যুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গেলে আমাদের চোখের সামনে সাধারণত ভেসে ওঠে সৈন্য, কামান, বন্দুক, যুদ্ধজাহাজ কিংবা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরের ছবি। কিন্তু যুদ্ধের আরেকটি ইতিহাস আছে, যে ইতিহাস অনেক সময় যুদ্ধের সরকারি নথি, বিজয়ীর গল্প কিংবা সামরিক সাফল্যের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। সেই ইতিহাস নারীদের শরীর, ভয়, অপমান ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের ইতিহাস। যুদ্ধের সঙ্গে যৌন সহিংসতার সম্পর্ক নতুন কোনো ঘটনা নয়। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাচীন যুদ্ধ থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর সংঘাত পর্যন্ত যৌন সহিংসতা বিভিন্ন সময়ে জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ, ভয় দেখানো, অপমান করা এবং প্রতিরোধের মনোবল ভেঙে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের সঙ্গে নারীর শরীরের এই ভয়াবহ সম্পর্ক তৈরি হলো কীভাবে? কেন একজন নারী, যিনি নিজে কোনো যুদ্ধ শুরু করেননি, যুদ্ধরত পক্ষের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠলেন?
এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের কয়েক হাজার বছর পেছনে যেতে হয়। প্রাচীন সমাজে যুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড দখলের বিষয় ছিল না; যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সম্পদ, দাসত্ব, বংশবিস্তার, ক্ষমতা এবং বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা। বিজিত শহর বা রাজ্য দখলের পর সেখানকার মানুষকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা অনেক সমাজেই ছিল। নারীদের ক্ষেত্রেও এর নির্মম প্রকাশ ঘটত। প্রাচীন সাহিত্যে যুদ্ধের পর নারীদের ‘যুদ্ধলব্ধ সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনার উল্লেখ পাওয়া যায়। হোমারের ‘ইলিয়াড’-এ ব্রিসেইসের কাহিনি তার একটি বহুল আলোচিত উদাহরণ; জাতিসংঘও প্রাচীন সাহিত্যে যুদ্ধের পুরস্কার হিসেবে নারীদের ব্যবহারের এই ইতিহাস তুলে ধরেছে।
এর পেছনে ছিল একটি গভীর সামাজিক ধারণা—নারীকে শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, পরিবারের সম্মান, বংশ এবং সামাজিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখা। ফলে কোনো জনগোষ্ঠীর নারীদের অপমান করা মানে শুধু একজন মানুষকে আঘাত করা নয়; প্রতিপক্ষের পরিবার ও সামাজিক কাঠামোকেও অপমান করা। যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় এই ধারণা নারীদের শরীরকে রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যের প্রতীকে পরিণত করেছিল।
সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের অস্ত্র বদলেছে, সাম্রাজ্য বদলেছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলেছে; কিন্তু এই মানসিকতার কিছু অংশ বহু শতাব্দী ধরে টিকে থেকেছে। মধ্যযুগীয় যুদ্ধ, সাম্রাজ্য বিস্তার, উপনিবেশ স্থাপন কিংবা গৃহযুদ্ধ—বিভিন্ন সংঘাতে নারী ও মেয়েরা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলোকে যুদ্ধের ‘স্বাভাবিক পরিণতি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধের বিশৃঙ্খলার মধ্যে নারীর ওপর সহিংসতাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
এই জায়গাটিই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর নীরবতাগুলোর একটি। যুদ্ধের মাঠে একজন সৈন্য নিহত হলে সেটি যুদ্ধের ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু একজন নারী ধর্ষিত হলে বহু সময় সেটিকে ব্যক্তিগত লজ্জা, পারিবারিক কলঙ্ক বা ‘যুদ্ধের অনিবার্য ঘটনা’ হিসেবে আড়াল করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতাকে অনেক ক্ষেত্রেই অনিবার্য বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল।
বিশ শতকে এসে যুদ্ধের ধরন আরও ভয়াবহভাবে বদলে যায়। দুটি বিশ্বযুদ্ধ দেখিয়ে দেয় যে আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শহর, গ্রাম, পরিবার ও সাধারণ মানুষও যুদ্ধের সরাসরি লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরা যৌন সহিংসতার শিকার হন। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার বা সামাজিক স্বীকৃতি পাননি। যুদ্ধের বিজয়-পরাজয়ের গল্পের নিচে তাঁদের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা চাপা পড়ে যায়। জাতিসংঘের নথিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংঘাতে যৌন সহিংসতার ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—যৌন সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রে আর শুধু সৈন্যের ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না। কোনো কোনো সংঘাতে এটি পরিকল্পিতভাবে জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো, বাস্তুচ্যুত করা কিংবা সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার কৌশল হয়ে ওঠে।
বসনিয়া যুদ্ধ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ১৯৯০-এর দশকের সংঘাতে ব্যাপক যৌন সহিংসতা আন্তর্জাতিক সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। একইভাবে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যায় নারীদের ওপর ব্যাপক যৌন সহিংসতা সংঘটিত হয়। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আসে—ধর্ষণ কি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ, নাকি এটি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা গণহত্যার অংশ হতে পারে?
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিকাশ সেই প্রশ্নের উত্তর বদলে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ এবং অন্যান্য গুরুতর যৌন সহিংসতা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
তবে কেন নারীরাই এত বেশি লক্ষ্য হন?
এর একটি বড় কারণ হলো ক্ষমতার অসম সম্পর্ক। যুদ্ধের সময় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী যখন কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন শুধু পুরুষ যোদ্ধাদের পরাজিত করাই যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। পরিবার ও সমাজের ভেতরের নিরাপত্তাবোধ ভেঙে দিতে নারী ও শিশুদের ওপর আক্রমণ ভয়াবহ কার্যকর হয়ে ওঠে। জাতিসংঘ বলছে, সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা ভয় সৃষ্টি, অপমান, আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং একটি সম্প্রদায়ের সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।
আরেকটি কারণ হলো নারীর ওপর দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্য। যেখানে নারীর শরীরকে পরিবারের সম্মান বা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, সেখানে নারীর ওপর যৌন সহিংসতা শুধু ব্যক্তিকে নয়, তার পরিবার ও সম্প্রদায়কেও মানসিকভাবে আঘাত করে। অপরাধীরা এই সামাজিক বাস্তবতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। একজন নারীকে অপমান করার মাধ্যমে একটি পুরো পরিবারকে আতঙ্কিত করা সম্ভব হয়; একটি পরিবারকে আতঙ্কিত করার মাধ্যমে একটি সম্প্রদায়কে বাস্তুচ্যুত করাও সম্ভব হতে পারে।
এখানেই যুদ্ধকালীন ধর্ষণকে সাধারণ যৌন অপরাধ থেকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। এর উদ্দেশ্য সবসময় যৌন আকাঙ্ক্ষা নয়; অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হতে পারে ক্ষমতা, ভয়, অপমান, প্রতিশোধ, নিয়ন্ত্রণ কিংবা জনগোষ্ঠীকে ঘরছাড়া করা। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও যৌন সহিংসতাকে রাজনৈতিক দমন, সন্ত্রাস, জনগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তুচ্যুতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো, এই অপরাধের ক্ষতি একটি ঘটনার মধ্যেই শেষ হয় না। একজন নারী শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক যন্ত্রণা, সামাজিক কলঙ্ক, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে পারেন। যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও সেই ক্ষত থেকে যেতে পারে। কখনো কখনো সন্তানরাও সেই সামাজিক ও মানসিক ক্ষতির প্রভাব বহন করে। জাতিসংঘ বলছে, সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি। যুদ্ধের সময় যৌন সহিংসতা ‘স্বাভাবিক’ বা ‘অনিবার্য’ নয়। ইতিহাসে এটি বহুবার ঘটেছে বলেই এটি যুদ্ধের স্বাভাবিক অংশ হয়ে যায় না। বরং ইতিহাস দেখায়, অপরাধীদের দায়মুক্তি, দুর্বল বিচারব্যবস্থা, সামাজিক নীরবতা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য এই অপরাধকে আরও সহজ করেছে। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে বলেছে, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা অপরিহার্য নয়; এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একবিংশ শতাব্দীতে এসে আন্তর্জাতিক সমাজ এই বিষয়টিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০০০ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব যুদ্ধ ও শান্তির ক্ষেত্রে নারীদের বিশেষ প্রভাব এবং অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০০৮ সালের ১৮২০ নম্বর প্রস্তাব যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
তারপরও বাস্তবতা আশাব্যঞ্জক নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যত দুর্বল হয় এবং আইনশৃঙ্খলা যত ভেঙে পড়ে, নারীদের ঝুঁকি তত বাড়ে। বর্তমান বিশ্বের সংঘাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিদ্রোহী সংগঠন ও চরমপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয়। ফলে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার যাচাইকৃত ঘটনাগুলোর ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী ও মেয়েদের ওপর প্রভাব ফেলে; একই সঙ্গে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অসংখ্য ঘটনা রিপোর্টই হয় না।
তবে এই ইতিহাসকে শুধু ‘নারীরা যুদ্ধের শিকার’—এই একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ করাও ঠিক নয়। নারীরা শুধু ভুক্তভোগী নন; যুদ্ধের মধ্যেও তাঁরা চিকিৎসক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, যোদ্ধা, শান্তিদূত, সংগঠক এবং পরিবার ও সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জাতিসংঘের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কাঠামোও নারীদের শুধু সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যক্তি হিসেবে নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
তাই ‘যুদ্ধে নারীরা কেন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য?’—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু পুরুষতন্ত্র, ক্ষমতা কিংবা যৌন আকাঙ্ক্ষার মধ্যে খুঁজলে পুরো ছবিটি পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধের প্রকৃতি, সামাজিক কাঠামো, জনগোষ্ঠীগত পরিচয়, প্রতিশোধের রাজনীতি, বাস্তুচ্যুতি, সামরিক নিয়ন্ত্রণ, বিচারহীনতা এবং নারীর শরীরকে পরিবার ও সম্প্রদায়ের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘ ইতিহাস।
হাজার বছর আগে যুদ্ধের বিজয়ীরা হয়তো নারীদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে দেখত। আধুনিক পৃথিবী সেই ধারণাকে আইন দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবু যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে বারবার দেখা যায়, পুরোনো সেই মানসিকতার ছায়া এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি তাই শুধু আইনে নয়, দৃষ্টিভঙ্গিতে দরকার। একজন নারী যখন যুদ্ধের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হন, তখন সেটিকে তাঁর ব্যক্তিগত লজ্জা হিসেবে দেখা নয়; বরং অপরাধীর অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ লজ্জা ভুক্তভোগীর নয়, অপরাধীর। আর যুদ্ধের ইতিহাস যদি সত্যিই সম্পূর্ণভাবে লিখতে হয়, তাহলে বিজয়ীদের সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি সেই নারীদের কথাও লিখতে হবে, যাদের শরীর ও জীবন যুদ্ধের অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।
ইতিহাসের এই নীরব অধ্যায় আমাদের একটি কঠিন সত্য শেখায়—যুদ্ধ শুধু সীমান্ত বদলায় না, মানুষের জীবন, পরিবার, পরিচয় এবং ভবিষ্যৎও বদলে দেয়। আর যখন নারীর শরীরকে সেই যুদ্ধের অস্ত্র বানানো হয়, তখন একটি গুলি একজন মানুষকে হত্যা করতে পারে, কিন্তু যৌন সহিংসতা কখনো কখনো একটি পুরো পরিবার, সম্প্রদায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের জীবনকে ক্ষতবিক্ষত করে দিতে পারে। তাই যুদ্ধের ইতিহাসে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ইতিহাস কোনো পার্শ্বকাহিনি নয়; এটি যুদ্ধ কীভাবে ক্ষমতা ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তারই একটি নির্মম অধ্যায়।
আপনার মতামত জানানঃ