বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীতের জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিতর্কের বিষয়। দলটির সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ৩৩ বছর জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই আইনজীবী ও রাজনীতিক তাঁর বইয়ে দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং নেতৃত্বের নীতিগত অবস্থান নিয়ে খোলামেলা বিবরণ দিয়েছেন।
বইটি শুধু জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দলিল নয়; বরং বাংলাদেশের অন্যতম সংগঠিত ও গোপনীয় রাজনৈতিক দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের চিন্তাভাবনা এবং অতীতের বিতর্ক মোকাবিলার নানা প্রচেষ্টার একটি বিবরণ। রাজ্জাকের মূল্যায়নে, জামায়াতের নেতৃত্ব বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি নীতিগত ভুল ও গুরুতর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এসব ভুলের মধ্যে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ১৯৬৬ সালের ছয় দফার বিরোধিতা, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রতি সমর্থন এবং স্বাধীনতার পর ওই ভূমিকার জন্য দলীয়ভাবে ক্ষমা না চাওয়াকে।
রাজ্জাকের মতে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল। ছয় দফা আন্দোলন যখন বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সামনে নিয়ে আসে, তখন জামায়াত সেই দাবির বিরোধিতা করে। তাঁর ভাষায়, ছয় দফার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পর জামায়াত বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো নতুন সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেন। রাজ্জাকের স্মৃতিকথা অনুযায়ী, সে সময় জামায়াতের অবস্থান প্রথম দিকে জনগণের পক্ষে ছিল। তৎকালীন দলীয় নেতা গোলাম আযম একটি নিবন্ধে সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর দলটির অবস্থানে পরিবর্তন আসে। রাজ্জাক লিখেছেন, জামায়াত সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে। তাঁর মতে, এই অবস্থান দলটির আগের একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শুরা আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কিংবা সেনাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করলে জামায়াত কোনো পক্ষকেই সমর্থন করবে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রতি জামায়াতের সমর্থনের সমালোচনায় রাজ্জাক ছিলেন কঠোর। তিনি স্বীকার করেছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছিল। তাঁর মতে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী থেকে নিজেদের আলাদা করতে জামায়াতের ব্যর্থতা ছিল অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী। তিনি আরও লিখেছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, তার কোনোভাবেই সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই বিষয়টি বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।
এই অবস্থান থেকেই রাজ্জাকের কাছে জামায়াতের তৃতীয় বড় ভুলটি সামনে আসে। স্বাধীনতার পর দলটি নিজেদের ১৯৭১ সালের ভূমিকার মুখোমুখি হয়নি এবং এ বিষয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর স্মৃতিকথায় নেতৃত্বকে এ বিষয়ে রাজি করানোর নানা প্রচেষ্টার বিবরণ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জামায়াত কেন এই বিষয়টির মোকাবিলা করেনি এবং ১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে কোনো বিস্তারিত ও যুক্তিনির্ভর বিবৃতি দেয়নি।
১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বহাল রাখার পর ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় আসে। একটি কমিটি গোলাম আযমের জন্য বক্তব্য তৈরিতে তাঁকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, অতীতে কোনো ভুল করে থাকলে তাঁকে ক্ষমা করতে। রাজ্জাকের মূল্যায়নে, এই বক্তব্য প্রকৃত ক্ষমা প্রার্থনা হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো ছিল না। গুরুতর একটি বিষয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি ছিল দায়সারা প্রচেষ্টা।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের সাফল্যের পরও রাজ্জাক বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন। সে সময় একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করা হয়েছিল। এতে একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে জামায়াতের সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি ১৯৭১ সালে দলটির রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রস্তাব ছিল।
জামায়াতের তিন নেতা—আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা—এই প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন রাজ্জাক। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাঁদের তিনজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তবে তত দিনে জামায়াতের নেতা হয়ে যাওয়া মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। ফলে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এর চার বছর পর, ২০০৫ সালের অক্টোবরে জামায়াতের ওয়ার্কিং কমিটিতে আবারও বিষয়টি ওঠে। এবারও প্রস্তাবটি ভোটে নাকচ হয়ে যায়। রাজ্জাক বিরোধীদের দেওয়া তিনটি প্রধান যুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে জামায়াতের অবস্থানে কোনো ভুল ছিল না। দ্বিতীয়ত, ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা যৌক্তিক ছিল। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা জামায়াতের কোনো ক্ষমা প্রার্থনাই মেনে নেবে না।
এই যুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, জামায়াতের অভ্যন্তরে ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে শুধু নৈতিক বা ঐতিহাসিক প্রশ্নই ছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত ছিল দলীয় আদর্শ, পাকিস্তানের অখণ্ডতা, ভারতের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও। রাজ্জাকের স্মৃতিকথা সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের একটি বিবরণ তুলে ধরে।
তবে রাজ্জাক নিজেও তাঁর মূল্যায়নে একটি সীমাবদ্ধতা রেখেছেন। ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য দলীয় ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করলেও, তাঁর প্রস্তাবিত ক্ষমা প্রার্থনা কতটা বিস্তৃত হতো, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ, জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর দায় স্বীকারের বিষয়টি তাঁর স্মৃতিকথায় স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি।
প্রকৃতপক্ষে, পুরো বইয়ে রাজ্জাক কোথাও স্বীকার করেননি যে ১৯৭১ সালে জামায়াত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এর সঙ্গে তাঁর নিজের ভূমিকারও সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলের কয়েকজন নেতার পক্ষে তিনি আইনজীবী ছিলেন।
রাজ্জাক মনে করতেন, তিনি যদি জামায়াতের নেতৃত্বকে ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি করাতে সফল হতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ হয়তো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলা শুরু করত না। সে ক্ষেত্রে ২০১০ সালের তৎকালীন জামায়াত নেতৃত্বের মৃত্যুদণ্ডও হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো। এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন, যার সত্যতা নিয়ে আলাদা বিতর্ক থাকতে পারে।
২০১৯ সালে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন আবদুর রাজ্জাক। দলের ১৯৭১ সালের বিষয়টি মোকাবিলা করতে ব্যর্থতা ছিল তাঁর পদত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে শুধু অতীতের ভূমিকা নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও দলের সংস্কারে ব্যর্থতা তাঁকে হতাশ করেছিল। বিশেষ করে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত না করার বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।
জামায়াত ছাড়ার পর রাজ্জাক আমার বাংলাদেশ পার্টি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন। তাঁর আশা ছিল, দলটি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দেবে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলটির প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। তাঁর মতে, দলের কর্মসূচিতে ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতিকে যথেষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
রাজ্জাকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত এই বই এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা চলছে। লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের পথ তৈরি হয়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটির সাফল্যের কথাও সেখানে বলা হয়েছে। তবে এসব নির্বাচনী তথ্য ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আলাদা যাচাই প্রয়োজন।
রাজ্জাকের স্মৃতিকথার মূল প্রশ্নটি হলো, একটি রাজনৈতিক দল তার অতীতের ভুল ও বিতর্কের সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করবে। রাজনৈতিক সাফল্য কি ইতিহাসের দায়কে মুছে দিতে পারে? কোনো দল ক্ষমা না চেয়েও কি তার অতীতের রাজনৈতিক অভিঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে? নাকি ঐতিহাসিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দায় স্বীকারের প্রয়োজন থেকেই যায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহজ নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়, জাতীয় স্মৃতি এবং রাজনৈতিক বৈধতার অন্যতম ভিত্তি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শুধু দলীয় ইতিহাসের বিষয় হয়ে থাকে না, বরং জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথা সেই বিতর্কের ভেতরের একটি দিক সামনে এনেছে। তিনি জামায়াতের দীর্ঘদিনের নেতা ছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দল থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বইয়ের মূল্য এখানেই যে, এটি জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক, ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের দ্বিধা নিয়ে একটি প্রত্যক্ষ বিবরণ দেয়।
তবে বইটি কোনো চূড়ান্ত ঐতিহাসিক রায় নয়। রাজ্জাকের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব স্মৃতি, মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা। জামায়াতের অন্য নেতাদের অবস্থান, দলীয় নথি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারসংক্রান্ত দলিলের সঙ্গে মিলিয়ে এসব বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
রাজ্জাক ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে মারা যান। ফলে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জামায়াতের নির্বাচনী সাফল্য তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু তাঁর স্মৃতিকথা প্রকাশের মাধ্যমে একটি প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে—রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জামায়াত যতই পরিবর্তিত হোক, ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে দলটির অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। তবে আবদুর রাজ্জাকের বইটি দেখায়, দলটির ভেতরে এ নিয়ে আলোচনা একেবারে অনুপস্থিত ছিল না। বরং বহু বছর ধরে ক্ষমা চাওয়া, অতীতের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নে মতভেদ চলেছে। সেই মতভেদই তাঁর স্মৃতিকথাকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে সামনে এনেছে।
ডেভিড বার্গম্যানের মূল কলাম অবলম্বনে ফিচার।
আপনার মতামত জানানঃ