Trial Run

আইনপ্রয়োগের চিত্র ও গণমাধ্যম: ৪ ডিসেম্বর ২০২০

স্টেটওয়াচ রিসার্চ নেটওয়ার্ক কাজ করছে বাংলাদেশে আইনপ্রয়োগের সার্বিক চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বাস্তবতা নিয়ে। এর অংশ হিসেবে স্টেটওয়াচ নিউজে আমরা প্রতিদিনকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত খবরাখবরগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিদিন নিম্নোক্ত মাধ্যমসমূহ থেকে সংবাদগুলো সংগ্রহ ও তা নথিবদ্ধ করছে আমাদের কর্মীরা: প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, সমকাল, নয়া দিগন্ত, ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, ডেইলি স্টার, নিউ এজ, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলা ট্রিবিউন, বিডিনিউজ২৪ ডটকম, আমাদের সময়, মানবজমিন। আমরা আশা করি, এই প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার আরো শক্তিশালী হবে।

৪ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত নির্বাচিত খবরের সার-সংক্ষেপ

—–

প্রথম আলো সম্পাদকের নামে অভিযোগ গঠনে অ্যামনেস্টির উদ্বেগ

প্রথম আলো
বিভাগ: গণমাধ্যম
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
৩ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইটে এই উদ্বেগ জানানো হয়। তাতে প্রথম আলো সম্পাদকসহ নয়জনের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। অ্যামনেস্টির টুইটে বলা হয়, এই মামলা যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় আরও কড়াকড়ি আরোপের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
১ নভেম্বর ২০২০ ঢাকার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান ছিল। সেদিন মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় নাইমুল আবরার। এ ঘটনায় করা মামলায় গত ১২ নভেম্বর প্রথম আলো সম্পাদকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হককে অব্যাহতি দেন আদালত।
নাইমুলের মর্মান্তিক ও দুঃখজনক মৃত্যুর দুর্ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় এর আগে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছিল সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ।

ধর্মীয় অনুভূতিতে ‘আঘাতের’ মামলায় সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের জামিন

প্রথম আলো
বিভাগ: ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট
রাজবাড়ীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক প্রবীর শিকদার। ৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক সুধাংশ শেখর রায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আসামীপক্ষের প্রধান আইনজীবী স্বপন কুমার সোম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজবাড়ী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর এই মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, এম এ খালেক ১৯৮৩ সালে রাজবাড়ী আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে ২৯ আগস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। প্রবীর শিকদার গত ১ সেপ্টেম্বর তার নিজের ফেসবুক আইডিতে আইনজীবী এম এ খালেক সম্পর্কে আপত্তিকর কথা লিখেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, রাজবাড়ীতে প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা রয়েছে। ১২ আগস্ট প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান নবাব বাদী হয়ে মানহানির একটি মামলা করেন। অপর মামলা করেন মদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম রোকনুজ্জামান। ৫ আগস্ট পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী মনোয়ার হোসেন এবং ২৯ জুলাই কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রতনদিয়া রজনীকান্ত মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম শিক্ষক ইউসুফ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।

রাজশাহীতে পুলিশের ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল

নয়াদিগন্ত
বিভাগ: রাষ্ট্রীয় বাহিনী
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুনুর রশীদের ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে এএসআই হারুনুর রশীদকে প্রকাশ্যে ঘুষ নিতে দেখা যায়। গত বুধবার ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এর পরপরই তাকে ওই পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সূত্র জানায়, টাকা গুণে প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়ার সিসিটিভির ওই ফুটেজ থেকে করা ভিডিওটি করোনার শুরুতে লকডাউন সময়ের বলে ধারণা করা হচ্ছে। লকডাউনের সময় দোকানপাট খুললেই এএসআই হারুনকে ঘুষ দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এএসআই হারুন অবশ্য এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, করোনাকালে লকডাউনের সময় তাহেরপুর বাজারের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে ঢুকে তিন হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এএসআই হারুন। সিগারেটমুখে তিনি দোকানদারের সাথে দরকষাকষির পর দুই হাজার টাকা ঠিক হয়। পরে টাকা গুণে দেখে তিনি আরো এক হাজার টাকা দাবি করেন। পরে পুরো টাকা নিয়ে তিনি চলে যান।

তরুণীকে নিয়ে ফুর্তি, জনতার হাতে ধরা পুলিশ সদস্য

কালের কন্ঠ
বিভাগ: রাষ্ট্রীয় বাহিনী
কলেজছাত্রীকে নিয়ে অসমাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চরউত্তরবন্দ গ্রাম থেকে কলেজছাত্রীসহ পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ওই পুলিশ সদস্য নেত্রকোনার খালিয়াজুরি থানার লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকবাসী মো. আসাদুজ্জামান জানান, মন্নাছের বাড়িটি এলাকায় বির্তকিত একটি বাড়ি বলে চিহ্নিত। এর আগে এ বাড়িতে অনৈতিক অনেক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় চলমান ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেককেই খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দেন। ইউএনও এরশাদ উদ্দিন থানার ওসিকে ঘটনা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় আনেন। থানায় অবস্থান করা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল কাইয়ুম জানান, তিনি গোপনে ২০১৮ সালে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি।
নান্দাইল ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, তিনি সারাদিন জেলা শহরে ছিলেন। ঘটনাস্থলে যাওয়া এসআই আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন ওই পুলিশ সদস্য তরুণীকে বিয়ে করেছেন।

সাংবাদিকের সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের: ড. হোসেন জিল্লুর

যুগান্তর
বিভাগ: গণমাধ্যম
ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামে সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়েছি। সাংবাদিকদের চলার পথে সুরক্ষা ও সক্ষমতার নিশ্চয়তা দেওয়া যেমন সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘নৈতিক, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সুরক্ষা ও সক্ষমতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (সিআরআই) ও চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নৈতিক, বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। সাংবাদিকদের এখন নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। সাংবাদিকদের চলার পথে সুরক্ষা ও সক্ষমতার নিশ্চয়তা দেওয়া সংবাদমাধ্যমের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও আছে সেই দায়িত্ব। তরুণ সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, তা সব স্তরের নাগরিকদের উদ্বিগ্ন করেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে এ ধরনের বিপদের সম্মুখীন হওয়া উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়। এটি কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। গোলাম সরওয়ারের এ সংকটের সময় আমি তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। তার অর্থনৈতিক সংকট লাঘবে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়াতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রাজশাহীতে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

দেশ রূপান্তর
বিভাগ: রাষ্ট্রীয় বাহিনী
রাজশাহী জেলা পুলিশের চার সদস্যের মাদক সেবনের প্রমাণ মিলেছে। এ চারজনই জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পজিটিভ আসার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দেশের মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। রাজশাহী জেলায় পুলিশ সদস্যদের মাঝে মাদকাসক্তির হার অধিক বিবেচনায় তাদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, গত সেপ্টেম্বরে রাজশাহী জেলা পুলিশে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ৭ সন্দেহভাজনের ডোপ টেস্ট করার পর চারজনকে শনাক্ত করা হয়। এই চারজনই বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল। ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

 

পুলিশের মামলায় সাক্ষ্য দিতে পুলিশেরই অনীহা

আমাদের সময়
বিভাগ: রাষ্ট্রীয় বাহিনী
ভুয়া নামে পুলিশের চাকরি নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে অনীহা দেখাচ্ছে খোদ পুলিশই। দফায় দফায় আদালত থেকে ‘প্রসেস’ দেওয়া হলেও জব্দ তালিকাকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারাও সাক্ষ্য দিতে আসছেন না। এতে করে বিলম্বিত হচ্ছে ন্যায়বিচার। ১৬ বছর ধরে ঝুলে আছে সেই মামলা। তাই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মামলার সাক্ষীদের হাজির ও ব্যবস্থা নিতে গত বুধবার পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ৪৭ কনস্টেবল (টিআরসি) রাঙামাটি রিজার্ভ পুলিশ লাইনে যুক্ত হতে আসেন। কিন্তু চাকরির সার্ভিস বইয়ে কনস্টেবল (১৮৫৩) গাজী মো. সোহেল রানা নামে এক যুবকের স্বাক্ষর নিতে গিয়ে ধরা পড়ে গরমিল। এর পরই বেরিয়ে আসে প্রতারক তিন যুবকের তথ্য। ভুয়া নাম ধারণ করে পুলিশের চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। ঘটনাটি ২০০৪ সালের ৩০ জুনের। আর মামলা (নম্বর-২১১/২০০৪) হয় পরদিন, অর্থাৎ ১ জুলাই। রাঙামাটি পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসার এসআই মো. ফরিদ উদ্দিন এর বাদী। মামলায় মোট ৩৮ সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনই পুলিশ সদস্য। মামলার আসামিরা হলেন কুমিল্লা দেবিদ্বার গুনাইঘর (সাধুবাড়ি) গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন বিল্লার ছেলে শাহ পরান সুমন, ছোট শালঘরের আবদুল জব্বার মালু বেপারির ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া ও বুড়িরচং ইছাপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম নুরু মিঞার ছেলে মো. নজরুল ইসলাম নজির। পুলিশের খাতায় তিনজনই পলাতক।
রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এএনএম মোরশেদ খানের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মনজুরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের সময়কে জানান, ১৬ বছরের পুরনো ওই মামলায় গত বুধবার পর্যন্ত ছয় পুলিশসহ কেবল আটজনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়েছে। মামলার পাঁচটি জব্দ তালিকাকারী তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে (এসআই) সাক্ষী হিসেবে আদালতে প্রসেস দেওয়ার পরও তারা হাজির হচ্ছেন না। এমনকি অন্যতম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনকেও সাক্ষী হিসেবে প্রসেস দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে ‘জাহাঙ্গীর হোসেন’-এর স্থলে ‘জাহাঙ্গীর আলম’ নামক একজন এসআইয়ের নাম দিয়ে তিনি মারা গেছেন বলে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য আদালত বিস্ময়ও প্রকাশ করেন।

এসডাব্লিউ/আরএন/ফাআ/আরা/১৭১০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares