Trial Run

৪০ বিশ্ব নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জো বাইডেন

ছবি:সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল দুই দিন এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (২৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা মহামারির কারণে এই সম্মেলন ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা ছাড়াও এই সম্মেলনে বাইডেন আরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন প্রমুখকে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বাইডেনের এই জলবায়ু সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সম্মেলনের সময় বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই লক্ষ্যের বিষয় ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টানতে নিজ নিজ দেশের জাতীয় পরিকল্পনার বিষয়ে জানাতে এ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন বিশ্বনেতারা।

আগামী নভেম্বরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘ আয়োজিত পরবর্তী জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সম্মেলন (কপ–২৬) অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে বাইডেনের এই সম্মেলন জলবায়ু ইস্যুতে অগ্রযাত্রার পথে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরআগে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ক্ষমতায় এসে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের প্রথম দিনই যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস চুক্তিতে ফেরানোর একটি আদেশে সই করেন। এর ঠিক ৩০ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে ফিরে দেশটি।

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তনি ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, এরপর থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিজ্ঞান কূটনীতি আমাদের পররাষ্ট্রনীতির আলোচনায় কখনো আসবে না। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত হুমকি চিহ্নিত করা ও আমাদের বিজ্ঞানীদের কথা মেনে চলা হবে আমাদের দেশীয় ও পররাষ্ট্রনীতির প্রথম অগ্রাধিকার। জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবার প্রচেষ্টার উদ্যোগ বিনিময় এবং আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বাণিজ্যিক আলোচনায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন জলবায়ু কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার এবং আগামী তিন দশকের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে বাইডেন প্রশাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওয়াশিংটন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরেছে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন বা ইউএনএফসিসিসি ১৯৯২ সালে প্রণীত হয়। ২৩ বছর ধরে অনেক সাধনার পর ২০১৫ সালে প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সারা বিশ্ব চুক্তিবদ্ধ হয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জাতিসংঘের নেতৃত্বে ওই জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্যারিস চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তি, এটি মার্কিন স্বার্থবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি পরিবেশ চুক্তি করতে তিনি আগ্রহী। তবে সেটা যদি সম্ভব না হয়, তা নিয়ে প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ নেই।

জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা। কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊচ্চতা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বাড়ছে প্রাণহানি। পরিবেশ বাঁচাতে বিশ্বনেতাদের এক হয়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই বলে অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন পরিবেশবাদীরা।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৯৫৫


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ