Trial Run

ইবি ছাত্র সাইফুল্লাহ’কে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি

সম্প্রতি ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্রের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখা প্রকাশ করার কারণে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাইফুল্লাহ আল হাদী নামে এক ছাত্রকে তার বিভাগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। সাইফুল্লাহ আল হাদী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আরবি ভাষা ও সাহিত্য’ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসাবে অধ্যায়রত।

শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির এক জরুরী সভায় সর্বসম্মতভাবে সাইফুল্লাহ আল হাদী’কে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আরবি ভাষা ও সাহিত্য’ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোস্তাক আলী জানান।

প্রফেসর ড. মোস্তাক আলী জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আমরা জরুরী সভা করেছি। সভায় সর্বসম্মতভাবে ওই ছাত্রের স্থায়ীভাবে ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একাডেমিক কমিটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উক্ত ছাত্রের স্থায়ীভাবে ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

জানা যায়, ইবি ছাত্র সাইফুল্লাহ আল হাদী শুক্রবার দুপুরে হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র ফ্রান্সের ম্যাগাজিনে ছাপানোর পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরে এবং কাবা ও যমযম কূপের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐ ছাত্রের শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

Image may contain: text

 

সাইফুল্লাহ আল হাদী’র ফেসবুকে প্রকাশিত সেই স্ট্যাটাসটি

জানা যায়, সাইফুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে সাথে সাথে ফেসবুকে প্রকাশ করা পোস্টটি মুছে দেয়। ছাত্রদের হুমকির ভয়ে সাইফুল্লাহ এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা যায়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইফুল্লাহর পোস্টটির সমালোচনার পাশাপাশি অনেকেই সাইফুল্লার পক্ষ নিয়ে বলছেন, সমাজে প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার অধিকার আছে। একজন ছাত্র মত প্রকাশ করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তকে বাক-স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কোনো ছাত্রের বাক-স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা বা মত প্রকাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিচার করার দায়িত্ব কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের হতে পারেনা।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •