Trial Run

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ‘কলঙ্ক’ দেখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতির মাঝেই বুধবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মারা যান জাহিদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, আর নির্যাতনে মারা গেছেন দুই জন। ২০২০ সালের প্রথম ছয়মাসে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন ২১ জন।

মুজিববর্ষে বাংলাদেশে আসার কথা ছিলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। করোনা পরিস্থিতিতে তার সফর স্থগিত হওয়ায় ঢাকা-নয়াদিল্লি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে দুই দেশ। শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকে বরাবরের মতোই তিস্তা ইস্যু ও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ ভারত সরকার। তিস্তা চুক্তি না হওয়া ও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে ভারতের বারবার একই প্রতিশ্রুতি সরকারকে হতাশ করে বলে মন্তব্য করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বাংলাদেশ হতাশ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন-
বাংলাদেশ হতাশ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবেপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন-

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ হতাশ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আপনাকে হতাশ করে? আমরা বাংলাদেশি লোক, আমাদেরও হতাশ করে। আমরা চাই না একজন লোকও সীমান্তে মারা যাক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ। দুই দেশের এত সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে কলঙ্ক তৈরি করে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে এটির সমাধান করা সম্ভব। আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।  আজকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন, কোনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই।”

নয়াদিল্লির বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, “সীমান্তে হত্যা বন্ধে আগামী দিনগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ সংযম প্রদর্শন করবে।” সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে দেশটি যেখানে অঙ্গীকারবদ্ধ দাবি করছে সেখানে একইসাথে সংযম দেখানো বক্তব্য সাংঘর্ষিক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশিরা অনেক ভিতরে বন্দুক নিয়ে যায়, গোলাগুলিও করে। বোমাও নিয়ে যায়। আমাদেরও দোষ আছে।”

বাংলাদেশিদের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ব্যবসায় উৎসাহিত করে বিএসএফ এমনকি ঘুষ নেয়ারও অভিযোগ এসেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি সাংবাদিকদের ইস্যু। এ নিয়ে আপনারা লেখালেখি করেন। ”যৌথ টহলের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও জানান ড. মোমেন।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছি, তিস্তা ইস্যু তুলে আপনাদের লজ্জিত করতে চাই না। তবে এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আমরা বাকি ছয়টি নদীর কথা জিজ্ঞাসা করেছি। তারা একলাইনে উত্তর দিয়েছেন।” অভিন্ন নদ-নদীর পানি ভাগাভাগিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গঠন করেছে দুই দেশ। এসব ত্বরান্বিত করতে প্রায় ১১ বছর ধরে থমকে থাকা যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শিগগিরই হবে বলেও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই বৈঠকে ৫৫ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি পথে রেল সংযোগ পুনরায় উদ্বোধন করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষিসহ সাত খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত সাতটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে।

সই হওয়া সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছেঃ

  • হাইড্রোকার্বনে সহযোগিতার বিষয়ে রূপরেখা
  • কৃষি খাতে সহযোগিতা
  • হাই ইমপ্যাক্ট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প চালু
  • বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সঙ্গে নয়াদিল্লি জাদুঘরের সহযোগিতা
  • হাতির সুরক্ষায় অভয়ারণ্য নিশ্চিত করা
  • বাংলাদেশ-ভারত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফোরামের ট্রাম্প অব রেফারেন্স প্রটোকল এবং
  • বরিশালে সুয়ারেজ প্রকল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক।

বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ৭ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ভারতের পক্ষে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী সমঝোতা চুক্তিগুলো সই করেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস ব্যাংকে যুক্ত হতে  বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। ঋণ চুক্তির অর্থায়নে দ্রুত ছাড় ও  বাস্তবায়নে তাগিদ রয়েছে ঢাকার পক্ষ থেকে। মিয়ানমার, ভারত ও থাইল্যান্ডের সড়ক যোগাযোগে সম্পৃক্ত হতে বিএনপি আমলে ফিরিয়ে দেয়া প্রস্তাবটি, এবার দিয়েছে সরকার। তিনি  বলেন, কৌশলগত কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ। বিবিআইএন বাস্তবায়নেও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারত জানিয়েছে এর দ্রুত সমাধান না হলে এই অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ আঞ্চলিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে কোন উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি এই দেশটি। বরং মিয়ানমারে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ভারত।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ঢাকায় স্বশীরের আসার আমন্ত্রণ গ্রহন করেছে নরেন্দ্র মোদী। যৌথভাবে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে একাত্বতা জানিয়েছে ভারত। কুষ্টিয়ার মুজিবনগর থেকে ভারত পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা দুইদেশের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এসডব্লিউ/এসআরপি/আরা/০১২৮

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    36
    Shares