একটি শিশু নিখোঁজ হওয়া মানে শুধু একটি পরিবারের একজন সদস্য হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক এবং দীর্ঘ অপেক্ষার এক কঠিন অধ্যায়। সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে দিনের পর দিন থানায়, হাসপাতালে, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে কিংবা সম্ভাব্য নানা জায়গায় খুঁজে বেড়ানো অভিভাবকদের জন্য সময় তখন যেন থমকে যায়। বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের শিশু নিখোঁজের পরিসংখ্যান সেই উদ্বেগেরই একটি বড় চিত্র সামনে এনেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। তবে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ বা তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, মোট নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে এখনো খোঁজ না পাওয়া শিশুদের সংখ্যা মোট ঘটনার প্রায় ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি একশ শিশুর মধ্যে প্রায় ১৩ জনের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংখ্যার দিক থেকে এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যত দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা যায়, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। কিন্তু কোনো শিশু দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকলে তার পরিবার যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে, তেমনি শিশুটির নিরাপত্তা নিয়েও নানা আশঙ্কা তৈরি হয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। পুলিশের বক্তব্য, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করা হলে পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুকে উদ্ধার করা হয় কিংবা সে নিজেই পরিবারের কাছে ফিরে আসে। তাই নিখোঁজ হওয়ার মোট সংখ্যা এবং পরে উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরে আসার সংখ্যা—দুই দিক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
পুলিশের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী মোট ৪৭৪ শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ৬৮ শিশুর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই বয়সসীমায় ১৫ হাজার ২৪৩ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো ১ হাজার ৯৭০ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিসংখ্যানটি বিশ্লেষণ করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। অপেক্ষাকৃত কম বয়সী শিশুদের তুলনায় ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অনেক বেশি। এর পেছনে বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক কারণ কাজ করতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলতে পারে। অনেক সময় তারা নিজেদের নাম, ঠিকানা বা বাবা-মায়ের পরিচয় বলতে পারে না। আবার কোনো কোনো শিশু একা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসতে পারে না। ফলে অল্প বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পথ হারানো বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। পুলিশ জানিয়েছে, এ বয়সী অনেকেই রাগ বা অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। কারও ক্ষেত্রে পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা পরিবারের প্রত্যাশা থেকে তৈরি মানসিক চাপ ভূমিকা রাখতে পারে। আবার কেউ কেউ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার আকাঙ্ক্ষা থেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরিবারে বিরোধ, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা বন্ধু ও সহপাঠীদের প্রভাবও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর পরিবার বা পুলিশের কাছ থেকে লুকানোর উদ্দেশ্যেও কিশোর-কিশোরীরা আত্মগোপন করতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবার পরিবার থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেও কেউ কেউ বাড়ি ছাড়তে পারে। এসব কারণ দেখায় যে শিশু নিখোঁজের বিষয়টি কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক চাপ, সামাজিক পরিবেশ, বন্ধুত্ব, শিক্ষা এবং কৈশোরের পরিবর্তনশীল মনস্তত্ত্বও গভীরভাবে জড়িত।
বিশেষ করে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে পরিবার ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। কৈশোর এমন একটি সময়, যখন একজন শিশু ধীরে ধীরে নিজের স্বাধীন পরিচয় ও সিদ্ধান্তের জায়গা তৈরি করতে চায়। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, কঠোর শাসন কিংবা তার অনুভূতি ও সমস্যাকে গুরুত্ব না দেওয়া হলে অনেক সময় সে নিজের সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করতে চায় না। ফলে ছোট কোনো বিরোধ বা অভিমানও বড় সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে।
তবে নিখোঁজ হওয়া সব শিশুর ক্ষেত্রেই যে তারা নিজের ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে যায়, তা নয়। অনেক শিশুই বাস্তব অর্থে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবার বা পুলিশ কোনো তথ্য পায় না। এ কারণে প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা ও দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পরিবার যত দ্রুত পুলিশকে জানাবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে, অনুসন্ধানের ক্ষেত্রও তত দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি বা জিডির সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশের হিসাবে ২০২৩ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে। পুলিশের মতে, অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালুর পর সাধারণ মানুষ সহজে পুলিশি সেবা গ্রহণ করতে পারায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই বৃদ্ধি অবশ্য শুধু নিখোঁজের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ নয়। অনলাইন জিডি ব্যবস্থার কারণে আগে যে ঘটনাগুলো থানায় গিয়ে জানাতে অনেকে অনাগ্রহী ছিলেন, এখন সেগুলোও সহজে নথিভুক্ত হতে পারে। ফলে পরিসংখ্যানের বৃদ্ধি একদিকে যেমন উদ্বেগের বিষয়, অন্যদিকে তেমনি নিখোঁজের ঘটনাগুলো আগের তুলনায় বেশি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ হওয়ার প্রতিফলনও হতে পারে।
তারপরও ২ হাজার ৩৮ শিশুর এখনো সন্ধান না পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর উদ্বেগের জায়গা। কারণ উদ্ধার হওয়া শিশুদের সংখ্যা মোট নিখোঁজের তুলনায় অনেক বেশি হলেও যেসব শিশু এখনো ফিরে আসেনি, তাদের প্রত্যেকের পেছনে রয়েছে একটি করে পরিবার, যারা অপেক্ষা করছে। একটি সংখ্যাকে যখন ব্যক্তিগত বাস্তবতায় দেখা হয়, তখন এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। ২ হাজার ৩৮ মানে ২ হাজার ৩৮টি পরিবার বা পরিবারের একাধিক সদস্যের দীর্ঘ উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং অপেক্ষা।
নিখোঁজ শিশুদের বিষয়টি তাই শুধু পুলিশি অনুসন্ধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ—সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তা সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করাও জরুরি। বিশেষ করে কৈশোরে সন্তান কী ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কোনো মানসিক চাপের মধ্যে আছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিশুদেরও নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে কিছু মৌলিক বিষয় শেখানো দরকার। নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর মনে রাখা, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কোথাও না যাওয়া, বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে—এসব শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই দেওয়া যেতে পারে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কীভাবে নিরাপদ জায়গায় থাকা যায় এবং কীভাবে পুলিশের সহায়তা নিতে হয়, সেটিও শিশুদের বয়স অনুযায়ী শেখানো প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অনুপস্থিত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা, দীর্ঘ অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং শিক্ষার্থীর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে অভিভাবককে জানানো অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। একইভাবে বন্ধু বা সহপাঠীদের মধ্যেও এমন কোনো তথ্য থাকলে তা যেন গোপন না রাখা হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তিও নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনলাইন জিডি ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ভবিষ্যতে নিখোঁজ শিশুদের তথ্য দ্রুত সমন্বয় করা, সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান আরও কার্যকর করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশি তৎপরতা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুকে খুঁজে বের করার পাশাপাশি কেন শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে, সেই কারণগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পথ হারানো ঠেকাতে অভিভাবকদের সতর্কতা যেমন জরুরি, তেমনি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক যোগাযোগ ও মানসিক সহায়তা বাড়ানো দরকার। পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, বন্ধুদের প্রভাব কিংবা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা—এসব বিষয়কে শুধুই অবাধ্যতা হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণ অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।
বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের পরিসংখ্যান তাই একটি সতর্কবার্তা। ১৫ হাজার ৭১৭টি নিখোঁজের অভিযোগের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুর ফিরে আসা অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু একই সময়ে ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান না পাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশু নিরাপত্তা এখনো বড় একটি সামাজিক দায়িত্ব। একটি শিশুও যেন নিখোঁজ হওয়ার পর অজানা অবস্থায় থেকে না যায়—এই লক্ষ্য অর্জনে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবারকে আরও সচেতন, সমাজকে আরও দায়িত্বশীল এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সমন্বিত হতে হবে।
কারণ একটি শিশু যখন নিখোঁজ হয়, তখন শুধু একটি মানুষ হারিয়ে যায় না; হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন, নিরাপত্তার অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা। আর যে পরিবার দিনের পর দিন সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় থাকে, তাদের কাছে প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়া কিংবা রাস্তায় দেখা প্রতিটি শিশুর মুখ নতুন আশার জন্ম দেয়। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোই হওয়া উচিত নিখোঁজ শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই দায়িত্বের গুরুত্বই আবার সামনে এনে দিয়েছে।
আপনার মতামত জানানঃ