
প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে নাগরিকেরা নিয়মিত কর দিচ্ছিলেন—কখনো মুদ্রায়, কখনো শস্য ও কৃষিপণ্যে। কর আদায়কারীরাও রসিদ দিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই রসিদে লেখা থাকত না কত টাকা বা কত পরিমাণ পণ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে করদাতার কাছে অর্থ পরিশোধের প্রমাণ থাকলেও আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ যাচাই করার উপায় ছিল না।
এই অস্পষ্টতার সুযোগেই গড়ে উঠেছিল দীর্ঘমেয়াদি এক দুর্নীতির ব্যবস্থা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জনগণের কাছ থেকে এক অঙ্কের কর আদায় করতেন, রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে পাঠানো হিসাবে দেখাতেন তার চেয়ে কম। মাঝখানের অর্থ বা পণ্য চলে যেত তাঁদের নিজেদের পকেটে।
ঘটনাটি আজকের ভাষায় ‘রাজস্ব জালিয়াতি’, ‘ভুয়া হিসাব’ কিংবা ‘কর কেলেঙ্কারি’। পার্থক্য শুধু এটুকু—কেলেঙ্কারির নথি কোনো ডিজিটাল ডেটাবেজে নয়, খোদাই করা হয়েছিল পাথরে।
কবরের কবিতা নয়, দুর্নীতিবিরোধী ফরমান
২০২৪ সালে বর্তমান তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন নগরী স্ট্রাটোনিকেইয়ায় কয়েকটি শিলালিপির খণ্ড পাওয়া যায়। শুরুতে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারণা করেছিলেন, এগুলো সম্ভবত কোনো সমাধিফলকের কবিতা।
পরবর্তী গবেষণায় পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাভেল নোভাকোভস্কি এবং তুরস্কের আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুস্তাফা আদাক খণ্ডগুলোর লেখার সঙ্গে আগে পরিচিত একটি রাজকীয় নির্দেশের মিল খুঁজে পান। একই নির্দেশের অনুলিপি স্ট্রাটোনিকেইয়া ছাড়াও মাইলাসা ও কেরামোস নগরীতে প্রদর্শিত হয়েছিল।
এটি ছিল ১ আগস্ট ৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে জারি করা একটি প্রশাসনিক ফরমান। পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের প্রিটোরিয়ান প্রিফেক্ট ফ্লাভিয়াস ইলুস পুসায়ুস ডায়োনিসিয়াস এতে ক্যারিয়া অঞ্চলের কর প্রশাসনে চলা ব্যাপক জালিয়াতি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। Archaeology Magazine
শিরোনামে ‘দুই হাজার বছর আগে’ বলা হলেও আবিষ্কৃত এই নির্দিষ্ট কেলেঙ্কারিটি প্রায় ১,৫০০ বছর আগের। তবে রোমান করব্যবস্থায় বেসরকারি কর-ইজারাদার ও ক্ষমতাবান কর্মকর্তাদের অনিয়মের ইতিহাস আরও পুরোনো—রোমান প্রজাতন্ত্রের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
দুর্নীতির কৌশলটি কী ছিল?
কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে ছিল সম্রাট তৃতীয় ভ্যালেন্তিনিয়ানের কন্যা প্লাসিডিয়ার মালিকানাধীন কয়েকটি ভূসম্পত্তি। এসব জমির সঙ্গে যুক্ত কৃষক ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে অর্থ ও কৃষিপণ্যে কর আদায় করা হতো।
করদাতাদের দেওয়া রসিদে অর্থের পরিমাণ, পণ্যের ওজন কিংবা পরিমাপের একক উল্লেখ করা হতো না। ফলে প্রশাসনের হাতে একই লেনদেনের দুটি ভিন্ন হিসাব তৈরি করার সুযোগ থাকত।
দুর্নীতির সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি ছিল এমন:
- করদাতার কাছ থেকে নির্ধারিত বা তার চেয়েও বেশি অর্থ ও পণ্য আদায় করা হতো।
- পরিমাণবিহীন একটি রসিদ দিয়ে করদাতাকে বিদায় করা হতো।
- কেন্দ্রীয় কোষাগারের হিসাবে আদায়ের পরিমাণ কম দেখানো হতো।
- অবশিষ্ট অর্থ বা পণ্য স্থানীয় কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা আত্মসাৎ করতেন।
- সঠিক রসিদ না থাকায় করদাতার পক্ষে প্রকৃত পরিমাণ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ত।
অর্থাৎ জালিয়াতির প্রধান অস্ত্র ছিল হিসাবের অস্বচ্ছতা। একই সঙ্গে কর আদায়, রসিদ প্রস্তুত এবং কেন্দ্রের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষমতা যখন একই গোষ্ঠীর হাতে থাকে, তখন তারা নিজেদের তৈরি হিসাব দিয়েই নিজেদের বৈধ প্রমাণ করতে পারে।
অভিযোগ ছিল, কিন্তু ব্যবস্থা আসেনি
গবেষকদের মতে, প্রায় ৪৬৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই এ অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের একটি আগের হস্তক্ষেপও স্থানীয় কর্মকর্তারা কার্যত উপেক্ষা করেন। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে অভিযোগ, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় ক্ষমতার যোগসাজশের মধ্যে জালিয়াতি চলতে থাকে।
এখানে দুর্নীতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়। অনিয়ম শুধু কয়েকজন কর আদায়কারীর ব্যক্তিগত লোভের ফল ছিল না। তাঁদের রক্ষা করার মতো একটি স্থানীয় ক্ষমতাবলয়ও সম্ভবত সক্রিয় ছিল। প্রাদেশিক প্রশাসক, নগর কর্তৃপক্ষ কিংবা তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কার্যকর ব্যবস্থা নিলে একই পদ্ধতিতে এত বছর জালিয়াতি চালানো কঠিন হতো।
অভিযোগ কেন্দ্রে পৌঁছালেও রাজধানী ও প্রদেশের মধ্যকার দূরত্ব, ধীর যোগাযোগ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যনিয়ন্ত্রণ তদন্তকে বিলম্বিত করেছিল। কেন্দ্র জানত শুধু সেই তথ্য, যা প্রদেশের কর্মকর্তারা তাকে জানাতে চাইতেন।
তিন মাসের সময়সীমা, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
৪৮০ খ্রিষ্টাব্দের ফরমানটিতে একজন বিশেষ কমিশনার বা তদন্তকারীকে ওই অঞ্চলে পাঠানোর কথা বলা হয়। তাঁকে তিন মাসের মধ্যে—১ ডিসেম্বরের আগে—মামলার নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছিল।
নির্দেশ অমান্য করলে তদন্তকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারত। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রাদেশিক গভর্নর ও নগররক্ষকদের জন্য ছিল বড় অঙ্কের জরিমানা। আর দুর্নীতিতে জড়িত কর আদায়কারীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড।
রোমান কর-সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশে এমন শাস্তি ছিল অস্বাভাবিক। গবেষকেরা একই সময়ের অন্তত ১১টি নির্দেশের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে করদাতাকে সঠিক রসিদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি ছিল আর্থিক জরিমানা—মৃত্যুদণ্ড নয়। Anatolian Archaeology
শাস্তির এই কঠোরতার দুটি সম্ভাব্য কারণ ছিল। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট ভূসম্পত্তি সম্রাটের পরিবারের সদস্য প্লাসিডিয়ার মালিকানাধীন ছিল। ফলে আত্মসাৎ করা অর্থের সঙ্গে রাজপরিবারের স্বার্থ সরাসরি জড়িত ছিল। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কর্মকর্তারা আগে পাঠানো নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। বিষয়টি তখন শুধু কর ফাঁকি নয়, কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য অবাধ্যতা হিসেবেও দেখা হচ্ছিল।
তবে কাউকে সত্যিই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল কি না, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা, শাস্তির ঘোষণা বাস্তব প্রয়োগের পাশাপাশি ভয় সৃষ্টি এবং সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্ব প্রদর্শনের কৌশলও হতে পারে। Popular Science
পাথরে নির্দেশ খোদাই করার প্রয়োজন কেন?
একই ফরমান অন্তত তিনটি নগরীতে পাথরে খোদাই করে জনসমক্ষে রাখা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য শুধু সরকারি আদেশ সংরক্ষণ নয়; নাগরিকদের জানানোও—কী ধরনের রসিদ পাওয়ার অধিকার তাঁদের আছে এবং কর্মকর্তাদের কী শাস্তি হতে পারে।
আজকের সরকারি গেজেট, ওয়েবসাইট বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তির মতোই শিলালিপি ছিল রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচারের একটি মাধ্যম। পাথরের নির্দেশ সহজে গোপন, পরিবর্তন বা ধ্বংস করা যেত না। একই সঙ্গে এটি ছিল রাজনৈতিক প্রচারণা: রাষ্ট্র জনগণকে দেখাতে চাইছিল, কেন্দ্রীয় সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিভিন্ন শহরে পাওয়া ফরমানের ভাষায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে। এতে বোঝা যায়, অনুলিপি তৈরির সময় স্থানীয় লেখক ও পাথরখোদাইকারীরা কিছু পরিবর্তন করেছিলেন। মূল লেখা ছিল গ্রিক ভাষায়, তবে প্রিফেক্টের স্বাক্ষর অনুকরণ করা হয়েছিল লাতিন অক্ষরে। প্রশাসনিক আদেশের কর্তৃত্ব বোঝাতে স্বাক্ষরটির দৃশ্যমানতাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
করব্যবস্থার ভেতরেই ছিল দুর্নীতির প্রণোদনা
রোমান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিপুল রাজস্ব প্রয়োজন হতো। সেনাবাহিনীর বেতন, সীমান্ত প্রতিরক্ষা, সড়ক, প্রশাসন, রাজপ্রাসাদ এবং খাদ্য সরবরাহ—সবকিছুই নির্ভর করত করের ওপর।
রোমান প্রজাতন্ত্রের সময়ে অনেক অঞ্চলে কর আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হতো বেসরকারি ঠিকাদার বা publicaniদের। তারা রাষ্ট্রকে আগাম একটি নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর আদায়ের অধিকার পেত। এরপর জনগণের কাছ থেকে যত বেশি আদায় করতে পারত, তাদের মুনাফা তত বাড়ত।
এই ব্যবস্থায় করদাতার স্বার্থ রক্ষার চেয়ে সর্বোচ্চ আদায়ের প্রণোদনা ছিল বেশি। স্থানীয় গভর্নর এবং কর-ইজারাদারদের যোগসাজশ, কেন্দ্রের কাছে তথ্যের ঘাটতি এবং অসম্পূর্ণ চুক্তি দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তী সময়ে অগাস্টাসসহ রোমান সম্রাটেরা জনগণনা, কেন্দ্রীয় হিসাব এবং সাম্রাজ্যিক কর্মচারীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবুও বিশাল সাম্রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চলে তথ্য ও তদারকির ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়নি। European Journal of Law and Economics
স্ট্রাটোনিকেইয়ার ঘটনাটি তাই বিচ্ছিন্ন কোনো অসৎ কর্মকর্তার গল্প নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার উদাহরণ, যেখানে—
- করদাতা জানতেন না সরকারি হিসাবে কত অর্থ জমা হয়েছে;
- কেন্দ্র জানত না মাঠপর্যায়ে প্রকৃতপক্ষে কত আদায় করা হয়েছে;
- রসিদ ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্পূর্ণ রাখা হতো;
- স্থানীয় কর্মকর্তারা পরস্পরকে সুরক্ষা দিতে পারতেন;
- অভিযোগের নিষ্পত্তি দীর্ঘদিন বিলম্বিত হতো।
এই তথ্য-অসমতাই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হয়ে উঠেছিল।
দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার নিজের পরিণতি
ঘটনাটিতে একটি নাটকীয় ঐতিহাসিক বিদ্রূপও রয়েছে। যে প্রিফেক্ট ডায়োনিসিয়াস কর আদায়কারীদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়ে ফরমান জারি করেছিলেন, একই বছরের শেষ দিকে সম্রাট জেনোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এটি কর কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল না। তবে ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, শেষ রোমান যুগে আইন, আমলাতন্ত্র ও প্রাসাদ-রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। যিনি একদিন সাম্রাজ্যের নামে শাস্তি ঘোষণা করতেন, ক্ষমতার পালাবদলে পরদিন তিনিই অভিযুক্ত হতে পারতেন।
দুই যুগের দুর্নীতি কি একই?
আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্যের সরাসরি তুলনা করা সতর্কতার দাবি রাখে। বর্তমান করব্যবস্থা, ব্যাংকিং, নিরীক্ষা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক অধিকার রোমান যুগের চেয়ে মৌলিকভাবে আলাদা।
তবু দুর্নীতির কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রায় অপরিবর্তিত:
| রোমান যুগের কৌশল | আধুনিক সমতুল্য ঝুঁকি |
|---|---|
| পরিমাণহীন রসিদ | অসম্পূর্ণ চালান বা অফ-দ্য-বুক লেনদেন |
| কেন্দ্রে কম হিসাব পাঠানো | রাজস্ব গোপন ও হিসাব জালিয়াতি |
| স্থানীয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশ | নিয়ন্ত্রক সংস্থা দখল বা সংঘবদ্ধ দুর্নীতি |
| অভিযোগ বছরের পর বছর অমীমাংসিত | দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারহীনতা |
| পাথরে কঠোর শাস্তির ঘোষণা | প্রচারনির্ভর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান |
| শাস্তি বাস্তবায়নের প্রমাণ না থাকা | ঘোষণার সঙ্গে প্রয়োগের ব্যবধান |
স্ট্রাটোনিকেইয়ার শিলালিপি দেখায়, দুর্নীতি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিক ব্যর্থতার নাম নয়। অস্পষ্ট রসিদ, দুর্বল নিরীক্ষা, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, তথ্য গোপনের সুযোগ এবং অভিযোগের অকার্যকর ব্যবস্থা—এসব একত্রিত হলে সৎ ব্যক্তি দিয়েও দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করা কঠিন।
পাথরের সতর্কবার্তা
প্রায় দেড় হাজার বছর পর পাথরের খণ্ডগুলো আমাদের সামনে যে গল্প তুলে ধরেছে, তা কেবল রোমান সাম্রাজ্যের অতীত নয়। এটি রাষ্ট্র, রাজস্ব ও জবাবদিহির সম্পর্কের একটি স্থায়ী পাঠ।
নাগরিকের দেওয়া অর্থের সঠিক রসিদ না থাকলে দুর্নীতি শুরু হয় অদৃশ্যভাবে। স্বাধীন নিরীক্ষা না থাকলে সেই দুর্নীতি প্রশাসনিক নিয়মে পরিণত হয়। অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে অপরাধীরা বুঝে যায়—সময় তাদের পক্ষে। আর শাস্তি কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে পাথরের ফরমানও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রদর্শনী হয়ে উঠতে পারে।
রোমান সাম্রাজ্যের কর কেলেঙ্কারি তাই প্রমাণ করে না যে মানুষ জন্মগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। বরং এটি দেখায়, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে প্রতিষ্ঠান; আবার স্বচ্ছ রসিদ, স্বাধীন তদারকি, নাগরিকের অভিযোগের অধিকার এবং নিশ্চিত জবাবদিহিই সেই সুযোগ সংকুচিত করতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ