
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভাতা এখন আর নির্বাচনের পাশে থাকা একটি সামাজিক প্রকল্প নয়; এটি শাসক ও নাগরিকের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক চুক্তি। মাসের নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক হিসাবে টাকা ঢোকা মানে শুধু কিছু নগদ সহায়তা নয়—পরিবারের বাজার, ওষুধ, যাতায়াত বা সন্তানের পড়াশোনার ছোট অথচ জরুরি খরচের নিশ্চয়তা। যে কারণে সেই টাকা না এলে ক্ষোভও শুধু প্রশাসনিক অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুত রাজনৈতিক প্রতারণার অনুভূতিতে রূপ নেয়।
আগস্টে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে নারীদের বিক্ষোভ সেই পরিবর্তনেরই প্রকাশ। মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, হাওড়া ও হুগলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পথ ও রেল অবরোধ, প্রশাসনিক দপ্তর ঘেরাওয়ের খবর এসেছে। জঙ্গিপুরে শতাধিক নারী পুরসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন; তাঁদের দাবি, নিয়ম মেনে আবেদন ও যাচাইয়ের পরও টাকা মেলেনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদন এবং জঙ্গিপুরের বিক্ষোভের বিস্তারিত এই বিস্তৃত অসন্তোষের ছবি তুলে ধরেছে।
এই পরিস্থিতিকে শুধু একটি নতুন প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দেখলে পশ্চিমবঙ্গের বড় রাজনৈতিক রূপান্তরটি ধরা পড়বে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে তৃণমূল যে কল্যাণ-রাজনীতিকে নারীর ব্যাংক হিসাব পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এসে সেই মডেল বাতিল করেনি। বরং নাম বদলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার করেছে, সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৩,০০০ টাকা করেছে। অর্থাৎ যে ‘ভাতার রাজনীতি’র সমালোচনা করে বিরোধী রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, ক্ষমতায় গিয়ে বিজেপি তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটিই নিজের হাতে তুলে নিয়েছে।
তৃণমূলের মডেল, বিজেপির বড় প্রতিশ্রুতি
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপির ইশতেহারে পরিবারের নারী প্রধানকে মাসে ৩,০০০ টাকা, বেকার যুবকদের একই অঙ্কের ভাতা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ১৫,০০০ টাকা এবং চাকরি-দুর্নীতিতে বঞ্চিতদের বয়সে ছাড়ের প্রতিশ্রুতি ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ইশতেহার-সারাংশে এসব প্রতিশ্রুতি নথিবদ্ধ আছে।
৯ মে প্রথম বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্পষ্ট হয়, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল কল্যাণমূলক নগদ সহায়তার অবসান নয়। Down To Earth-এর বিশ্লেষণ বলছে, তৃণমূলের নগদ-হস্তান্তর মডেল ধরে রেখেই বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নামে সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ভোটের হিসাবে ২০২১ সালে তৃণমূল ৪৮.৫ শতাংশ ভোট পেলেও ২০২৬ সালে তা ৪০.৮ শতাংশে নেমে আসে; বিজেপি পায় ৪৫.৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ কল্যাণ প্রকল্প তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও দুর্নীতি, চাকরিহীনতা, শিল্প ও অবকাঠামো নিয়ে অসন্তোষকে আর ঠেকাতে পারেনি।
বিজেপি এখান থেকে দুটি শিক্ষা নিয়েছিল। প্রথমত, শুধু ‘ভাতা নয়, উন্নয়ন’ বলে নগদ সহায়তার জনপ্রিয়তা অস্বীকার করা নির্বাচনীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলকে পরাজিত করতে হলে তার উপকারভোগী গোষ্ঠী—বিশেষ করে নারী ভোটারদের—ভাতা বন্ধের ভয় না দেখিয়ে বেশি সহায়তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাই অন্নপূর্ণা ছিল সামাজিক প্রকল্পের পাশাপাশি ক্ষমতা বদলের সেতু।
সাফল্যের সংখ্যার ভেতর বাদ পড়াদের ক্ষোভ
সরকারি বাস্তবায়নের পরিসর ছোট নয়। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অন্নপূর্ণা প্রকল্পে ১ কোটি ৬২ লাখ আবেদন যাচাই এবং ১ কোটি ৪৫ লাখ নারীকে তৃতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার হিসাব এই ব্যাপক বিস্তার দেখায়। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আরেক হিসাবে ১৭ লাখ আবেদন বাতিল এবং ১৪ লাখ আবেদন তখনও যাচাইাধীন ছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন।
এখানেই সংখ্যার রাজনৈতিক দ্বৈততা। ১ কোটি ৪৫ লাখ উপকারভোগী সরকারের জন্য বড় সাফল্যের পরিসংখ্যান। কিন্তু ১৭ লাখ বাতিল ও ১৪ লাখ অপেক্ষমাণ আবেদন মানে প্রায় ৩১ লাখ পরিবারে অনিশ্চয়তা—যা নিজেই একটি বড় রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী। আধার ও ব্যাংক হিসাবের অমিল, আয়কর, পরিবারের সরকারি চাকরি, স্থায়ী বাসিন্দা বা ভোটার তালিকার তথ্য—এসব যাচাইয়ের বৈধ কারণ থাকতে পারে। কিন্তু প্রত্যাখ্যানের কারণ স্পষ্ট না হলে কিংবা সংশোধনের সহজ পথ না থাকলে প্রশাসনিক ফিল্টার নাগরিকের চোখে রাজনৈতিক বাছাই হয়ে ওঠে।
সরাসরি ব্যাংক হস্তান্তর দুর্নীতির কিছু মধ্যবর্তী স্তর কমায়, কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থা নতুন ধরনের বঞ্চনাও তৈরি করতে পারে। বানান বা বয়সের অমিল, নিষ্ক্রিয় ব্যাংক হিসাব, আধার সংযোগের ত্রুটি, সার্ভারের সমস্যা কিংবা স্থানীয় দপ্তরের ভুল—কোনো একটির জন্য টাকা থেমে যেতে পারে। রাষ্ট্রের ডেটাবেইসের ভুলের দায় তখন গরিব আবেদনকারীকেই প্রমাণপত্র নিয়ে দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরে বহন করতে হয়।
ক্ষোভ কেন এত দ্রুত রাজপথে
ভাতার প্রতিশ্রুতিতে একটি মৌলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। নির্বাচনের আগে ঘোষিত মাসিক অঙ্ক ক্ষমতায় আসার পর আর দয়া বা অনুদান থাকে না; উপকারভোগীর কাছে তা অর্জিত অধিকার। সরকার যত বড় অঙ্ক এবং যত দ্রুত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, নাগরিকের প্রত্যাশাও তত নির্দিষ্ট হয়। ফলে মাসের প্রথম সপ্তাহে টাকা আসার অভ্যাস তৈরি হলে কয়েক দিনের বিলম্বও চুক্তিভঙ্গের অনুভূতি তৈরি করে।
এই ক্ষোভের আরেক কারণ জীবনযাত্রার ব্যয়। ৩,০০০ টাকা কোনো পরিবারের দারিদ্র্য দূর করে না, কিন্তু খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও যাতায়াতের চাপের মধ্যে তা মাসিক বাজেটের দৃশ্যমান অংশ। নগদ সহায়তার ওপর নির্ভরতা যত বাড়ে, পেমেন্টের অনিশ্চয়তার আঘাত তত বেশি হয়। তাই বিক্ষোভকারীদের রাজপথে আসা প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয়তার প্রমাণ নয়; উল্টোভাবে বলা যায়, প্রকল্পটি তাঁদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেই অনিয়ম সহ্যযোগ্য নয়।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘দান-ধ্যানের অভ্যাস’ তৃণমূল তৈরি করেছে এবং সরকারি প্রকল্পে শর্ত থাকে—সবাই সুবিধা পাবেন না। রাজনৈতিকভাবে এই বক্তব্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বর্তমান সরকার নিজেই সেই সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিতে ভোট চেয়েছে। ক্ষমতায় এসে পূর্বসূরির সংস্কৃতিকে দায়ী করা প্রশাসনিক ব্যর্থতার উত্তর নয়। বরং এতে উপকারভোগী নাগরিককে অধিকারধারী না ভেবে অনুদানপ্রার্থী হিসেবে দেখার মনোভাব প্রকাশ পেতে পারে।
কল্যাণ বনাম উন্নয়ন—এটি কি ভুল দ্বন্দ্ব?
কল্যাণের সমালোচনায় প্রায়ই বলা হয়, ভাতায় অর্থ খরচ হওয়ায় শিল্প, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো অবহেলিত হয়। আবার সমর্থকেরা বলেন, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে নগদ অর্থ দিলে তার বড় অংশ স্থানীয় বাজারে ফিরে আসে—ফলে চাহিদা ও ছোট ব্যবসা সচল হয়। দুই বক্তব্যের মধ্যেই সত্য আছে। নগদ সহায়তা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা দেয়; কিন্তু সেটি চাকরি, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বা শিল্পায়নের বিকল্প নয়।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের সামনে আর্থিক সীমাবদ্ধতাও কঠিন। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বেতন, পেনশন ও সুদ মিলিয়ে দায়বদ্ধ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ১৯০ কোটি টাকা—যা রাজ্যের সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের ৫১ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু সুদেই ৫৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন রয়েছে। PRS Legislative Research-এর বাজেট বিশ্লেষণ এই সীমিত আর্থিক পরিসর দেখায়। প্রথম বিজেপি বাজেটে অন্নপূর্ণার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা, এক লাখ সরকারি চাকরি এবং মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে; একই সঙ্গে রাজ্যের ঋণের বোঝা ৮.১৫ লাখ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেট প্রতিবেদনের বিস্তারিত।
তাই প্রশ্ন ভাতা থাকবে কি থাকবে না—এত সরল নয়। প্রশ্ন হলো, ভাতা কি কর্মসংস্থান ও জনপরিষেবার ঘাটতি ঢাকার একমাত্র রাজনৈতিক ভাষা হয়ে উঠছে? যদি সরকার মাসিক নগদ সহায়তা দেয় কিন্তু নিয়োগ, শিল্প বিনিয়োগ, হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও স্থানীয় অবকাঠামোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না আনে, তবে মানুষ একই সঙ্গে ভাতাও চাইবে এবং চাকরির ব্যর্থতার জন্য সরকারকেও দায়ী করবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় তারই সতর্কবার্তা: কল্যাণের উপকারভোগী হওয়া শাসককে স্থায়ী রাজনৈতিক আনুগত্য দেওয়ার সমান নয়।
বিজেপির জন্য তিনটি রাজনৈতিক ফাঁদ
প্রথম ফাঁদ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ। তৃণমূলের সহায়তাকে দ্বিগুণ করে বিজেপি প্রত্যাশার মানদণ্ডও দ্বিগুণ করেছে। এখন টাকা দিতে দেরি হলে ক্ষোভ শুধু ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে নয়, নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতার বিরুদ্ধেও যাবে।
দ্বিতীয় ফাঁদ যোগ্যতার রাজনৈতিকতা। কার আবেদন বাতিল হবে—তার নিয়ম যদি অস্পষ্ট হয়, বিশেষ করে ভোটার তালিকা বা নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হলে, বিরোধীরা সহজেই এটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাছাই হিসেবে তুলে ধরবে। নারী, সংখ্যালঘু, সীমান্তবাসী বা দরিদ্র পরিবার বেশি বাদ পড়লে এই সন্দেহ আরও তীব্র হবে।
তৃতীয় ফাঁদ কেন্দ্র–রাজ্য সমন্বয়ের অজুহাত হারানো। বিরোধী অবস্থায় বিজেপি বলেছিল, কেন্দ্রের সঙ্গে একই দলের সরকার হলে টাকা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে। ফলে এখন অর্থসংকট বা কেন্দ্রীয় সহযোগিতার অভাব দেখিয়ে বিলম্ব ব্যাখ্যা করা কঠিন। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ প্রতিশ্রুতি ফল না দিলে একই স্লোগান জবাবদিহির অস্ত্র হয়ে ফিরবে।
কল্যাণের রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নের বিশ্বাস সংকটে
বর্তমান বিক্ষোভ থেকে এখনই বলা যায় না যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভাতা-নির্ভর কল্যাণনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। বরং কোটি মানুষের অংশগ্রহণ ও টাকা না পেয়ে প্রতিবাদ দেখায়, প্রকল্পটির সামাজিক চাহিদা প্রবল। সংকটটি তিন জায়গায়: ঘোষিত সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা, বাদ পড়লে ন্যায়সংগত ব্যাখ্যা এবং সময়মতো অর্থপ্রদান।
সরকার চাইলে এই সংকট সামলাতে পারে। প্রতিটি আবেদনকারীকে প্রত্যাখ্যান বা স্থগিত হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এসএমএস ও লিখিতভাবে জানানো, ব্লক ও পুরসভায় এক-জানালা সংশোধন কেন্দ্র খোলা, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ, জেলা ও সামাজিক গোষ্ঠীভিত্তিক অনুমোদন–বাতিলের তথ্য প্রকাশ এবং ব্যর্থ পেমেন্টের স্বাধীন নিরীক্ষা করা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কোনো বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক বা স্থানীয় নেতার সুপারিশ যেন সুবিধা পাওয়ার শর্ত না হয়।
একই সঙ্গে বাজেটে অন্নপূর্ণার ৩৬ হাজার কোটি টাকার পাশে ঘোষিত চাকরি, শিল্প ও অবকাঠামোর অগ্রগতি ত্রৈমাসিকভাবে প্রকাশ করা উচিত। কল্যাণকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগের বিপরীতে দাঁড় করানো নয়; বরং নগদ নিরাপত্তা থেকে দক্ষতা, কাজ ও আয় বৃদ্ধির সেতু তৈরি করতে হবে।
শেষ কথা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে কল্যাণের রাজনীতি সংকটে পড়েনি; সংকটে পড়েছে কল্যাণের ওপর দাঁড়ানো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পুরোনো কৌশল। একসময় ভাতা ছিল শাসকের অনুগ্রহের বার্তা। এখন উপকারভোগী সেটিকে নিজের অধিকার মনে করেন—এবং অধিকার না পেলে রাজপথে নামেন। এই রূপান্তর গণতন্ত্রের জন্য অস্বস্তিকর হলেও ইতিবাচক: নাগরিক আর শুধু কৃতজ্ঞ ভোটার নন, তিনি হিসাব চাওয়া দাবিদার।
তৃণমূল দেখেছে, শতাধিক প্রকল্পও চাকরি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষোভকে অনির্দিষ্টকাল চাপা দিতে পারে না। বিজেপিও শিখছে, প্রতিপক্ষের প্রকল্পের নাম বদলে অঙ্ক বাড়ালেই দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হয় না। টাকা নিয়মিত পৌঁছাতে হবে, বাদ পড়ার নিয়ম ন্যায়সংগত হতে হবে এবং ভাতার বাইরে জীবনের উন্নতির পথও দেখাতে হবে।
অন্নপূর্ণার বিক্ষোভ তাই কল্যাণরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নয়। এটি এমন এক কল্যাণরাষ্ট্রের দাবি—যেখানে প্রতিশ্রুতি বিজ্ঞাপন নয়, অধিকার; ডেটাবেইসের ভুল নাগরিকের শাস্তি নয়; এবং ভাতা কর্মসংস্থানের বিকল্প নয়। যে সরকার এই বার্তা বুঝবে, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজনৈতিক আস্থাও তার দিকেই যাবে।
আপনার মতামত জানানঃ