একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাঁর একটি বক্তব্যে রাষ্ট্রের নীতি বদলে যেতে পারে, তাঁর সিদ্ধান্তে যুদ্ধ ও শান্তির পথ নির্ধারিত হতে পারে। অথচ সেই নেতাকেই ছয় মাস ধরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। নেই কোনো সাম্প্রতিক ছবি, নেই ভিডিও, নেই অডিও বার্তা। এমনকি নিজের বাবার শেষ বিদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তিনি কোথায়?
ইরানে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে দেশটি ভয়াবহ সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, তেল রপ্তানিতে বাধা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত বিষয় হয়ে থাকছে না; এটি ধীরে ধীরে ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্র নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।
ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং দেশ পরিচালনায় সক্রিয়। নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। যুদ্ধের শুরুতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্যেও রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি নিয়মিত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের বড় বড় সিদ্ধান্তে তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদন রয়েছে।
কিন্তু সমস্যা হলো—এই দাবির পক্ষে সাধারণ মানুষের সামনে দৃশ্যমান প্রমাণ খুবই সীমিত।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। ইরানিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা এসেছে মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে, যা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উপস্থাপকেরা পড়ে শুনিয়েছেন। এমনকি তাঁর বাবা, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানেও তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
এখানেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
একজন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে শুধু লিখিত বিবৃতি কেন? কেন তাঁর একটি সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না? কেন তাঁকে অন্তত কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যাচ্ছে না? কেন তিনি দেশের মানুষের উদ্দেশে সরাসরি কথা বলছেন না?
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এসব প্রশ্নের গুরুত্ব অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। কারণ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা শুধু একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন; তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান এমন যে তাঁর কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিস্তৃত।
এই কারণেই মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নটি শুধু ‘তিনি অসুস্থ কি না’—এখানে আটকে নেই। প্রশ্নটি আরও বড়—ইরান কি একজন দৃশ্যমান ও কার্যকর সর্বোচ্চ নেতার অধীনে চলছে?
ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতানকার মতে, প্রশ্নটি এখন শুধু মোজতবা জীবিত কি না তা নয়; বরং ইরানে আদৌ কার্যকর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, মোজতবা আড়ালে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাঁকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। যুদ্ধের শুরুতে তাঁর ওপর হামলা হয়েছিল এবং তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন—এমন তথ্যও এর আগে বিভিন্ন সূত্রে এসেছে। তাঁর মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাতের কথাও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অর্থাৎ তাঁর প্রকাশ্যে না আসার পেছনে নিরাপত্তা ও চিকিৎসাজনিত বাস্তব কারণ থাকতে পারে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকা একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতার জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
কারণ নেতৃত্ব শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়; নেতৃত্বের একটি দৃশ্যমান প্রতীকী দিকও রয়েছে। যুদ্ধের সময় মানুষ তাদের নেতাকে দেখতে চায়। সমর্থকেরা তাঁর কণ্ঠ শুনতে চায়। সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মীরা তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস পেতে চায়। সাধারণ নাগরিক জানতে চায়, সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসলে কী ঘটছে।
এই জায়গাতেই মোজতবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ইরানের ভেতরে সংশয় তৈরি করছে।
বিশেষ করে কট্টর সমর্থকদের মধ্যেও এখন প্রশ্ন উঠছে। তাদের একটি অংশ মনে করছে, অন্তত এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত, যাতে বোঝা যায় সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন এবং দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কারণ তাঁর কণ্ঠ বা সাম্প্রতিক ছবি না থাকায় সমর্থকদের মধ্যেও মনোবল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে সংস্কারপন্থী ও সরকারবিরোধীরা আরও সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন। তাদের যুক্তি—যদি সর্বোচ্চ নেতা সত্যিই সক্রিয় থাকেন, তাহলে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না কেন?
এই দুই ধরনের প্রশ্নের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে ইরানের বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো।
মোজতবা প্রকাশ্যে না থাকলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো থেমে নেই। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা রাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে আইআরজিসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইআরজিসি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কৌশল পর্যন্ত বড় ধরনের প্রভাব রাখে।
যুদ্ধের ছয় মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো যে পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বরং শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও চাপের মধ্যেও দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে।
এখানে মোজতবার অনুপস্থিতি একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
একদিকে সরকার বলছে, সর্বোচ্চ নেতা আছেন এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অন্যদিকে জনসাধারণ তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না। ফলে বাস্তবে কে কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন, কোন সিদ্ধান্ত কোথা থেকে আসছে এবং বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর বাইরে থেকে স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
কারণ একজন সর্বোচ্চ নেতা যদি নিয়মিত প্রকাশ্যে না আসেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা, যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যেসব কর্মকর্তা প্রতিদিন সামনে থাকেন, তাদের রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে যখন তাকে একই সঙ্গে সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামলাতে হচ্ছে। তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি সংকট অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। মুদ্রার মূল্য কমেছে। মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়; এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতারও অংশ।
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে তাই দুটি বিপরীত ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
প্রথম ব্যাখ্যা হলো—তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন, এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিনি আড়াল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তাঁর অনুমোদনেই হচ্ছে।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো—তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি আগের মতো কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। ফলে ইরানের ক্ষমতার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাস্তবে আরও বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করছে।
তবে এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যার পক্ষে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
আর এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গুজব আর তথ্যকে আলাদা করা।
মোজতবা খামেনি নিহত হয়েছেন, কোমায় আছেন বা রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম—এমন নানা দাবি ও গুজব ঘুরে বেড়ালেও এগুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। একইভাবে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজে নিচ্ছেন—এ দাবিরও সাধারণ মানুষের সামনে দৃশ্যমান প্রমাণ খুব সীমিত।
অর্থাৎ বাস্তবতা এখনো অনেকটাই ধোঁয়াশার মধ্যে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো অবশ্য এই ধোঁয়াশার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করছেন, সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও দাবি করেছেন যে তিনি মোজতবার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। ইরানের সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়।
কিন্তু এই দাবির পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা রয়ে গেছে—ছয় মাস ধরে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
এটি শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত দেশটির সামরিক কৌশল, পারমাণবিক নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রশ্নকে প্রভাবিত করতে পারে।
একজন দৃশ্যমান সর্বোচ্চ নেতা থাকলে তাঁর অবস্থান ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু নেতা যদি সম্পূর্ণ আড়ালে থাকেন, তখন তাঁর নামে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এতে কূটনৈতিক হিসাবও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে তখন শুধু ইরানের সরকারি বক্তব্য নয়, ক্ষমতার ভেতরের বাস্তব কাঠামোও বিশ্লেষণ করতে হয়। কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? আইআরজিসির প্রভাব কতটা? প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা কতটা? সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করছে? আর মোজতবার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের সম্পর্ক কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আগামী দিনে ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সম্ভবত আরও সরল—একটি দেশের সর্বোচ্চ নেতা যদি ছয় মাস ধরে জনগণের সামনে না আসেন, তাহলে সেই অনুপস্থিতি কতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সামলানো সম্ভব?
যদি তিনি সত্যিই গুরুতর অসুস্থ হন, তাহলে তাঁর ক্ষমতার কাঠামো কীভাবে কাজ করবে? যদি তিনি নিরাপত্তার কারণে আড়ালে থাকেন, তাহলে কতদিন এমনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব? আর যদি তাঁর অনুপস্থিতি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে ইরানের ক্ষমতার ভেতরে নতুন কোনো ভারসাম্য তৈরি হবে কি না—সেটিও এখন ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন।
এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় কোনো সংকট তৈরি করেছে। ইরানের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যকর এবং ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
কিন্তু এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে ছয় মাস ধরে সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে না দেখা একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।
যে দেশে সর্বোচ্চ নেতার কণ্ঠকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, সেখানে সেই কণ্ঠের অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করবে।
মোজতবা খামেনি কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো একদিন স্পষ্ট হবে। হয়তো তিনি নিরাপত্তার কারণে দীর্ঘদিন আড়ালে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। হয়তো শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে আবার প্রকাশ্যে আসবেন। আবার তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে নতুন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিন্তু আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আছেন বলে সরকার দাবি করছে, তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও কর্মকর্তারা বলছেন, অথচ ছয় মাস ধরে সাধারণ মানুষ তাঁকে চোখে দেখেনি, তাঁর কণ্ঠ শোনেনি।
এই দৃশ্যমান অনুপস্থিতিই এখন ইরানের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।
প্রশ্ন তাই শুধু মোজতবা খামেনি কোথায়—তা নয়।
প্রশ্ন হলো, তিনি আড়ালে থেকে সত্যিই কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্র আসলে কোথায়?
আপনার মতামত জানানঃ