
বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন ও উচ্চাভিলাষী সংযোজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবে। অর্থ সরাসরি পরিবারের জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবে পাঠানো হবে।
পরবর্তী চার বছরে কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আকার, ব্যয় ও সম্ভাব্য উপকারভোগীর দিক থেকে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ নগদ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে পরিণত হতে পারে। BSS, The Financial Express
প্রশ্ন হলো, এটি কি সত্যিই বাংলাদেশের কল্যাণরাষ্ট্রে উত্তরণের সূচনা? নাকি সরকারি সহায়তা বিতরণের পুরোনো দলীয় ও স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি নতুন একটি কার্ডের ভেতর দিয়ে আরও বিস্তৃত হবে?
উত্তরটি কর্মসূচির প্রতিশ্রুতিতে নয়, নির্ভর করবে বাস্তবায়নের পদ্ধতির ওপর।
অনুদান নয়, সামাজিক অধিকারের ধারণা
একটি কল্যাণরাষ্ট্র নাগরিককে দয়া বা রাজনৈতিক আনুগত্যের বিনিময়ে সহায়তা দেয় না। রাষ্ট্র স্বীকার করে যে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ন্যূনতম আয়নিরাপত্তা নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণে অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য, মূল্যস্ফীতি কিংবা অন্য কোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় নাগরিককে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় পড়ে যেতে দেওয়া হয় না।
ফ্যামিলি কার্ডের নকশায় এই ধারণার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। এটি একজন ব্যক্তির পরিবর্তে পুরো পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার মৌলিক একক হিসেবে বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে ভর্তুকি মূল্যের খাদ্য, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষিসহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধাও একই ডিজিটাল পরিচয়ের অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে একজন দরিদ্র নাগরিককে পৃথক পৃথক ভাতা ও সরকারি সুবিধার জন্য বারবার আবেদন করতে হবে না। একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপযুক্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচির সুবিধা নেওয়া এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবার বাদ পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
সরকারি পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু নগদ টাকা দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং ভবিষ্যতের একটি সমন্বিত সামাজিক পরিচয় ও সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম
নারীর নামে কার্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ
ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে পরিবারের আয় সাধারণত পুরুষ সদস্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও খাদ্য, চিকিৎসা, শিশুদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন সামলানোর দায়িত্ব প্রধানত নারীদের ওপর পড়ে।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সামাজিক সহায়তার অর্থ নারীর হাতে গেলে তা পরিবারের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিশুর প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়ে। নারীর নিজস্ব ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক হিসাব থাকলে পরিবারে তাঁর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে।
তবে শুধু নারীর নামে কার্ড দিলেই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে না। পরিবারের অন্য সদস্য যদি তাঁর ফোন, ব্যাংক হিসাব বা অর্থ নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে কার্ডের মালিকানা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তাই ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা, ব্যক্তিগত পিনের নিরাপত্তা এবং অভিযোগ করার স্বাধীন ব্যবস্থাও জরুরি।
কারা কার্ড পাবেন?
সরকার জানিয়েছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনে আয়, পেশা, সম্পদ ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় একটি ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা PMT স্কোর ব্যবহার করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে এই স্কোর নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
একটি পরিবার কী ধরনের ঘরে থাকে, জমি বা অন্য সম্পদ আছে কি না, আয়ের উৎস কী, পরিবারের সদস্যসংখ্যা কত, নির্ভরশীল শিশু ও প্রবীণ কতজন—এ ধরনের সূচক দিয়ে আর্থিক দুর্বলতা পরিমাপ করা হবে। যেসব পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরি, সরকারি বেতন বা পেনশন পান, তারা সাধারণভাবে যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
বস্তুনিষ্ঠ সূচক ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশের প্রভাব কমতে পারে। সরকারও বলছে, PMT পদ্ধতির লক্ষ্য জালিয়াতি, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রোধ করা। The Business Standard
কিন্তু একটি গাণিতিক স্কোর নিজে থেকেই নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা দেয় না। স্কোরটি নির্ভর করবে যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তার নির্ভুলতার ওপর। কোনো পরিবারের আয় অনানুষ্ঠানিক হলে তা যাচাই করা কঠিন। সামান্য জমি থাকলেও সেটি হয়তো আয় দেয় না। আবার কারও ঘরে পুরোনো টেলিভিশন বা মোটরসাইকেল থাকলেও পরিবারটি ঋণ, অসুস্থতা কিংবা আকস্মিক বেকারত্বের কারণে সংকটে থাকতে পারে।
স্কোরের শর্ত জনসমক্ষে পরিষ্কার না হলে দরিদ্র মানুষ বুঝতেই পারবেন না কেন পাশের পরিবার কার্ড পেল, অথচ তিনি পেলেন না।
পৃষ্ঠপোষকতার ঝুঁকি কোথায়?
বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি, স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া এবং কার্ডের জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, স্থানীয় পর্যায়ে সুবিধাভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রায়ই অস্বচ্ছ থাকে এবং পক্ষপাত, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলের ঝুঁকি তৈরি করে। World Bank
ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বড় হতে পারে, কারণ কর্মসূচিটির পরিধি বিশাল এবং এটি ছিল ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দলীয় ইশতেহারের একটি কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হওয়া অসংগত নয়। গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেই। সমস্যা তৈরি হবে তখন, যখন সুবিধাটি নাগরিকের অধিকার হিসেবে না দিয়ে দলের উপহার হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে দলীয় প্রচার, স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তালিকা অনুমোদন, কার্ডে রাজনৈতিক ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক এবং সুবিধাভোগীর কাছে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রত্যাশা—এসব ঘটলে সামাজিক সুরক্ষা দ্রুত পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থায় পরিণত হবে।
রাষ্ট্রের অর্থে দেওয়া সহায়তার জন্য কোনো নাগরিককে দল, নেতা বা স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে না। কারণ অর্থটি কোনো রাজনৈতিক দলের তহবিল থেকে আসছে না; আসছে জনগণের কর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে।
সরাসরি অর্থ পাঠালেই কি দুর্নীতি বন্ধ হবে?
নারীর ব্যাংক বা মোবাইল হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো মধ্যস্বত্বভোগী ও নগদ বিতরণে চুরির ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে দুর্নীতির একটি অংশ কমলেও অন্য ধরনের অনিয়ম থেকে যেতে পারে।
মূল প্রশ্ন হলো, টাকা পাঠানোর আগের ধাপে তালিকায় কার নাম উঠল। অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় ঢুকে গেলে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরও সেই ভুলকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিয়মিত করে তুলবে। ডিজিটাল ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত নয়; এটি শুধু দুর্নীতির ধরন পরিবর্তন করতে পারে।
এনআইডি বা মোবাইল হিসাবের অসংগতি, ভুল তথ্য, বায়োমেট্রিক সমস্যার কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ পড়তে পারেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতা এবং নারী গ্রাহকের হিসাব অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকার ঝুঁকিও রয়েছে।
এ জন্য তালিকা তৈরির আগে-পরে স্বাধীন যাচাই, নমুনাভিত্তিক নিরীক্ষা এবং অর্থ পৌঁছানোর পর উপকারভোগীর অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করতে হবে।
মাসে ২,৫০০ টাকা কতটা কার্যকর?
বর্তমান বাজারে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি পরিবারের মাসিক প্রয়োজনের সামান্য অংশই পূরণ করা সম্ভব। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয়ের তুলনায় এই অর্থ খুব বেশি নয়।
কিন্তু দরিদ্র পরিবারের কাছে নিয়মিত ও পূর্বানুমানযোগ্য সামান্য অর্থও গুরুত্বপূর্ণ। এটি কয়েক দিনের খাবার, শিশুর স্কুল খরচ, ওষুধ কিংবা জরুরি যাতায়াতের অর্থ হতে পারে। অনিয়মিত বড় সহায়তার তুলনায় মাসে নির্দিষ্ট সময়ে ছোট অঙ্কের অর্থ পরিবারকে ব্যয় পরিকল্পনায় বেশি সহায়তা করতে পারে।
তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ভাতার পরিমাণ সমন্বয় না করলে কয়েক বছরের মধ্যে এর প্রকৃত মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তাই ভাতার অঙ্ক নিয়মিত পর্যালোচনা এবং এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নগদ সহায়তাকে কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও মানসম্মত সরকারি সেবার বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে না। রাষ্ট্র যদি চাকরি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না করে শুধু নগদ টাকা বিতরণ করে, তাহলে মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হবে না; কেবল দারিদ্র্যের মধ্যে কিছুটা টিকে থাকার সুযোগ পাবে।
জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথ
ফ্যামিলি কার্ডকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নাগরিক অধিকারে রূপ দিতে কয়েকটি ব্যবস্থা অপরিহার্য।
প্রথমত, যোগ্যতার সূচক ও PMT স্কোরের পদ্ধতি প্রকাশ করতে হবে। একজন নাগরিক কেন নির্বাচিত বা প্রত্যাখ্যাত হলেন, তা জানার অধিকার তাঁর রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় নেতা বা জনপ্রতিনিধির সুপারিশকে সিদ্ধান্তের শর্ত করা যাবে না। তারা স্থানীয় তথ্য দিতে পারেন, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও নিরীক্ষাযোগ্য।
তৃতীয়ত, বাদ পড়া নাগরিকের জন্য বিনা খরচে সহজ আপিলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ থাকলে একই কর্মকর্তার কাছে আপিল করার ব্যবস্থা অর্থহীন হবে। তাই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি স্বাধীন কেন্দ্রীয় অভিযোগব্যবস্থা প্রয়োজন।
চতুর্থত, উপকারভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক সংখ্যা, আবেদন, অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান, আপিল এবং নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত।
পঞ্চমত, মহাহিসাব নিরীক্ষক, সংসদীয় কমিটি, গণমাধ্যম ও স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ রাখতে হবে। কোনো এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি বা কম কার্ড দেওয়া হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যালোচনার আওতায় আসা প্রয়োজন।
সবশেষে কার্ড, অনুষ্ঠান ও প্রচারণা থেকে দলীয় প্রতীক এবং রাজনৈতিক নেতার ছবি দূরে রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির দৃশ্যমান পরিচয় হবে রাষ্ট্রের, কোনো দলের নয়।
সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর
ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার, নারী সদস্যের হিসাবে সরাসরি অর্থ এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা—এসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।
কিন্তু একই কর্মসূচি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক বদলে দেওয়ার পরিবর্তে শাসক দল ও সুবিধাভোগীর নির্ভরতার সম্পর্কও তৈরি করতে পারে। পার্থক্যটি নির্ধারণ করবে তিনটি বিষয়: কে কার্ড পেল, কীভাবে পেল এবং বাদ পড়লে প্রতিকার পেল কি না।
নাগরিক যদি নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে কার্ড পান এবং সরকার বদলালেও তাঁর অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে, তাহলে এটি কল্যাণরাষ্ট্রের দিকে পদক্ষেপ। কিন্তু কার্ড পেতে স্থানীয় নেতার সুপারিশ লাগে, রাজনৈতিক আনুগত্য বিবেচিত হয় কিংবা রাষ্ট্রীয় সহায়তাকে দলের দান হিসেবে প্রচার করা হয়, তাহলে এটি হবে নতুন মোড়কে পুরোনো পৃষ্ঠপোষকতা।
ফ্যামিলি কার্ডের আসল পরীক্ষা তাই কত লাখ কার্ড বিতরণ করা হলো—সে সংখ্যায় নয়। পরীক্ষা হলো, দরিদ্রতম ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াই সহায়তা পেল কি না।
আপনার মতামত জানানঃ