Trial Run

মাদক কারবারে বরখাস্ত পুলিশ ইয়াবাসহ গ্রেফতার

ছবি: ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ পুলিশ।

মাদক সেবন ও কারবারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকা পুলিশের এক এএসআইকে রংপুরে ৩ হাজার ১৯৮ পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেনসিডিল ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার নগরীর ঠিকাদার পাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত পুলিশের এএসআই মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।

রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত বিন কুতুবের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত বিন কুতুব জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহায়তায় নগরীর স্টেশন রোডের ঠিকাদারপাড়ায় এক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় ৬ তলা ভবনের ৪র্থ তলা থেকে ৩ হাজার ১৯৮ পিস ইয়াবা, নগদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা, ৯০০ টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড, ১ বোতল ফেনসিডিল, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই ও চারটি মোবাইলসহ কুড়িগ্রামে কর্মরত পুলিশের এএসআই মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই তাহিদুল ইসলাম জানান, এর আগে মাদক সেবন ও কারবারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এএসআই মনিরুজ্জামান সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছে। বর্তমানে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে ক্লোজড অবস্থায় আছেন। সে পরিবার নিয়ে রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়ার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে গোপনে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক নির্মূলের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে সমাজকে মাদক মুক্ত করা অসম্ভব। তাই প্রথমেই শর্ষের ভূত তাড়াতে হবে। জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ বলেন, অপরাধ দমন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব তথ্য জেনেও অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নেন না। শুরুতে কঠোর বার্তা দেয়া হলে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে অন্যরা সতর্ক হতো। তিনি আরও বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার পক্ষে রাজনৈতিক অনেক তদবির আসে। এসব তদবিরের কারণে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অনেকে অপরাধে জড়ানোর সাহস পায়।

মিই/১৩৪০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    44
    Shares