Trial Run

অসুস্থ মায়ের জন্য গাড়ি পাচ্ছে না সন্তান, ফেরি থেকে নামতে গিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ঈদে বাড়ি ফিরতে বেপরোয়া মানুষ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেও বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি অসুস্থদের ঢাকায় ঢুকতে এবং বের হতে, পড়তে হচ্ছে বিপাকে। সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে ফেরি, শুরু হয়েছে যানবাহনের পারাপার। তারপরও কমেনি ভিড়। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায় রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার তো বটেই, ট্রাক-পিকআপে করে, এমনকি হেঁটেও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। ঘটছে দুর্ঘটনা, মরছে মানুষ। বাড়ছে ভোগান্তি। 

মা অসুস্থ, গাড়ির জন্য ছুটছে ছেলে

বেলা ১১টায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মদনপুর মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার জুড়ে হাজারো ঘরমুখী মানুষের ভিড়। সড়কে পরিবহন সংকট। এরই মধ্যে চলাচল করা বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। ধাক্কাধাক্কি করে কোনও রকমে জায়গা করে নিচ্ছে পরিবহনগুলোতে। যারা ভেতরে জায়গা পাচ্ছে না, তারা ঝুলে থেকে কোনও রকমে গন্তব্যে রওনা হচ্ছে।

এমন সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে রাখা একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বসে কাঁদছিলেন আমেনা বেগম (৪৩)। তিনিও ঘরমুখী মানুষের একজন। তবে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছেন না, টাকার অভাবে হার্ট আর কিডনি রোগের চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে যাচ্ছেন চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে। সঙ্গে একমাত্র ছেলে জাহিদুল ইসলাম (১৭)।

সকাল ৯টা থেকে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে মায়ের জন্য একটি পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেনি কিশোর জাহিদ। বৈশাখের উত্তাপ মাথায় নিয়ে অসুস্থ শরীরে সড়কে বসে আছেন মা, ব্যস্ত সড়কে ছোটাছুটি করছে কিশোর ছেলে। মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার একটা ব্যবস্থা যদি হয়।

আলাপে আমেনা বেগম জানান, এক মাস আগে একই সঙ্গে হার্ট ও কিডনিজনিত অসুস্থতা ধরা পড়েছে তার। ধারদেনা করে প্রায় এক মাস রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন। টাকার অভাবে এখন আর চিকিৎসা করানোর অবস্থা নেই। হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। 

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে এসেছেন সাইনবোর্ড মোড়ে। সেখানে গাড়ি না পেয়ে শিমরাইল মোড়। এখানেও প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। গাড়ি মেলেনি। গাড়ির জন্য ছেলের এমন অসহায় ছোটাছুটি দেখেই কাঁদছেন আমেনা। নিজেদের ভাগ্যের দোষ দিচ্ছেন।

পায়ের চাপায় ৫ জনের মৃত্যু

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ফেরি চলাচল কখনও বন্ধ আবার কখনও চালু রাখায় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি চরমে।

এর মধ্যে মাদারীপুরের বাংলাবাজারে ফেরি থেকে নামতে গিয়ে আজ বুধবার দুপুরে পৃথক দুটি ঘটনায় পদদলিত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেন, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরি এনায়েতপুরী থেকে নামতে গিয়ে বেলা দুইটার দিকে পদদলিত হয়ে চারজন মারা যান। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে শাহ পরান ফেরিতে পদদলিত হয়ে একজন মারা যান।

সূত্র মতে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় তিন হাজার যাত্রী নিয়ে শাহ পরান নামের একটি রো রো ফেরি রওনা হয়। ফেরিটি বাংলাবাজার পৌঁছায় দুপুর ১২টায়। ফেরিটি বাংলাবাজার ঘাটের ৩ নম্বর  পন্টুনে নোঙর করার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করেন যাত্রীরা। 

যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে চাপা পড়ে আনচুর মাদবর (১৫) নামের এক কিশোর মারা যায়। সে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কলিকাপ্রসাদ এলাকার গিয়াস উদ্দিন মাদবরের ছেলে। আচনুর তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিল।

এসডব্লিউ/এমএন/এসএস/১৮৫০ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ