
স্ট্যান্ডফার্স্ট: নাৎসি জার্মানির বহু আগে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যুদ্ধজয়ের কৌশল হিসেবে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে বন্দিশিবিরে ঠেলে দিয়েছিল। অনাহার, রোগ ও প্রশাসনিক অবহেলায় সেখানে মারা যায় প্রায় ২৮ হাজার বোয়ার এবং অন্তত ১৪ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান। ছবিতে ও নথিতে ফিরে দেখা সেই প্রায়-বিস্মৃত ইতিহাস।
দক্ষিণ আফ্রিকার শুষ্ক প্রান্তরে সারি সারি সাদা তাঁবু। দূর থেকে দেখলে অস্থায়ী কোনো বসতি মনে হতে পারে। কিন্তু তাঁবুগুলোর ভেতরে ছিল ক্ষুধা, রোগ, শোক এবং মৃত্যুর অপেক্ষা। অধিকাংশ বাসিন্দা নারী ও শিশু। তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ফসল নষ্ট করা হয়েছে, গবাদিপশু কেড়ে নেওয়া বা হত্যা করা হয়েছে। এরপর সামরিক পাহারায় তুলে আনা হয়েছে এই শিবিরে।
সময়টা ১৮৯৯ থেকে ১৯০২। সংঘাতটি ইতিহাসে দ্বিতীয় অ্যাংলো–বোয়ার যুদ্ধ বা দক্ষিণ আফ্রিকার যুদ্ধ নামে পরিচিত। একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকান রিপাবলিক বা ট্রান্সভাল এবং অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বোয়াররা—মূলত ডাচ বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারী। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও এ লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় বেসামরিক মানুষ।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই শিবিরগুলোকে অনেক সময় ‘ইতিহাসের প্রথম কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ বলা হয়। দাবিটি নির্ভুল নয়। অন্তত ১৮৯৬ সালে কিউবায় স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসন ‘রিকনসেন্ত্রাসিওন’ নীতির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে জোর করে নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরিয়ে নিয়েছিল। আরও পুরোনো কিছু নজির নিয়েও ইতিহাসবিদদের আলোচনা আছে। তবে বোয়ার যুদ্ধের শিবিরগুলো আধুনিক কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক: এখানে বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণ করা একটি সুসংগঠিত সামরিক কৌশলে পরিণত হয়েছিল এবং ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ শব্দটি আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাতি পায়।
যুদ্ধ থেকে জনপদ উচ্ছেদ
উনিশ শতকের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ভূখণ্ড এবং বিপুল খনিজ সম্পদ—বিশেষত সোনা ও হীরার ওপর কর্তৃত্ব—ঘিরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও বোয়ার প্রজাতন্ত্রগুলোর বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮৯৯ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম দিকে প্রচলিত রণকৌশলে লড়াই চললেও ১৯০০ সালে বোয়ারদের প্রধান শহরগুলো দখলের পরও ব্রিটিশরা প্রতিরোধ শেষ করতে পারেনি। বোয়ার কমান্ডোরা ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গেরিলা যুদ্ধ চালাতে থাকে। স্থানীয় খামার থেকে তারা খাবার, আশ্রয়, ঘোড়া ও গোয়েন্দা সহায়তা পেত।
ব্রিটিশ বাহিনী এর জবাবে গ্রহণ করে ‘স্কর্চড আর্থ’ বা পোড়ামাটি নীতি। উদ্দেশ্য ছিল যোদ্ধাদের সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের যোগসূত্র ছিন্ন করা। খামারবাড়ি পোড়ানো, শস্য ধ্বংস, গবাদিপশু হত্যা বা বাজেয়াপ্ত করা এবং বসতিদের সরিয়ে নেওয়া—সবকিছুই এই কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে। যুদ্ধ তখন আর শুধু সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বেঁচে থাকার অবকাঠামোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
শুরুতে আত্মসমর্পণকারী বোয়ারদের পরিবারকে রাখার জন্য ‘রিফিউজি ক্যাম্প’ স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়েই যুদ্ধে থাকা পুরুষদের স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ ও অসুস্থদেরও জোর করে সেখানে আনা শুরু হয়। ১৯০০ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সর্বাধিনায়ক লর্ড কিচেনারের এক নির্দেশনায় নারী, শিশু, যুদ্ধে অক্ষম পুরুষ এবং বোয়ার খামারে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের আটক রাখাকে গেরিলাদের সহনশক্তি ভাঙার কার্যকর উপায় হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ শিবিরগুলো কেবল মানবিক আশ্রয় ছিল না; এগুলো ছিল যুদ্ধের চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার।
তাঁবুর ভেতরে মৃত্যু
মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও শিবিরগুলোর খাবার, পানি, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা ছিল মারাত্মক অপর্যাপ্ত। একই তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকতে হতো একাধিক পরিবারকে। গরমে অসহনীয় তাপ, শীতে তীব্র ঠান্ডা; বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং দুর্বল স্যানিটেশন রোগ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল। হাম, টাইফয়েড ও আমাশয়ের মতো রোগ শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অপুষ্ট শরীর রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারত না।
রেশনেও ছিল বৈষম্য। আত্মসমর্পণকারী বা ব্রিটিশদের সহযোগী পরিবারের তুলনায় তখনো যুদ্ধরত বোয়ার যোদ্ধাদের পরিবারকে কম খাবার দেওয়ার নীতি চালু ছিল। ফলে বন্দিদের দুর্দশা কেবল দুর্বল প্রশাসনের ফল ছিল না; অন্তত একটি পর্যায়ে খাবারও ব্যবহৃত হয়েছে আনুগত্য আদায়ের উপায় হিসেবে।
South African History Online-এর হিসাব অনুযায়ী, শ্বেতাঙ্গ বোয়ার শিবিরগুলোতে মোট ২৭ হাজার ৯২৭ জন মারা যায়। তাদের মধ্যে ২২ হাজার ৭৪ জন ছিল ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু; নারী ৪ হাজার ১৭৭ এবং পুরুষ ১ হাজার ৬৭৬ জন। অর্থাৎ মৃতদের প্রায় চার-পঞ্চমাংশই শিশু। বন্দুকের গুলিতে নয়, তারা মরেছিল রোগ, অপুষ্টি এবং এমন এক বন্দিব্যবস্থার ভেতরে, যেখানে জীবনের মৌলিক শর্তগুলো নিশ্চিত করা হয়নি।
১৯০১ সালের অক্টোবর নাগাদ শ্বেতাঙ্গ শিবিরগুলোতে বার্ষিক মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩৪৪-এ পৌঁছেছিল বলে ইতিহাসবিদ ফ্রান্সইয়োহান প্রিটোরিয়াস উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে গ্লাসগোর সাধারণ মৃত্যুহারের সঙ্গে তুলনা করে ব্রিটিশ নীতিকে পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হলেও ঐতিহাসিক তথ্য সেই যুক্তিকে সমর্থন করে না। শিবিরে আবদ্ধ মানুষ স্বাধীন নাগরিক ছিল না; তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে সেখানে আনা হয়েছিল এবং জীবনরক্ষার উপায় ছিল পুরোপুরি কর্তৃপক্ষের হাতে।
যে ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যু আড়ালে
বোয়ার নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ তুলনামূলকভাবে পরিচিত হলেও কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের অভিজ্ঞতা বহু দশক ধরে ইতিহাসের প্রান্তে ছিল। তাদের জন্য পৃথক শিবির তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ নথিতে এগুলোকে প্রায়ই ‘নেটিভ রিফিউজি ক্যাম্প’ বলা হতো—একটি ভাষা, যা আটক, উচ্ছেদ এবং বাধ্যতামূলক শ্রমের বাস্তবতাকে আড়াল করত।
যুদ্ধটি শুধু দুই শ্বেতাঙ্গ শক্তির সংঘাত ছিল না। কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানরা উভয় পক্ষের হয়ে শ্রমিক, বাহক, স্কাউট, প্রহরী ও যোদ্ধা হিসেবে যুক্ত ছিল; আবার উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে তাদের বসতি ও জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিবিরে আটক অনেককেই ব্রিটিশ যুদ্ধযন্ত্রের জন্য শ্রম দিতে হয়েছে—রেলপথ রক্ষা, কৃষিকাজ, পরিবহন কিংবা অন্যান্য কাজে। ইতিহাসবিদ গার্থ বেনিওয়ার্থ এসব শিবিরকে কেবল আশ্রয়কেন্দ্র নয়, জোরপূর্বক যুদ্ধকালীন শ্রমশিবির হিসেবেও বিশ্লেষণ করেছেন।
সরকারি হিসাবেই কৃষ্ণাঙ্গ শিবিরে অন্তত ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়। কিছু গবেষক প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বলে মনে করেন। পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখা হয়নি বলে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা কঠিন। এই অনথিভুক্তিই ঔপনিবেশিক বৈষম্যের আরেকটি প্রমাণ: একই যুদ্ধে প্রাণ হারালেও সবার মৃত্যু সমান গুরুত্বে গণনা করা হয়নি।
বোয়ার শিবিরগুলো নিয়ে জনমত তৈরি হওয়ার পর সেখানে কিছু সংস্কার আসে; কৃষ্ণাঙ্গ শিবিরে উন্নতি ছিল অনেক ধীর। ফলে এই ইতিহাসকে শুধু বোয়ার জনগোষ্ঠীর ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়। এটি ছিল বর্ণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে পরিচালিত ঔপনিবেশিক যুদ্ধ, যেখানে বন্দিত্বের অভিজ্ঞতাও সবার জন্য এক ছিল না।
এমিলি হবহাউসের সাক্ষ্য
ব্রিটিশ সমাজকর্মী এমিলি হবহাউস ১৯০১ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি শিবির পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষুধা, রোগ, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা, গাদাগাদি তাঁবু এবং শিশুদের মৃত্যুর বিবরণ সংগ্রহ করেন। দেশে ফিরে তাঁর ৪০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ব্রিটিশ জনমত ও পার্লামেন্টে আলোড়ন তোলে। যুদ্ধের সময় নিজ দেশের নীতির সমালোচনা করায় তাঁকে বিশ্বাসঘাতক ও অতিরঞ্জনকারী হিসেবেও আক্রমণ করা হয়েছিল।
কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের গঠিত ছয় সদস্যের নারী কমিশন—মিলিসেন্ট ফসেটের নেতৃত্বে পরিচিত ‘ফসেট কমিশন’—পরিদর্শনে গিয়ে হবহাউসের মূল পর্যবেক্ষণই নিশ্চিত করে। কমিশন পানি, স্যানিটেশন, খাদ্য, চিকিৎসা ও শিবির ব্যবস্থাপনায় জরুরি পরিবর্তনের সুপারিশ করে। ১৯০১ সালের শেষভাগে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেসামরিক প্রশাসন শিবিরগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে এবং মৃত্যুহার দ্রুত কমে।
এই পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে আনে। মহামারি ও মৃত্যু অনিবার্য ছিল না। পর্যাপ্ত খাবার, পরিচ্ছন্ন পানি, স্বাস্থ্যবিধি, চিকিৎসা এবং জবাবদিহি আগে নিশ্চিত করা হলে বহু জীবন বাঁচানো যেত। তাই শিবিরের মৃত্যু শুধু যুদ্ধকালীন দুর্ভাগ্যের পরিসংখ্যান নয়; তা নীতি, অবহেলা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল।
তবে হবহাউস নিজে কৃষ্ণাঙ্গ শিবির পরিদর্শন করেননি, আর ফসেট কমিশনও সেগুলোর দুর্দশাকে সমান গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর মানবিক ভূমিকা স্মরণ করার পাশাপাশি এই সীমাবদ্ধতাও ইতিহাসের অংশ। দৃশ্যমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠলেও বর্ণভিত্তিক সমাজে কার কষ্ট জনপরিসরে জায়গা পাবে, সেটিও ক্ষমতার প্রশ্ন।
১. শিবিরের সারি

২. বোয়ার নারী ও শিশু

৩. অসুস্থ শিশু

৪. পোড়ামাটি অভিযান

৫. কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান শিবির

ছবিগুলো কী বলে—আর কী বলে না
শিবিরের আর্কাইভ ছবি ইতিহাসকে মুখ দেয়: খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু, তাঁবুর সামনে ক্লান্ত নারী, অস্থায়ী হাসপাতালের বিছানা, অথবা পুড়ে যাওয়া বসতভিটার পাশে নির্বাক পরিবার। এগুলো সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষার আড়ালে থাকা মানবিক বিপর্যয়কে দৃশ্যমান করে।
কিন্তু ছবিও নিরপেক্ষ নয়। কে ক্যামেরা ধরেছে, কাকে ফ্রেমে রেখেছে, কোন ছবি সংরক্ষিত হয়েছে এবং কার নাম ক্যাপশনে লেখা হয়েছে—এসবই স্মৃতি নির্মাণের অংশ। বোয়ার বন্দিদের বহু ছবি টিকে থাকলেও কৃষ্ণাঙ্গ শিবিরের মানুষের ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয় তুলনামূলকভাবে কম সংরক্ষিত। ফলে আজকের পাঠকের কাজ শুধু ছবির দিকে তাকানো নয়; ফ্রেমের বাইরে কাদের অনুপস্থিত রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্নও করা।
১৯০২ সালের ৩১ মে ভেরেনিগিং চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়। বোয়ার প্রজাতন্ত্রগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু শিবিরে হারানো জীবন ফিরে আসেনি। এই স্মৃতি পরবর্তী আফ্রিকানার জাতীয়তাবাদে শক্তিশালী রাজনৈতিক উপাদানে পরিণত হয়; একই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের ক্ষয়ক্ষতি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকে। পরে যে রাষ্ট্রে বর্ণবাদী আপার্টহেইড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে বোয়ার ভুক্তভোগিতার স্মৃতি এবং কৃষ্ণাঙ্গদের প্রান্তিকীকরণ পাশাপাশি চলেছে—এও ইতিহাসের গভীর বৈপরীত্য।
বোয়ার যুদ্ধের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পকে নাৎসি নির্মূলশিবিরের সঙ্গে এক করে দেখা ঐতিহাসিকভাবে ভুল। উদ্দেশ্য, কাঠামো ও হত্যার পদ্ধতি এক ছিল না। কিন্তু সে পার্থক্য ব্রিটিশ শিবিরের দায় কমায় না। এই ঘটনা দেখায়, ‘সামরিক প্রয়োজন’, ‘নিরাপত্তা’ বা ‘আশ্রয়’—এমন শব্দের আড়ালে একটি রাষ্ট্র কীভাবে গোটা বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের বস্তুতে পরিণত করতে পারে।
সারি সারি তাঁবুর ছবিগুলো তাই কেবল এক শতাব্দী আগের শোকচিহ্ন নয়। এগুলো মনে করিয়ে দেয়—যুদ্ধের ভাষা যখন মানুষকে সংখ্যা, সন্দেহভাজন বা কৌশলগত বোঝায় নামিয়ে আনে, তখন বন্দিশিবিরের কাঁটাতার বসানোর আগেই মানবিক বিপর্যয়ের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়।
আপনার মতামত জানানঃ