Trial Run

আফগানিস্তানে বোমা হামলায় ১১ জন নিহত, কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীই দায় স্বীকার করেনি

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে রাস্তায় পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনটি শিশুসহ একটি গাড়ির অন্তত ১১ আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রদেশটির গভর্নর হুসাম উদ্দিন শামস বিবিসিকে বলেন, এই হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহত যাত্রীরা কালা-ই-নাউ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ল্যান্ড মাইনটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তারা নিহত হন।

তালেবানসহ কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীই এ হামলায় দায় স্বীকার করেনি বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এ ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর কাতারে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া, কূটনীতিকদের ও আফগানিস্তানে কর্মরত মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠকে তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের উপপ্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানেকজাই ‘আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি জোরালো প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি’ করেছেন বলে গোষ্ঠীটির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত তালেবান প্রতিনিধি দল আফগানিস্তানভিত্তিক জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্থাগুলোর কর্মীদের ও অন্যান্য কূটনীতিকদের নিরাপত্তার আশ্বাসও দিয়েছে।

কাতারে তারা এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশে সরকারি বাহিনীগুলো ও বেসামরিকদের বিরুদ্ধে অবিরত হামলার জন্য তালেবানকে অভিযুক্ত করেছেন আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা। বেশ কয়েকটি প্রদেশের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এসব হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা, যানবাহনের নিচে পেতে রাখা ছোট চুম্বুক বোমা ও অন্যান্য হামলাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সদস্য ও সাংবাদিকদের লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে। সাধারণত দেশটির সরকার এসব হামলার জন্য তালেবানকে দায়ী করে, কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এসব হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও চারটি জেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান। আফগান বাহিনীর কাছ থেকে এসব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় গোষ্ঠীটি।

আরব নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ জাবুলের শিংকাই, গজনীর দেহ ইয়াক এবং পার্শ্ববর্তী দাইকুন্দি প্রদেশের গিজাব জেলারও নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান যোদ্ধারা। এরপর পূর্ব নূরস্তানের দো আব জেলাটিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয় তারা।

নূরস্তান প্রদেশের আইনপ্রণেতা ইসমাইল আইকান বলেন, দো আব জেলায় গত এক মাস ধরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে অবরোধ করে রেখেছিল তালেবান। সেখানে ৩০০’র বেশি সেনা তালেবানদের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়েছে এবং চুক্তির অংশ হিসেবে অঞ্চলটি থেকে সরে আসে।

তিনি আরও জানান, তালেবানরা এখন নওরাগম অঞ্চলের দিকে এগিয়ে চলছে। যেটি নূরস্থানকে পাঞ্জশির প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কৌশলগত জেলা। এটিকে দীর্ঘদিন ধরে একটি অদম্য এবং শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তালেবান সৈন্যরাও এটি দখল করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণা আসার পর থেকে আফগানিস্তানজুড়ে সহিংসতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এপ্রিলে জাতিসংঘ জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনী ও তালেবান বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে প্রায় এক হাজার ৮০০ বেসামরিক নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চললেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/২১০৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ