
দ্বিতীয় শতাব্দীর কোনো এক সন্ধ্যা। দানিয়ুব নদীর উত্তরের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে দ্রুত নেমে আসছে অন্ধকার। একটি রোমান সেনাশিবিরের চারদিকে তখনও দাঁড়িয়ে মাটির প্রাচীর। প্রবেশপথে হয়তো পাহারায় রয়েছে সশস্ত্র সৈনিক। তাঁবুর পাশে রাখা বর্শা, ঢাল ও ভারী সামরিক জুতা। কেউ হয়তো দিনের ক্লান্তি কাটাতে পাশা খেলছে, কেউ অস্ত্র মেরামত করছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে এগিয়ে আসছে এমন কিছু, যার পরিণতিতে শিবিরটি হঠাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
সেখানকার কিছু সৈনিকের দেহ শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকবে প্রতিরক্ষা পরিখায়। কাউকে তাড়াহুড়ো করে পুঁতে রাখা হবে অগভীর কবরে। কিছু দেহ কিংবা দেহাংশ পাওয়া যাবে কূপ ও গর্তের ভেতরে। অস্ত্র, বর্ম, মুদ্রা, সামরিক জুতা—কোনোটিই যথাযথভাবে সংগ্রহ করার সুযোগ পাওয়া যাবে না।
এরপর কেটে যাবে প্রায় দুই হাজার বছর।
শিবিরটির ওপর জমবে মাটির স্তর। রোমান সাম্রাজ্য ভেঙে যাবে, ইউরোপের মানচিত্র বহুবার বদলাবে। যে সমভূমিতে একদিন রোমান সেনারা তাঁবু ফেলেছিল, সেটিই আধুনিক স্লোভাকিয়ার একটি শিল্পাঞ্চল নির্মাণের জায়গায় পরিণত হবে। অবশেষে ২০২৬ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকদের কোদালের নিচ থেকে আবার বেরিয়ে আসবে হারিয়ে যাওয়া সেই সামরিক ঘাঁটি—সঙ্গে জেগে উঠবে একটি প্রশ্ন: রোমান সেনারা এত তাড়াহুড়ো করে কেন চলে গিয়েছিল?
শিল্পপার্কের নিচে চাপা পড়া যুদ্ধক্ষেত্র
স্লোভাকিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছোট শহর শুরানি। বর্তমান রাজধানী ব্রাতিস্লাভা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই এলাকায় একটি বড় শিল্পপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। নির্মাণ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী ভূমির প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ করতে নামে স্লোভাক একাডেমি অব সায়েন্সেসের প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউট।
গবেষকেরা প্রায় ১৫০ হেক্টর এলাকা পরীক্ষা করার পর দক্ষিণের একটি অংশে অস্বাভাবিক কিছু রেখা ও মাটির কাঠামো শনাক্ত করেন। খনন যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হতে থাকে বিশাল একটি সামরিক স্থাপনার সীমারেখা। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, প্রায় ৭ দশমিক ৪ হেক্টর বা ১৮ একরের বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি রোমান সেনাশিবির মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।

এটি কোনো স্থায়ী পাথরের দুর্গ ছিল না। যুদ্ধাভিযানের সময় রোমান সেনারা যাত্রাপথে যে ধরনের অস্থায়ী কিন্তু সুসংগঠিত শিবির তৈরি করত, শুরানির স্থাপনাটি ছিল তেমন একটি ‘মার্চিং ক্যাম্প’। অল্প সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হলেও এসব শিবির কোনো সাধারণ তাঁবুর সমাবেশ ছিল না। সেনারা চারদিকে পরিখা খনন করত, সেই মাটি দিয়ে উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ বানাত এবং পরিকল্পিত প্রবেশপথ তৈরি করত। ভেতরে তাঁবু, অস্ত্র, খাদ্য, ঘোড়া ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকত।
শুরানির শিবিরে পাঁচটি প্রবেশপথ পাওয়া গেছে। এর একটি ছিল বিশেষ ধরনের বাঁকানো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—রোমান সামরিক স্থাপত্যে যেটি ক্ল্যাভিকুলা নামে পরিচিত। প্রবেশপথের সামনে অর্ধবৃত্তাকার পরিখা ও বাঁধ শত্রুকে সরাসরি ভেতরে ঢুকতে বাধা দিত এবং আক্রমণকারীদের এমনভাবে বাঁক নিতে বাধ্য করত, যাতে পাহারারত সেনারা সুবিধাজনক অবস্থান থেকে তাদের ওপর আঘাত করতে পারে। স্লোভাকিয়ায় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া এ ধরনের প্রথম প্রবেশপথ এটি। Slovak Academy of Sciences
শিবিরটির আকৃতি প্রচলিত রোমান দুর্গের মতো নিখুঁত আয়তাকার নয়। সম্ভবত স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিখা, প্রবেশপথ এবং সামরিক সরঞ্জাম থেকে এটি যে রোমান বাহিনীর স্থাপনা ছিল, সে বিষয়ে গবেষকদের সন্দেহ নেই।
শিবিরের সময়কালও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পাওয়া মুদ্রা ও সামরিক সরঞ্জাম দেখে গবেষকেরা প্রাথমিকভাবে একে খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগের বলে মনে করছেন—অর্থাৎ রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের সময়ে সংঘটিত মার্কোম্যানিক যুদ্ধের যুগ।
যে যুদ্ধে দার্শনিক সম্রাটও সেনাপতি হয়েছিলেন
ইতিহাস মার্কাস অরেলিয়াসকে একজন ‘দার্শনিক সম্রাট’ হিসেবে মনে রেখেছে। তাঁর লেখা মেডিটেশনস আজও স্টোয়িক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। কিন্তু তাঁর শাসনকাল কেবল দর্শনচর্চার সময় ছিল না; রোমান সাম্রাজ্যের উত্তর সীমান্ত তখন একের পর এক যুদ্ধ, মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত।
খ্রিষ্টীয় ১৬৬ থেকে ১৮০ সালের মধ্যে দানিয়ুব সীমান্তে রোমানদের সঙ্গে মার্কোম্যানি, কোয়াদি ও অন্যান্য জার্মানিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ সংঘর্ষ হয়। ইতিহাসে এগুলো মার্কোম্যানিক যুদ্ধ নামে পরিচিত। উত্তরের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী রোমান সীমান্ত অতিক্রম করে সাম্রাজ্যের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। এক পর্যায়ে তারা ইতালির উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা রোমের জন্য বিরাট আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিআক্রমণে মার্কাস অরেলিয়াস নিজেই উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। রোমান বাহিনী দানিয়ুব পার হয়ে বর্তমান স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও আশপাশের অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে। সম্রাট সম্ভবত এই অঞ্চলগুলোকে স্থায়ীভাবে রোমের অধীনে আনার কথাও বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু ১৮০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে কমোডাস যুদ্ধ শেষ করে রোমান সৈন্যদের দানিয়ুবের দক্ষিণে ফিরিয়ে নেন।
শুরানির শিবিরটি সেই উত্তাল সময়ের বাস্তব সাক্ষ্য। এতদিন রোমান সাহিত্য, শিলালিপি ও বিচ্ছিন্ন প্রত্নবস্তু থেকে জানা যেত যে রোমান বাহিনী দানিয়ুবের উত্তরে গভীরভাবে প্রবেশ করেছিল। নতুন শিবিরটি তাদের সেই সামরিক উপস্থিতির সরাসরি ভৌত প্রমাণ। এটি নিত্রা অঞ্চলে আবিষ্কৃত প্রথম রোমান সামরিক শিবির এবং বর্তমান স্লোভাকিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শনাক্ত বিরল কয়েকটির একটি।
তবে স্থাপনাটিকে শুধু মানচিত্রে রোমান অগ্রযাত্রার আরেকটি বিন্দু বানিয়ে রাখেনি এর ভেতরে পাওয়া দৃশ্যগুলো। শিবিরের পরিখা, কূপ, গর্ত ও অগভীর কবর থেকে উদ্ধার হয়েছে সম্পূর্ণ কঙ্কাল এবং বিচ্ছিন্ন মানবহাড়। অনেকের পাশেই পাওয়া গেছে রোমান সৈনিকদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম।
বর্শা ও তীরের ফলা, শিরস্ত্রাণের অংশ, খণ্ডিত বর্ম, আঁশের মতো ধাতব পাত দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষাবর্ম, রোমান লিজিওনারিদের ব্রোচ এবং মুদ্রা—সব মিলিয়ে মৃতদের বড় অংশ রোমান সেনা হতে পারেন বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন। পাওয়া গেছে সামরিক স্যান্ডেলের তলায় বসানো লোহার পেরেকও। এসব পেরেকের অবস্থান থেকে কোনো কোনো সৈনিকের পায়ের মাপ পর্যন্ত অনুমান করা সম্ভব হতে পারে।
যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনিসের পাশাপাশি পাওয়া গেছে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট চিহ্ন—কুঠার, কাটার সরঞ্জাম এবং একটি খেলার পাশা। সেই পাশাটিই যেন ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সবচেয়ে মানবিক বস্তু। যাঁরা এখানে অবস্থান করেছিলেন, তাঁরা শুধু সাম্রাজ্যের বর্ম পরা নামহীন সৈনিক ছিলেন না; অবসর সময়ে খেলতেন, খেতেন, ঘুমাতেন এবং সম্ভবত বাড়ির কথা ভাবতেন।

হঠাৎ কী ঘটেছিল?
একটি সুসংগঠিত সেনাবাহিনী সাধারণত শিবির ছাড়ার সময় ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র, মূল্যবান ধাতু, মুদ্রা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে যায়। মৃতদেরও সম্ভব হলে সামরিক রীতি অনুসারে সমাহিত করা হয়। কিন্তু শুরানিতে পাওয়া দৃশ্য তার বিপরীত।
মানবদেহ প্রতিরক্ষা পরিখা ও কূপে কেন পড়ে ছিল? অগভীর গর্তে তাড়াহুড়ো করে সমাহিত করার প্রয়োজন কেন হয়েছিল? মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম এবং ব্যবহারযোগ্য অস্ত্রই-বা সেখানে থেকে গেল কেন?
প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাতেই রুটকায়ের মতে, স্থানটি কোনো রোমান-জার্মানিক সামরিক সংঘর্ষের অব্যবহিত পরেই পরিত্যক্ত হয়েছিল—প্রাপ্ত বহু বস্তু সেই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে। তবে ‘কীভাবে’ এবং ‘কেন’—এই দুই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো মেলেনি।
প্রথম সম্ভাবনা, শিবিরটি আকস্মিক আক্রমণের মুখে পড়েছিল। স্থানীয় জার্মানিক যোদ্ধারা রাতে বা অপ্রস্তুত অবস্থায় আঘাত করে থাকতে পারে। যুদ্ধে বহু সৈনিক নিহত হলে বেঁচে থাকা রোমানদের দ্রুত পিছু হটতে হয়েছিল। তখন মৃতদের নিয়মমাফিক সমাহিত করা কিংবা সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করার সুযোগ ছিল না।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা, এখানে সরাসরি বড় যুদ্ধ না হলেও কাছাকাছি সংঘর্ষের আহতদের শিবিরে আনা হয়েছিল। অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা গেলে মৃতদেহ দ্রুত সরাতে পরিখা, পরিত্যক্ত কূপ ও অন্যান্য গর্ত ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর সামরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে শিবিরটি ছেড়ে যায় বাহিনী।
তৃতীয় সম্ভাবনা রোগ। দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্য অ্যান্টোনাইন প্লেগ নামে পরিচিত ভয়াবহ মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছিল। যুদ্ধরত বাহিনীগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। শিবিরে মহামারি দেখা দিলে দ্রুত বহু সেনার মৃত্যু এবং তড়িঘড়ি সমাহিত করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুরানির দেহাবশেষ যুদ্ধ, রোগ নাকি উভয় কারণে সৃষ্ট—এ পর্যায়ে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
আরও একটি প্রশ্ন রহস্যকে গভীর করেছে। শিবিরটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর স্থানীয়রা মূল্যবান ধাতু ও অস্ত্র সংগ্রহ করেনি কেন? প্রাচীন সামরিক স্থাপনা সাধারণত দ্রুত লুট হয়ে যেত। অথচ শুরানিতে বহু বস্তু নিজ নিজ প্রেক্ষাপটে রয়ে গেছে। সম্ভবত সংঘর্ষের পর এলাকাটি কিছু সময় বিপজ্জনক বা নিষিদ্ধ ছিল। আবার এমনও হতে পারে, মৃতদেহপূর্ণ স্থানটিকে স্থানীয়রা অশুভ বা রোগের উৎস বলে এড়িয়ে চলেছিল। এগুলো আপাতত সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়।
স্লোভাক একাডেমির গবেষক মিখাল খেবেন জানিয়েছেন, দেহাবশেষ পরীক্ষা করে সৈন্যরা যুদ্ধে নিহত হয়েছিল নাকি রোগে মারা গিয়েছিল, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করা হবে কেন এত বস্তু গর্ত ও কূপে ফেলে রাখা হয়েছিল। Archaeology Magazine
উদ্ধার করা হাড় ও দাঁতের ওপর রেডিওকার্বন ডেটিং, ডিএনএ এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএনএ থেকে মৃতদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য বংশপরিচয় সম্পর্কে জানা যেতে পারে। স্ট্রনশিয়াম ও অক্সিজেন আইসোটোপ বিশ্লেষণ জানাতে পারে তাঁরা কোথায় বেড়ে উঠেছিলেন। রোমান সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাম্রাজ্যের নানা অঞ্চল থেকে আসতেন—ইতালি, বলকান, গল, হিস্পানিয়া, উত্তর আফ্রিকা কিংবা আরও দূরের কোনো প্রদেশ থেকে। ফলে একই শিবিরের মৃতদের জন্মস্থান ভিন্ন হতে পারে।
হাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, তীর বা বর্শার ক্ষত থাকলে যুদ্ধের ব্যাখ্যা শক্তিশালী হবে। দীর্ঘস্থায়ী অসুখ, অপুষ্টি কিংবা সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেলে রোগের সম্ভাবনা বাড়বে। শিবিরের মাটির বিভিন্ন স্তর, পোড়া চিহ্ন, অস্ত্রের অবস্থান এবং মুদ্রার সঠিক সময়কালও শেষ দিনগুলোর ঘটনাক্রম পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
কোনো লিখিত নথি সম্ভবত কখনোই জানাবে না সেই রাতে শুরানিতে ঠিক কী ঘটেছিল। সেখানে অবস্থান করা সৈন্যদের নামও হয়তো অজানাই থেকে যাবে। কিন্তু প্রত্নতত্ত্বের শক্তি এখানেই—পরিখায় পড়ে থাকা একটি হাড়, মরিচাধরা স্যান্ডেলের পেরেক কিংবা হারিয়ে যাওয়া পাশা মিলিয়ে এটি নামহীন মানুষের শেষ মুহূর্তের ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে পারে।
দুই হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্য হয়তো এই শিবিরের পতনকে একটি ব্যর্থ সামরিক দিনের বেশি গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু মাটির নিচে অক্ষত থেকে যাওয়া সেই ব্যর্থতাই আজ ইতিহাসবিদদের কাছে অমূল্য। শুরানির ঘাঁটি দেখাচ্ছে, সাম্রাজ্যকে আমরা যতই অপরাজেয় বলে কল্পনা করি না কেন, সীমান্তের যুদ্ধক্ষেত্রে তার সৈনিকেরাও ছিল ভয়, রোগ, বিশৃঙ্খলা ও আকস্মিক মৃত্যুর শিকার।
খনন এখনো শেষ হয়নি, পরীক্ষাগারের ফলও আসেনি। তাই শিবিরটির শেষ দিনের গল্পের কয়েকটি পৃষ্ঠা এখনো ফাঁকা। হয়তো হাড়ের একটি ক্ষতচিহ্ন, কোনো মুদ্রার সাল বা কূপের তলদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া আরেকটি বস্তু একদিন জানিয়ে দেবে—শুরানির রোমান সেনারা যুদ্ধে হেরে পালিয়েছিল, মহামারিতে নিশ্চিহ্ন হয়েছিল, নাকি তাদের ওপর নেমে এসেছিল দুটিরই সম্মিলিত বিপর্যয়।
আপনার মতামত জানানঃ