, ঢাকা আপাতত ভারতকে সরাসরি দূরে সরিয়ে দেওয়ার নীতি নিচ্ছে না। বরং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি চেয়ে সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে সাজাতে চাইছে। এই অবস্থান একদিকে রাজনৈতিকভাবে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে কূটনৈতিকভাবেও ভারসাম্যপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর হবে কি না, সেটি নির্ভর করতে পারে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারত কী ধরনের অবস্থান নেয় তার ওপর। শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রশ্নটির সমাধান রাতারাতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া যেমন যুক্ত, তেমনি ভারতের আইন ও আদালতের প্রক্রিয়াও রয়েছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে শেখ হাসিনার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়, কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও দিতে চাইছে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।
সফরটি শেষ পর্যন্ত কবে হবে, আদৌ হবে কি না, কিংবা সফরের আগে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু ঢাকার সাম্প্রতিক বক্তব্য অন্তত এটুকু বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের কাছে ভারত সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিচার, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো। তাই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের দিকে শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের রাজনৈতিক মহল নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলেরও নজর থাকবে।
আপনার মতামত জানানঃ