শৈশব মানেই দুরন্তপনা, স্বপ্ন, পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি। এই বয়সে কারও হাতে থাকার কথা বই, খাতা কিংবা খেলার সামগ্রী। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত একদল কিশোরের হাতে দেখা যাচ্ছে অস্ত্র, মাদক কিংবা অপরাধের নানা উপকরণ। কখনো আধিপত্য বিস্তার, কখনো সামান্য বিরোধ, আবার কখনো বড়দের স্বার্থ রক্ষায় জড়িয়ে পড়ছে তারা হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, এমনকি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে। কিশোরদের এই অপরাধপ্রবণতা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক সমস্যা নয়; বরং জননিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব অপরাধের পেছনে অনেক ক্ষেত্রে কিশোরেরা একা নয়। তাদের ব্যবহার করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, অপরাধী চক্র কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু নেতা-কর্মী। কিশোরদের বয়স, অপরাধ সম্পর্কে সীমিত উপলব্ধি এবং সহজে প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে বড়রা। ফলে অপরাধের দৃশ্যমান মুখ হয়ে উঠছে কিশোরেরা, অথচ নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের অনেকেই থেকে যাচ্ছে আড়ালে।
পুলিশের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, দেশের আটটি মহানগর ও ৬৪ জেলায় কিশোর অপরাধীদের বিভিন্ন গ্যাং এবং তাদের সদস্যদের তৎপরতা রয়েছে। একসময় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক ছিল। বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা পর্যায়েও। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা কিংবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন নামে গড়ে উঠছে এসব দল। কোনো কোনো গ্যাংয়ের পরিচয় তৈরি হচ্ছে এলাকার নাম দিয়ে, আবার কোনোটি নিজেদের আলাদা নাম, পোশাক, দলীয় পরিচিতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করছে।
২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি পুলিশ রেঞ্জ, আটটি মহানগর ও রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন এলাকার ৪২৪টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। এসব মামলায় ৩০৭টি কিশোর গ্যাংয়ের ২ হাজার ৬২৫ সদস্যের অপরাধ পর্যালোচনা করে ২৩ ধরনের অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে। তালিকায় রয়েছে মারামারি, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, হত্যাচেষ্টা, হত্যা, ছিনতাই, বিস্ফোরক, পর্নোগ্রাফি, অস্ত্র, সাইবার অপরাধ, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, মাদক ও যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধ। এসব পরিসংখ্যান শুধু অপরাধের ধরন ও বিস্তৃতি তুলে ধরে না, বরং কিশোরদের একটি অংশ কীভাবে অপরাধের জটিল জগতে প্রবেশ করছে, তারও ইঙ্গিত দেয়।
চট্টগ্রামের খুলশীতে সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে। ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামের দুটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের জেরে প্রাণ হারিয়েছে হৃদয় নামের এক কিশোর। যে বয়সে তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার কিংবা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সে সে জড়িয়ে পড়েছিল গ্যাং সংস্কৃতির সঙ্গে। বাবার সঙ্গে ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করত হৃদয়। অথচ গ্যাং বিরোধের নির্মম পরিণতিতে তার জীবন থেমে গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দলের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় ছয় কিশোরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপ পরিচালনার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা ও তাঁর ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম পিচ্চির নাম এসেছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিজয়, কামরান ও শান্তের নেতৃত্বে ‘ফাইভ স্টার’ পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের তথ্য।
এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব কখনো কখনো কেবল কিশোরদের ব্যক্তিগত বিরোধে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এলাকার আধিপত্য, অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণ কিংবা বড়দের স্বার্থ। কিশোরদের সামনে যখন ক্ষমতা প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে অস্ত্র, সংঘর্ষ ও ভয়ভীতি তৈরির সংস্কৃতি উপস্থিত থাকে, তখন তারা সেই পথকেই প্রভাব বিস্তারের সহজ উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। অপরাধী চক্রের বড় সদস্যদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে।
কুমিল্লার স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনাও কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা সামনে এনেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার কিশোরেরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। একটি পরিবারের কাছে সন্তান হারানোর বেদনা যেমন অপূরণীয়, তেমনি এই ঘটনা সমাজের সামনে তুলে ধরেছে কিশোর অপরাধের গভীর সংকট।
কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। পারিবারিক নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া, মাদকের সহজলভ্যতা, সহিংসতার পরিবেশ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অপরাধীদের প্রভাব—সব মিলিয়ে তৈরি হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। কোনো কিশোর যখন পরিবার, বিদ্যালয় কিংবা সমাজ থেকে প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও দিকনির্দেশনা পায় না, তখন সে বিকল্প পরিচয় ও স্বীকৃতি খুঁজতে পারে। গ্যাংয়ের সদস্য হওয়া অনেকের কাছে তখন বন্ধুত্ব, নিরাপত্তা, ক্ষমতা কিংবা পরিচিতি অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন গ্যাংয়ের সদস্যদের ছবি, ভিডিও, অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা সংঘর্ষের দৃশ্য তরুণদের একটি অংশের কাছে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে, অনলাইনে অপমান, হুমকি কিংবা আধিপত্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা বাস্তব জীবনের বিরোধকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এককভাবে কিশোর অপরাধের কারণ বলা যায় না। বরং পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ এবং অপরাধী চক্রের প্রভাবের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি দেখতে হবে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনাও কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে বড়দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যে মোস্তাকুর রহমান খোকন চৌধুরীর নাম এসেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে কিশোরদের দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার। তবে ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করা হলে তাদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও কীভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে?
গবেষণা সংস্থা অ্যাসেন্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম মনে করেন, কিশোরদের কারা গ্যাং সংস্কৃতিতে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে তাদের আইনের আওতায় আনার উপায় খুঁজে বের করা জরুরি। এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, কেবল অপরাধে জড়িত কিশোরদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনের সংগঠক, অর্থদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী ও প্রভাবশালীদের ভূমিকা শনাক্ত করা প্রয়োজন।
অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে সারা দেশে ৩ হাজার ৮৪৪ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন কুমিল্লাসহ ১১টি জেলা থেকে দেড় হাজারের বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপুরের ছয় থানা এলাকা থেকে এক দিনে ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযান অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে।
তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। কতজন কিশোর অপরাধ থেকে ফিরে আসছে, কতজন নতুন করে অপরাধে জড়াচ্ছে, কতটি গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে এবং অপরাধের নেপথ্যের ব্যক্তিরা কতটা জবাবদিহির আওতায় আসছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিশোর অপরাধীদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের প্রকৃতি, পুনর্বাসনের সুযোগ এবং সংশোধনের প্রয়োজন বিবেচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোরদের ভবিষ্যৎও বিবেচনায় রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগের মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু-কিশোর। তাদের একটি অংশ সহজেই অপরাধের শিকার কিংবা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির ঘাটতি এবং মাদকের সহজলভ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট হয়, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের কাজ শুরু হওয়া উচিত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি, পরিবারকে সচেতন করা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ এবং কিশোরদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় অপরিহার্য। শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে একটি সামাজিক সমস্যা পুরোপুরি মোকাবিলা করা কঠিন। অপরাধপ্রবণ কিশোরদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের অপরাধে জড়ানোর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। যারা অপরাধী চক্রের দ্বারা প্রভাবিত বা শোষিত হচ্ছে, তাদের জন্য প্রয়োজন হতে পারে কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ।
কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা মূলত একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়। আজ যে কিশোর অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামছে, সে একসময় পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী কিংবা সমাজের সম্ভাবনাময় কর্মী হতে পারত। তার অপরাধের দায় যেমন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দেওয়া পরিবেশ ও ব্যক্তিদের দায়ও উপেক্ষা করা যায় না। কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে পুনর্বাসনের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে, অপরাধকে বয়সের অজুহাতে উপেক্ষা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সমাজের প্রতি অবিচার করা হবে।
প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতা এবং কিশোরদের সংশোধনের সুযোগ পাশাপাশি থাকবে। অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কারণ কিশোর গ্যাংয়ের হাতে অপরাধের অস্ত্র তুলে দেওয়া বড়দের প্রভাব যত দিন অক্ষুণ্ন থাকবে, তত দিন শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।
শিশু-কিশোরদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে বই, অপরাধী চক্রের পরিবর্তে ইতিবাচক বন্ধুত্ব এবং সহিংসতার পরিবর্তে সম্ভাবনার পথ তুলে দিতে হবে। নইলে আজকের কিশোর গ্যাংয়ের সংকট আগামী দিনের আরও বড় সামাজিক বিপর্যয়ের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ