মানবজাতির ইতিহাসকে আমরা যতটা সরলরেখার মতো ভাবি, বাস্তবে তা সম্ভবত তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, বিস্ময়কর এবং রহস্যময়। আধুনিক মানুষ অর্থাৎ হোমো সেপিয়েন্স কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পথে কোন কোন মানবগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংযোগ ঘটেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ করে আসছেন। নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভানদের সঙ্গে আধুনিক মানুষের সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যও পেয়েছেন। কিন্তু মানুষের বিবর্তনের সেই গল্পে আরও কিছু চরিত্র যে লুকিয়ে থাকতে পারে, তার ইঙ্গিত এবার মিলেছে জীবিত মানুষের শরীরেই—আমাদের ডিএনএর ভেতরে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন দুটি অজানা ও বিলুপ্ত মানবগোষ্ঠীর জিনগত চিহ্ন শনাক্ত করার দাবি করেছেন, যাদের কোনো সরাসরি জীবাশ্ম বা সংরক্ষিত ডিএনএ এখনো পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা এদের ‘ভূতুড়ে পূর্বপুরুষ’ বা ‘ghost ancestors’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। নামটির মধ্যেই যেন রয়েছে আবিষ্কারের রোমাঞ্চ। তারা এখন পৃথিবীতে নেই, তাদের হাড়গোড়ও হয়তো এখনো মানুষের হাতে ধরা পড়েনি; কিন্তু তাদের অস্তিত্বের ক্ষীণ ছাপ রয়ে গেছে আধুনিক মানুষের জিনোমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষকদের এই কাজটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো, এখানে প্রচলিত অর্থে কোনো প্রাচীন জীবাশ্মকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। বরং বর্তমান পৃথিবীর মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অতীতে ঘটে যাওয়া এমন সংমিশ্রণের চিহ্ন খোঁজা হয়েছে, যা কোনো হারিয়ে যাওয়া মানবগোষ্ঠীর অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানব বিবর্তনের গবেষণায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এতদিন কোনো বিলুপ্ত মানবপ্রজাতি সম্পর্কে জানতে হলে তার জীবাশ্ম পাওয়া ছিল প্রায় অপরিহার্য। হাড়ের গঠন, দাঁত, মাথার খুলির আকৃতি কিংবা প্রাচীন ডিএনএ থেকে বিজ্ঞানীরা কোনো গোষ্ঠীর পরিচয় ও বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা করতেন। কিন্তু সব মানবগোষ্ঠী যে জীবাশ্ম রেখে গেছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো প্রজাতি হয়তো এমন পরিবেশে বসবাস করেছে যেখানে হাড় সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ ছিল কম। আবার বহু প্রাচীন সময়ের জিনগত উপাদান সময়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। ফলে ইতিহাসের বহু মানবগোষ্ঠী হয়তো পৃথিবীতে ছিল, কিন্তু তাদের কোনো সরাসরি চিহ্ন আজ আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
এই জায়গাতেই নতুন কম্পিউটেশনাল পদ্ধতির গুরুত্ব সামনে আসে। গবেষকেরা ‘ট্রেস’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে মানুষের জিনোমের ভেতরের বংশগত সম্পর্ক এবং জিনগত প্রবাহের নিদর্শন বিশ্লেষণ করেছেন। সহজভাবে বললে, আজকের মানুষের ডিএনএকে একটি বিশাল পারিবারিক ইতিহাসের নথি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই নথিতে এমন কিছু জিনগত অংশ রয়েছে, যেগুলো আধুনিক মানুষের সরাসরি পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিক বিবর্তন দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা কঠিন। সেগুলো কোথা থেকে এসেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষকেরা অতীতে হারিয়ে যাওয়া মানবগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অস্তিত্বের দিকে নজর দিয়েছেন।
গবেষণার দাবি অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া প্রথম অজানা মানবগোষ্ঠী প্রায় আট লাখ বছর আগে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের ধারা থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ এটি এমন এক মানবগোষ্ঠী, যার অস্তিত্ব আধুনিক মানুষের আবির্ভাবের বহু আগে। ধারণা করা হচ্ছে, আফ্রিকায় আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর কোনো এক পর্যায়ে জিনগত সংমিশ্রণ ঘটেছিল। এরপর সেই জিনগত উপাদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের বংশধারায় টিকে যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী এই অজানা গোষ্ঠীর জিনগত উপাদান বর্তমান পৃথিবীর মানুষের জিনোমে প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ থেকে এক শতাংশ পর্যন্ত থাকতে পারে। শতাংশের হিসাবে সংখ্যাটি খুব বড় মনে না হলেও বিবর্তনের সময়ের পরিসর বিবেচনা করলে এর তাৎপর্য বিশাল। কারণ কয়েক হাজার বছর নয়, এখানে আলোচনা হচ্ছে কয়েক লাখ বছর আগের একটি মানবগোষ্ঠীর জিনগত উত্তরাধিকার নিয়ে। সেই গোষ্ঠীর সদস্যরা হয়তো পৃথিবী থেকে বহু আগেই বিলীন হয়ে গেছে, কিন্তু তাদের জিনের ক্ষুদ্র অংশ এখনো মানুষের শরীরে বহন করা হচ্ছে।
এখানে নিয়ানডারথালদের সঙ্গে একটি তুলনা করা যায়। আধুনিক মানুষের সঙ্গে নিয়ানডারথালদের জিনগত সম্পর্কের প্রমাণ বহু বছর ধরেই বিজ্ঞানীদের জানা। আফ্রিকার বাইরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে নিয়ানডারথাল উৎসের কিছু জিনগত উপাদান পাওয়া যায়। ডেনিসোভানদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জিনগত উত্তরাধিকারের প্রমাণ রয়েছে, বিশেষ করে ওশেনিয়া ও এশিয়ার কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে। কিন্তু নতুন গবেষণার বিষয়টি আলাদা, কারণ এখানে এমন একটি মানবগোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে যার অস্তিত্বের সরাসরি জীবাশ্ম প্রমাণ এখনো বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।
আরও পুরোনো একটি মানবগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অস্তিত্বের কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে। দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি প্রায় ১৮ লাখ বছর আগে বিদ্যমান কোনো মানবধারার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকেরা একে ‘সুপার-আর্কেইক’ বা অতিপ্রাচীন মানবগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ডেনিসোভানদের জিনগত যোগাযোগ হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই জিনগত উপাদানের ক্ষুদ্র একটি অংশ আধুনিক মানুষের মধ্যে পৌঁছে থাকতে পারে। বিশেষ করে ওশেনিয়া অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এই ধরনের জিনগত প্রবাহের চিহ্ন থাকার কথা গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে।
এই সম্ভাব্য মানবগোষ্ঠীকে হোমো ইরেক্টাসের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হলেও বিষয়টি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো প্রাচীন মানবগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির সঙ্গে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করার জন্য সাধারণত জীবাশ্ম ও জিনগত প্রমাণসহ একাধিক স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন হয়। তাই এই গবেষণার ফলাফলকে মানব বিবর্তনের চূড়ান্ত ইতিহাস হিসেবে দেখার পরিবর্তে একটি নতুন বৈজ্ঞানিক জানালা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
এই আবিষ্কার আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়—বিবর্তন কোনো সরল সিঁড়ি নয়। আমরা প্রায়ই ভাবি, একটি প্রজাতি থেকে আরেকটি প্রজাতি ধারাবাহিকভাবে এসেছে এবং পুরোনোটি বিলুপ্ত হয়ে নতুনটি তার জায়গা নিয়েছে। বাস্তবে মানব বিবর্তন ছিল অনেক বেশি শাখা-প্রশাখাময়। একই সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক মানবগোষ্ঠী বসবাস করেছে। তারা পরস্পর থেকে আলাদা হয়েছে, আবার কোনো কোনো সময়ে একে অন্যের সঙ্গে মিলিতও হয়েছে। ফলে আধুনিক মানুষের জিনোম এক অর্থে সেই বহু প্রাচীন সাক্ষাৎ, বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের একটি জৈবিক দলিল।
মানুষের ডিএনএ তাই শুধু বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিনের সমষ্টি নয়; এর মধ্যে বহু প্রাচীন ইতিহাসও জমা রয়েছে। কোনো কোনো জিন হয়তো এমন এক পূর্বপুরুষের কাছ থেকে এসেছে, যার নাম আমরা জানি না। কোনো কোনো জিনগত বৈশিষ্ট্য এমন একটি জনগোষ্ঠীর উত্তরাধিকার হতে পারে, যার কোনো লিখিত ইতিহাস তো দূরের কথা, জীবাশ্মও এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। আধুনিক জিনোমিক প্রযুক্তি সেই অদৃশ্য ইতিহাসের দরজা খুলে দিতে শুরু করেছে।
এখানেই ‘ভূতুড়ে পূর্বপুরুষ’ ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে আকর্ষণীয়। এটি কোনো কল্পকাহিনির ভূত নয়। বরং এমন একটি জনসংখ্যা বা মানবগোষ্ঠীকে বোঝায়, যার অস্তিত্বের সরাসরি নমুনা নেই, কিন্তু তার জিনগত ছাপ পরবর্তী কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত করা যায়। অনেকটা পুরোনো কোনো চিঠির ভেতরে এমন একটি বাক্য খুঁজে পাওয়ার মতো, যার লেখক সম্পর্কে আর কোনো তথ্য নেই। বাক্যটি প্রমাণ করে যে কোনো একসময় সেই মানুষটি ছিলেন। একইভাবে আধুনিক মানুষের জিনোমের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞানীদের ইঙ্গিত দিতে পারে যে বহু আগে এমন একটি মানবগোষ্ঠী ছিল, যার সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষদের যোগাযোগ ঘটেছিল।
তবে এ ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি। কম্পিউটার মডেল ও জিনোমিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এগুলো সবসময় সরাসরি প্রমাণের বিকল্প নয়। নতুন কোনো মানবগোষ্ঠীর অস্তিত্বের দাবি আরও শক্তিশালী হবে যদি ভবিষ্যতে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে সেই সময়ের কোনো জীবাশ্ম, সরঞ্জাম বা অন্যান্য নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। একইভাবে নতুন জনগোষ্ঠীর ডিএনএ পাওয়া গেলে জিনগত বিশ্লেষণের ফল আরও দৃঢ়ভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
তারপরও এই গবেষণার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো, এটি বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। এখন হয়তো কোনো মানবগোষ্ঠীর জীবাশ্ম না পেলেও তার অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জিনোমে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনগত সংকেত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে আরও হারিয়ে যাওয়া মানবগোষ্ঠীর সন্ধান পেতে পারেন।
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হলো—আমরা আসলে কতগুলো মানবগোষ্ঠীর উত্তরাধিকার বহন করছি? নিয়ানডারথাল, ডেনিসোভান কিংবা বর্তমানে পরিচিত অন্যান্য প্রাচীন মানবধারার বাইরে আরও কত অজানা জনগোষ্ঠী আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল? তাদের কতজন বিলুপ্ত হয়ে গেছে? আর তাদের কতটুকু জিনগত স্মৃতি আজও আমাদের শরীরে বেঁচে আছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আগামী দিনের গবেষণা আরও পরিষ্কার করবে। কিন্তু আপাতত একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—মানুষের শরীরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এমন এক ইতিহাস, যার বড় অংশ এখনো আমরা পড়তে শিখিনি। কোনো প্রাচীন গুহার দেয়ালে নয়, কোনো রাজদরবারের পাণ্ডুলিপিতেও নয়; আমাদের প্রতিটি কোষের ডিএনএর ভেতরেই হয়তো লেখা আছে হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প।
আর সেই গল্পের কিছু চরিত্র এতটাই পুরোনো যে তাদের নামও আমরা জানি না। তাদের মুখ কেমন ছিল, কোথায় তারা বসবাস করত, কীভাবে জীবনযাপন করত—এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনোদিনই পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাদের অস্তিত্বের ক্ষীণ জিনগত ছাপ যদি সত্যিই আমাদের শরীরে থেকে থাকে, তাহলে তারা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। লক্ষ লক্ষ বছর পেরিয়ে আজকের মানুষের শরীরের ভেতর দিয়ে তারা কোনো না কোনোভাবে এখনও পৃথিবীর ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
মানব বিবর্তনের এই নতুন অধ্যায় তাই শুধু নতুন দুটি অজানা প্রজাতির সম্ভাব্য সন্ধানের গল্প নয়। এটি বিজ্ঞান কীভাবে অতীতকে পুনর্গঠন করছে, তারও একটি অসাধারণ উদাহরণ। যে মানুষদের কোনো জীবাশ্ম নেই, কোনো নাম নেই, কোনো লিখিত ইতিহাস নেই—তাদের অস্তিত্বের গল্প হয়তো একদিন আমাদের নিজেদের ডিএনএ থেকেই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর তখন হয়তো আমরা বুঝতে পারব, আধুনিক মানুষ আসলে কোনো একক ও সরল বংশধারার ফল নয়; বরং অসংখ্য প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর মিলন, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের দীর্ঘ ইতিহাসের জীবন্ত ফলাফল।
আপনার মতামত জানানঃ