Trial Run

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র ও আ’লীগ নেতার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান আবু তৈয়ব। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খুলনা নগরের নূরনগর এলাকায় অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ। আজ বুধবার(২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আবু তৈয়ব টিভি চ্যানেল এনটিভির খুলনা ব্যুরোর প্রধান হিসেবে কর্মরত। একইসাথে এনটিভি ও দৈনিক লোক সামাজ পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি। গতকাল রাতে খুলনা শহরের নূরনগর এলাকায় তার বাড়ি থেকে পুলিশ তৈয়বকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে বিকেলে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার (মেয়র) বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, কেসিসি মেয়রের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মেয়র নিজে বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক আবু তৈয়বকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

খুলনা থানার ওসি আশরাফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, খুলনা সিটির মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক মঙ্গলবার বিকালে এই মামলা করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নূরনগর এলাকার বাসা থেকে তৈয়বকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, সাংবাদিক তৈয়ব সম্প্রতি মেয়রকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন। সেখানে মেয়রের বিরুদ্ধে মোংলা কাস্টমসে শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এতে মেয়রের সম্মানহানি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদী খুলনা সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘গত দু-তিন দিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবু তৈয়ব আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা খবর ও কুৎসা প্রচার করেছে। এতে আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমি তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছি।’

এর আগে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর প্রকাশ করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হন অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের খুলনা জেলা প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন মোল্লা। ওই মামলায় মানবজমিনের খুলনা প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলামকেও আসামি করা হয়। ভোটের ফলাফলে ‘গরমিল’ হয়েছে—এমন খবর প্রচার করায় তাঁদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন তৎকালীন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ চৌধুরী।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হচ্ছে। এই আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের যেসব ঘটনা ঘটছে, পরিষ্কারভাবে তা গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

তারা বলেন, বাংলাদেশে হত্যার আসামির দণ্ড মওকুফ হয় অথবা দ্রুত জামিন হয়, ঋণখেলাপি ও আর্থিক খাত থেকে লুটপাটকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, হাজার-কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারী সহজেই দেশ ছাড়তে পারে, কিন্তু ফেসবুকে সরকারবিরোধী কিছু লেখা যেন তার চাইতে বড় অপরাধ!

তারা বলেন, সাংবাদিক সমাজের যারা প্রতিনিধি তারা শুরু থেকেই যে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন সেটা এখন বিবেচনায় নেওয়ার সময় আছে। তা না হলে যেটা হবে এখানে মতপ্রকাশ বলে কিছু থাকবে না। অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, একটা দেশে যদি স্বাধীন গণমাধ্যম থাকে তাহলে ওই দেশে দুর্ভিক্ষ হয় না। গণমাধ্যম স্বাধীন থাকলে তখন সে সত্যি খবরটা পৌঁছে দেয়। আর গণমাধ্যমে টুটি চেপে ধরলে রাষ্ট্র যারা চালাচ্ছেন তারাও সঠিক খবরটা জানতে পারেন না।

তারা বলেন, যে নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়েছে, সে আইন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এ আইন কার জন্য করা হয়েছে? আইন তো তৈরি করা হয় সাধারণ জনগণের জন্য। এই আইন আসলে কার নিরাপত্তা দিচ্ছে? এ আইনে যারা বাদী হয়েছেন, তাদের অধিকাংশ এমপি, মন্ত্রী ও প্রশাসনের লোকজন। আর যারা আইনের শিকার হয়েছেন তারা সাংবাদিক, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট। আমাদের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের সাহস গড়ে তোলেন একজন লেখক, সাহিত্য, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক। তারা যেন মুক্তভাবে কথা বলতে পারে সেজন্য তাদের সমর্থন করুন। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো একটি নিপীড়নমূলক আইন গণতন্ত্রের দেশে থাকতে পারে না।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৩০৬ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ