Trial Run

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা দেয়া রহস্যময় যান কি ভিনগ্রহীদের?

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাতের আকাশে হঠাৎ একঝাঁক আলো। প্রায়ই দেখা মিলছে এমন আলোর। অনেকেই দাবি করছেন, এগুলো আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট (ইউএফও) বা অজানা উড়ন্ত বস্তু। যা ভিনগ্রহীদের যান বলে মনে করা হচ্ছে। ভিনগ্রহীরা ঘাঁটি গড়ার জন্য বেছে নিয়েছে আমেরিকাকে। তাই প্রায়ই মার্কিন আকাশে দেখা মিলছে ভিনগ্রহীদের যান (ইউএফও)।

দেশটির নৌবাহিনীর পাইলটদের তোলা কয়েকটি ভিডিও বেশ আলোচনায় এসেছিল। তাদের ধারণামতে, এগুলো ভিনগ্রহবাসীর আকাশযান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছে, শনাক্ত হওয়া এসব আকাশযান এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসীর হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে রহস্যময় এসব আকাশযান কোথা থেকে এসেছে, সেই বিষয়েও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা দেয়া ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট’ (ইউএফও) বা মানবজগতে অপরিচিত উড়ন্ত বস্তু আসলে কী ছিল, সে রহস্যের কিনারা হচ্ছে না।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমাধান ছাড়াই এ বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন চলতি মাসের শেষে জমা দেয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে।

সত্যিই ইউএফও দেখা গেছে বলে ধারণার কথা স্বীকার করেছেন গোয়েন্দারা। কিন্তু যেসব ইউএফও দেখা যাওয়ার কথা হচ্ছে, সেগুলো আসলেই ভিনজগতের প্রাণীদের মহাকাশযান কি না, সে প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি। এ প্রশ্নের কারণেই দীর্ঘ হলো এলিয়েনে বিশ্বাসীদের অপেক্ষা।

বিগত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে রহস্যময় আকাশযানের আনাগোনার ১২০টির বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এসব আকাশযানের উৎস ও কার্যক্রম সম্পর্কে দেশটির গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে বিদ্যমান রহস্যের জাল ভেদ করাও সম্ভব হয়নি।

এই প্রতিবেদনটি জমা দিতে গত বছরের শেষ দিকে আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা (ইউএপি) টাস্কফোর্সকে নির্দেশ দিয়েছিল কংগ্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সামরিক পাইলটদের চোখে ধরা পড়া উড়ন্ত বস্তুগুলো আসলেই এলিয়েনদের তৈরি করা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মহাকাশযান কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইউএপি টাস্কফোর্স।

প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর প্রমাণ হিসেবে ধারণ করা ভিডিও আছে। কিন্তু এসব ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

এ অবস্থায় এলিয়েনের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ না মিললেও প্রতিবেদনে ভিনগ্রহে প্রাণীদের পৃথিবীতে আসার সম্ভাবনা উড়িয়েও দেয়া হয়নি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত ২০ বছরের প্রায় ১২০টি ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গোপন সামরিক তৎপরতা বা সরকারি প্রযুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

বিশ্বজুড়ে কয়েক দশক ধরে বহুল আলোচিত বিষয় এলিয়েনের অস্তিত্ব। এ নিয়ে জল্পনা যত বাড়ছে, ততই জটিল হচ্ছে এ রহস্য।

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও বিষয়টির মীমাংসা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এ নিয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র তত্ত্বও তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জ্যেষ্ঠ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমে এ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ফলকে প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, রহস্যময় আকাশযানের ঘোরাঘুরি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কোনো গোপন প্রযুক্তির পরীক্ষা নয়, এটা নিশ্চিত।

সরকারের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, এসব আকাশযান ভিনগ্রহ থেকে এলিয়েনরা পাঠিয়েছে, গোয়েন্দা তদন্তে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ মেলেনি। যদিও এমন প্রমাণ খুঁজে পাওয়াও কঠিন।

সরকারের অন্য একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রহস্যময় আকাশযানের উপস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের মধ্যে দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে চীন কিংবা রাশিয়া গোপনে হাইপারসনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছে।

গত বছর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। এসব ভিডিও মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটদের ধারণ করা। ভিডিওতে দেখা যায়, রহস্যময় আকাশযান যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে সামরিক আকাশযানকে পাল্লা দিচ্ছে। তবে এসব ভিডিওর রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই সময় সরকার কিংবা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরে এসব ভিডিও নিয়ে তদন্তে নামেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

মার্কিন বিজ্ঞানী এবং সেনাবাহিনীকে এ বস্তুগুলোর যে বৈশিষ্ট্য অবাক করেছে তা হলো এর নিপুণতা। এর অভাবনীয় ক্ষমতা, অস্বাভাবিক দ্রুততা, দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা এবং দ্রুত ডুবে যাওয়ার ক্ষমতাই তাদের ভাবাচ্ছে।

জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক কর্মকর্তারা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন যে ঘটনাগুলো আসলে চীন বা রাশিয়ার কোনো হাইপারসোনিক প্রযুক্তি পরীক্ষা হতে পারে।

গত ৫০ বছর ধরে ইউএফও নিয়ে গবেষণা করছেন হান্স-ওয়ের্নার। তিনি মনে করেন, ইউএফও বলে যা দাবি করা হয়, তার ৯৫ শতাংশ ঘটনার স্বাভাবিক ব্যাখ্যা আছে। পাঁচ শতাংশ ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা তাদের কাছে নেই। অনেক সময় হিলিয়াম বেলুন বা কোনো ইনসেক্টকে ছবিতে ফ্লাইং সসারের মতো দেখতে লাগে। উপরের ছবিটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের, যা দেখে ইউএফও বলে ভুল হতে পারে।

দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর টাস্ক ফোর্স ইউএফও নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ইউএফও দেশটির জন্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি কিনা সেটা বুঝতেই ওই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। গত বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএফও রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন। প্রতিবেদনটি আগামী ২৫ জুনের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে প্রকাশিত হতে পারে।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৯২৯ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ