মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে আবারও নিজেদের পুরোনো অবস্থান সামনে এনেছে দেশটির সরকার। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই কেবল ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকার সংখ্যা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে তারা। মিয়ানমারের এই বিবৃতি শুধু প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানানোর ঘটনা নয়; এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ন্যারেটিভকেও আবার সামনে আনা হয়েছে।
১৫ আগস্ট দেওয়া বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘একপেশে, ভুল তথ্য ও অপতথ্য’ প্রচার করা হচ্ছে। দেশটির বক্তব্য অনুযায়ী, অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের এমন একটি জাতিগত পরিচয়ে পরিচিত করা হচ্ছে, যে পরিচয় মিয়ানমারে কখনো ছিল না। অর্থাৎ ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়কে অস্বীকার করে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার।
এই বক্তব্য নতুন নয়। মিয়ানমার বহু বছর ধরেই রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে অভিহিত করে আসছে। দেশটির স্বীকৃত ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যেও রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়, নাগরিকত্ব ও তাদের রাখাইনে বসবাসের ঐতিহাসিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়ই দীর্ঘদিন ধরে সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। এবারও মিয়ানমারের বিবৃতিতে সেই পুরোনো অবস্থানই নতুন করে সামনে এসেছে।
মিয়ানমারের বক্তব্য অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ২০১৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের আগস্টে আরসা বা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি পুলিশ ফাঁড়ি ও নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। মিয়ানমার দাবি করছে, এর জবাবে দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরসার হুমকির কারণে স্থানীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অন্যত্র চলে যায় এবং বিপুলসংখ্যক ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
তবে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক আলোচনায় ২০১৭ সালের ঘটনাকে সাধারণভাবে একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান ও জাতিগত নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। ওই সময় কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে ও পরেও বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার বলে গত এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
এত বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবাসন তাই বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি মানবিক বিষয় নয়; এটি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। কিন্তু প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—রোহিঙ্গারা কোন পরিচয়ে এবং কী ধরনের নিশ্চয়তা নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাবে?
মিয়ানমারের এবারের বিবৃতিতে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কিছুটা ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলেও তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু শর্ত। দেশটি বলেছে, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে এখন পর্যন্ত যাদের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে এবং যারা রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণিত, তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার পর তাদের গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে নেপিদো।
বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করেছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। এর মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। চার হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ বলে চিহ্নিত করেছে তারা। আর এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।
এই পরিসংখ্যানের মধ্যেই প্রত্যাবাসনের জটিলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ, একটি পরিবারের সদস্যদেরও যদি আলাদা আলাদাভাবে যাচাই করে কারও পরিচয় গ্রহণ করা হয় এবং কারও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে বাস্তবে সেই পরিবারটির প্রত্যাবাসনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অতীতেও এমন যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে প্রত্যাবাসন আটকে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামও এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, অতীতের মতো এবারও তালিকা যাচাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আগে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েও মিয়ানমার এমনভাবে মানুষকে গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে ভাগ করেছে যে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছে।
এখানেই মিয়ানমারের নতুন বিবৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। একদিকে তারা বলছে, যাচাই হওয়া মানুষদের ফিরিয়ে নিতে তারা ‘আন্তরিক সদিচ্ছা’ নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে একই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের দেওয়া সংখ্যাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শরণার্থী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, তার পাল্টা ন্যারেটিভ হিসেবে মিয়ানমার এই বক্তব্য সামনে এনেছে। তাঁর মতে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই—এই ধারণা আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করারও চেষ্টা রয়েছে বিবৃতিতে।
এই কৌশলের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। কারণ রোহিঙ্গাদের পরিচয় স্বীকার করা হলে তাদের নাগরিকত্ব, অধিকার এবং নিজ ভূমিতে বসবাসের প্রশ্ন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিপরীতে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন করলে মিয়ানমার সহজেই তাদের বিদেশি বা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখানোর সুযোগ পায়। ফলে জাতিগত পরিচয়ের বিতর্কটি নিছক শব্দের বিতর্ক নয়; এটি ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ব ও অধিকার নির্ধারণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
মিয়ানমারের নতুন বিবৃতিতে আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়। দেশটি বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট মূলত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমস্যা, অথচ এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সংকটের প্রভাব বহু বছর ধরে বাংলাদেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
মিয়ানমারের বক্তব্যে তাই আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি প্রচেষ্টাও দেখতে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তারা বোঝাতে চাইছে যে প্রত্যাবাসনের জন্য তারা প্রস্তুত, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে দেওয়া তালিকা, পরিচয় ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটি এগোচ্ছে না। এর মাধ্যমে সংকটের দায়ের একটি অংশ বাংলাদেশের ওপরও চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গেও এই বিবৃতির সময়কে মিলিয়ে দেখছেন কেউ কেউ। দীর্ঘ সামরিক শাসন ও সংঘাতের পর দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্লেষক আসিফ মুনীরের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের যে প্রক্রিয়া হয়েছে, সেটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এমন বক্তব্য ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থাৎ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সামনে এনে মিয়ানমার নিজেদের একটি দায়িত্বশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতাপ্রবণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইতে পারে।
তবে বাস্তব প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী যদি মিয়ানমারে ফিরে যান, তাহলে তিনি কোথায় থাকবেন, তাঁর নাগরিকত্বের মর্যাদা কী হবে, চলাচলের স্বাধীনতা থাকবে কি না, সম্পত্তির অধিকার কী হবে এবং আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে কি না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন। মিয়ানমারের এবারের বিবৃতিতে যাচাই-বাছাইয়ের পর মানুষ গ্রহণের কথা বলা হলেও এসব নিরাপত্তা ও অধিকারসংক্রান্ত নিশ্চয়তার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এ কারণেই শুধু প্রত্যাবাসনের সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করলেই সংকটের সমাধান হবে না। একজন মানুষকে সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ হয় না। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করাই মূল বিষয়। রোহিঙ্গারা নিজেরাই যদি মনে করেন যে সেখানে ফিরে গেলে আবারও নিপীড়ন, বৈষম্য বা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে, তাহলে শুধু দুই দেশের প্রশাসনিক সমঝোতা দিয়ে প্রত্যাবাসন কার্যকর করা কঠিন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি হয়েছিল। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রথম দলকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে চীনের উদ্যোগে আরেক দফা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা হয়। কিন্তু নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো পরিষ্কার না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকাও দিয়েছিল। তবু প্রত্যাবাসন বাস্তবে শুরু করা যায়নি।
এই দীর্ঘ ব্যর্থতার ইতিহাসের কারণে নতুন বিবৃতিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি পুরোনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি—প্রত্যাবাসনে সম্মতির কথা বলা, কিন্তু পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অন্যান্য শর্তের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘায়িত করা।
তবে অন্য একটি দিকও রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর মিয়ানমার নিজেই যখন প্রকাশ্যে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে, তখন অন্তত আলোচনার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ চাইলে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের জন্য আরও স্পষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা দাবি করতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং স্বাভাবিকভাবে বসবাসের নিশ্চয়তার বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে রাখা জরুরি।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। নতুন করে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশের ঘটনাও পুরো সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে শুধু পুরোনো শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নয়, ভবিষ্যতে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে মিয়ানমারের নতুন বিবৃতি একদিকে প্রত্যাবাসনের দরজা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের পরিচয় অস্বীকার এবং বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাই এটিকে সরাসরি প্রত্যাবাসনের নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখার আগে এর বাস্তব পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নির্ভর করবে মিয়ানমার কতটা বাস্তবসম্মতভাবে তাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কতটা নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সামনে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে তার ওপর। শুধু বিবৃতি, পরিসংখ্যান কিংবা পরিচয় নিয়ে বিতর্কের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন এমন একটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, যেখানে ফিরে যাওয়া মানুষগুলো নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপদ বোধ করবেন এবং মিয়ানমার তাদের অধিকারকে বাস্তবে স্বীকৃতি দেবে। নতুন বিবৃতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তাই বক্তব্যে নয়—মিয়ানমার বাস্তবে কতজন রোহিঙ্গাকে, কোন শর্তে এবং কী ধরনের নিশ্চয়তা দিয়ে ফিরিয়ে নেয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ সত্যিকার প্রত্যাবাসনের পথ খুলছে, নাকি আবারও সময়ক্ষেপণের পুরোনো চক্রে ফিরে যাচ্ছে।
আপনার মতামত জানানঃ