ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সেরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। বৈঠকে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন ড. ইউনূস। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি উত্থাপনের সমায় নেতিবাচক ছিলেন না মোদি; যা দেখে আশাবাদী প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার বিশ্বাস, হাসিনাকে ঢাকার কাছে প্রত্যর্পণ করবে ভারত।
ব্যাংককে ইউনূস-মোদির বৈঠকের বিষয় নিয়ে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বা বাংলাদেশ অন্যান্য যেসব বিষয় তুলে ধরেছে সেসব বিষয়ে ভারত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শুরুতে ভারতের ধারণা ছিল এটা একটা ‘স্টপওভার’ আর তার মেয়াদ বড়জোর ছয়-সাত ঘণ্টা। সেই ভুল ভাঙতে অবশ্য দিল্লির সময় লাগেনি। প্রায় ৮ মাস হতে চললেও শেখ হাসিনাকে এখনও পাঠানো সম্ভব হয়নি তৃতীয় কোনো দেশে– এবং রাষ্ট্রের অতিথি হিসেবে তিনি আজও ভারতেই অবস্থান করছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো। এর আগে গতকাল বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশ কিছু সময় ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।
পাঠকদের জন্য প্রেস সচিবের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি তার কাজের প্রশংসা করেন। বৈঠকে তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল, শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকাকালীন, ‘আমরা আপনার প্রতি তার অসম্মানজনক আচরণ দেখেছি। কিন্তু আমরা আপনাকে সম্মান জানিয়েছি।’
আর যখন অধ্যাপক ইউনূস শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেন, তখন প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক ছিল না। আমরা নিশ্চিত যে হাসিনাকে একদিন ঢাকায় প্রত্যর্পণ করা হবে এবং আমরা শতাব্দীর বিচার দেখব!
এছাড়াও এটা বেশ স্পষ্ট ছিল যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে চায়। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসকে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন যে ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, কোনও একক দল বা ব্যক্তির সাথে নয়!
যেমন অধ্যাপক ইউনূস সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বেশ কয়েকবার বলেছেন, আমরা ভারতের সঙ্গে ‘সর্বোত্তম সম্পর্ক’ চাই। তবে তা ন্যায্যতা, সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে হতে হবে!
আপনার মতামত জানানঃ